A Mesmerizing Journey Through নেপালের মুগ্ধকর ভ্রমণ x bfa x fxyz

নেপাল ভ্রমণ: কাঠমান্ডু, পোখরা ও গাঁদ্রুক ভিলেজের অভিজ্ঞতা

নেপাল ভ্রমণ এক জীবনের সেরা কিছু স্মৃতি সংগ্রহের অভিজ্ঞতা। তাইতো আমি সমসময়ই বলি, ভাই তোমরা সবাই টাকা জমাও, আর আমি না হয় ঘুরে ঘুরে স্মৃতি জমাই

A Mesmerizing Journey Through

NEPAL

নেপালের রূপ, তার পাহাড়, নদী, আর ঐতিহ্যের কাহিনী আমাদের অনেক দিন ধরেই টানছিল। অবশেষে, তিন বন্ধু মিলে পাড়ি জমালাম সেই রহস্যময় দেশটিতে। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটির সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন আমাদের মুগ্ধ করছিল প্রতিটি মুহূর্তে। হিন্দু-বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মিশেলে গড়ে ওঠা নেপাল যেন এক জীবন্ত কাব্য, যেখানে প্রতি বাঁকে লুকিয়ে আছে কোন না কোন গল্প। পাহাড় ঘেরা ছোট ছোট গ্রাম, রঙিন মন্দির, আর অতিথিপরায়ণ মানুষের হাসিমুখ আমাদের নেপাল ভ্রমণ -কে স্মরণীয় করে তুলেছে।

নেপালের দিকে আমাদের এটাই প্রথম ভ্রমণ যা একেবারে স্মরণীয় হয়ে রইলো। এবারে আমাদের তিন বন্ধুর গস্তব্য ছিলো নেপালের কাঠমান্ডু, পোখরা, এবং গাঁদ্রুক গ্রাম, আর প্রতিটি জায়গার অভিজ্ঞতাই ছিল একেবারে নতুন ও অনন্য। ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্যে ছিলো রোমাঞ্চকর, উত্তেজনাপূর্ণ, এবং স্মৃতিময়। এই ভ্রমণ আমাদের জন্য শুধু কিছু জায়গা ঘোরার উপলক্ষ্য নয়, বরং এক জীবনের সেরা কিছু স্মৃতি সংগ্রহের অভিজ্ঞতা।
তাইতো আমি সমসময়ই বলি, ভাই তোমরা সবাই টাকা জমাও, আর আমি না হয় ঘুরে ঘুরে স্মৃতি জমাই।

Our First Day in
Kathmandu
.

কাঠমান্ডুতে আমাদের প্রথম দিন

২৬ অক্টোবর ২০২৪, সকালেই আমরা বাংলাদেশ বিমানে করে ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হই। gozayaan থেকে বিমানের টিকিট আগে কাটা ছিলো, এবং ঠিক সময়ে আমরা বাংলাদেশ বিমান-এ যাত্রা করেছিলাম। আমাদের জন্য এটাই ছিলো প্রথম নেপাল ভ্রমণ। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছে আমরা কোন ঝামেলা ছাড়াই ইমিগ্রেশন শেষ করি। আমরা আগে থেকেই ইমিগ্রেশন ফর্ম ফিলাপ করে গিয়েছিলাম বলে কোন সময়ই নষ্ট হয় নাই আমাদের। ইমিগ্রেশন শেষ করে আমরা একটি ট্যাক্সিতে চেপে থামেল এলাকার হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিই।

Booking.com -এ আগেই হোটেল বুক করা থাকায় হোটেলে চেক-ইন সহজেই সম্পন্ন হলো। কিছুটা রেষ্ট নিয়ে দুপুরের খাবার এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে দেখতে বেরিয়ে পড়ি।

NEPAL নেপাল ভ্রমণ x Rajon x camera x bfa (34)

দুপুরের খাবার শেষ করে থামেল এলাকার বিখ্যাত দরবার স্কোয়ার দেখতে বেরিয়ে যাই। নেপালের দরবার স্কয়ার, মূলত কাঠমান্ডুর অন্যতম ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি মূলত নেপালের প্রাচীন মল্ল রাজাদের আমলের রাজপ্রাসাদের চত্বর হিসেবে পরিচিত। কাঠমান্ডু, পাটান, এবং ভক্তপুর—এই তিনটি স্থানে আলাদা দরবার স্কয়ার রয়েছে, তবে কাঠমান্ডুর দরবার স্কয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। চারদিকে পুরনো ঐতিহ্যময় কাঠের বাড়িগুলো যেনো পুরনো দিনের গল্প শোনাচ্ছে।
দরবার স্কয়ার এর বিস্তারিত রইলো আর্টিকেলের শেষের দিকে।

NEPAL নেপাল ভ্রমণ x fxyz (950)

জায়গাটি সত্যিই অতুলনীয় – দরবার স্কয়ার নেপালের প্রাচীন রাজাদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এই স্কয়ারটি মূলত বিভিন্ন মন্দির, রাজকীয় প্রাসাদ, এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠের খোদাই করা স্থাপত্য দ্বারা সমৃদ্ধ। এখানে কাঠ এবং পাথরের এক অদ্ভুত সমন্বয় দেখতে পাওয়া যায়, যা ঐতিহাসিক নেপালি স্থাপত্যের অসাধারণ নিদর্শন। কাঠের ঘরগুলো দেখার পর মনে হচ্ছিল আমরা যেনো এক ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জাদুঘরে এসে পড়েছি।

NEPAL নেপাল ভ্রমণ x rajon (107)

On the
way to
Pokhara
.

পোখরার পথে: পাহাড় আর হ্রদের শহরে নতুন অভিজ্ঞতা

পরের দিন খুব সকালে আমরা পোখরার উদ্দেশ্যে রওনা হই। কাঠমান্ডু থেকে পোখরায় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে আগেই gozayaan অ্যাপে বাসের টিকিট কেটে রেখেছিলাম, ( টুরিষ্ট সোফা বাসে যেতে চাইলে আগেই টিকিট কেটে রাখা ভালো) কাঠমান্ডু থেকে বাস ছাড়ার কিছু সময় পরই ত্রিশূলী নদীর সাথে যাত্রা শুরু হয়। আমাদের সাথেই যেন নদীর প্রবাহ এগিয়ে যাচ্ছে, যেমনটা আমরা ছোট বেলায় দেখতাম আমরা হাটলে চাঁদও আমাদের সাথে সাথে ঘর পর্যন্ত পৌছে যায়। ত্রিশূলী নদী তেমনটাই আমাদের সাথে সাথে ছোট ছোট গ্রাম, আর পাহাড়ি পথ ধরে আমাদের সাথে পোখরা পর্যন্ত পৌছে গেলো। আর আমরা সোফা বাসে আরাম করেই বিকেলের দিকে পোখরায় পৌঁছে যাই।

পোখরায় আমাদের হোটেল আগে থেকেই বুক করা থাকায় রুমে চেক-ইন করে হোটেলের রুম থেকে মুদ্ধ হয়ে দেখতে থাকি ফেওয়া লেকের সৌন্দর্য। সন্ধ্যা গড়াতে থাকে আর আমাদের মায়াজলে ডাকতে থাকে।

আমরা ফেওয়া লেকে পাশে হাঁটতে বের হয়ে পড়ি।
টুরিস্ট সিজন চলায় অনেক পর্যটকের সমাগম ছিলো সেখানে। আমরা ফেওয়া লেকের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে র‍্যাংগ্লিং নামের একটি রাইড আমাদের মায়াজালে ডাকতে থাকে। আমরা তা উপেক্ষা করতে না পেরে উঠে পরি। ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘোরানো এই রাইডটি সত্যিই ভয়ংকর ছিল, কিন্তু অভিজ্ঞতাটাও ছিল দারুণ!

Rafting in
Pokhara

পোখরায় রাফটিং: চিরস্মরণীয় এক অ্যাডভেঞ্চার

পরের দিন সকালে আমরা পোখরার আশেপাশে কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখি। দুপুরে রাফটিং-এর জন্য প্রস্তুতি নেই – এটি ছিলো আমাদের জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অ্যাডভেঞ্চার। রাফটিং শুরু দিকে আমাদের গাইড এমন থাকে একটার পর একটা ইন্সেট্রাকশন দিচ্ছিলো যে আমি চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম। আমার আদৌ রাফটিং এ যাওয়া ঠিক হবে কিনা! কারন আমার স্পাইন সার্জারি হয়েছে। ৬টা স্ক্র শরীরের ভিতরে। যদি উল্টাপাল্টা কিছু হয়ে যায়! মানসিক সব বাধা উপেক্ষা করে নেমে পড়ি।
১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঝিরিপথে সাদা ফেনায়িত পানির ওপর দিয়ে এই রাফটিংয়ের অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। বরফগলা সাদা পানির ঠান্ডা অনুভূতি আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনে অনির্বচনীয় শান্তি এনে দিয়েছিলো। হিমালয়ের বরফ গলা ঠান্ডা পানিতে বোটের কয়েকটি উল্টে যাওয়ার ঘটনা থাকলেও সেফটি জ্যাকেট থাকার কারণে আমরা নিশ্চিন্তে এই রোমাঞ্চকর রাইড উপভোগ করেছিলাম।

Rafting Pokhara (3)

রাফর্টিং -এ আমাদের সাথে ছিলো বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকরা। যেমন জার্মানি, ইজরাইল. ফ্রান্স, ভারতসহ ইউরোপের আরও অনেক দেশের। তারা বেশ উপভোগ করেছেন। রাফটিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলের সদস্যরা যেমন ছিলো আন্তরিক ও অভিজ্ঞ তেমনি ছিলো ইন্টারেস্টিং। বেশ উপভগ্য এবং অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ ছিলো আমাদের রাফটিং।

Rafting Pokhara (3)

Rafting Adventure Nepal

আমরা যে টিমের সাথে রাফটিং করে ছিলাম তাদের তথ্য:
mobile number: +977 985-6055757
Baidam Road, PokharaKaski, Nepal
raftingadventurenepal@gmail.com

NEPAL নেপাল ভ্রমণ x rajon (129)
Bungee jumping in Kushma

Bungee jumping
in Kushma

কুশমায় বানজি জাম্পিং: ভয় আর উত্তেজনার সংমিশ্রণ

রাফটিংয়ের পরের দিন ভোরেই আমরা কুশমার উদ্দেশ্যে রওনা হই। নেপালের কুশমা হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বানজি জাম্পিংয়ের স্থান, আর এই জায়গাটিতে পৌঁছে আমাদের দুই বন্ধু জাম্পিংয়ের রেজিস্ট্রেশন করে। তাদের মধ্যে একজন সাহস করে সফলভাবে জাম্প করে, তবে হাইট ফোবিয়ার কারণে অন্যজন শেষ পর্যন্ত আর করতে পারেনি। বানজি জাম্পিংয়ের সাথে যারা যুক্ত তারা প্রতেকটা মানুষ খুবই সাপোর্টিভ। প্রতেকের সাথে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে।

আমার ফিজিকাল সমস্যা থাকায় আমার এই রোমাঞ্চে অংশগ্রহণ সুযোগ হয়নি, তবু কাছ থেকে দেখে পুরো বিষয়টি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ লাগছিলো। আমার বন্ধুর বানজি জামপিং এর ভিডিও লিংক দিলাম।

গাঁদ্রুক ভিলেজে: প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া

বানজি জাম্পিং শেষে আমরা সরাসরি গাঁদ্রুক গ্রামের পথে রওনা হই। গাংরুক নেপালের একটি ছোট গ্রাম, যেখানে গুরুঙ সম্প্রদায়ের লোকেরা বাস করে। এই গ্রামটি মূল শহর থেকে অনেক দূরে, পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত, আর এখান থেকে অন্নপূর্ণা ও ফিসটেইল পর্বত খুব কাছ থেকে দেখা যায়। প্রকৃতির কোলে অবস্থিত এই সাজানো-গোছানো গ্রামটি পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। মুগ্ধ করে গোছানো এই গ্রাম এবং এখানকার মানুষের আন্তরিকতা। সেখানে একদিনের পরিকল্পনা থাকলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে আমরা দুই
দিন থেকে গেলাম।

তবে এখানে আসার আগে নেপাল ট্যুরিস্ট কর্পোরেশন থেকে পারমিশন নিয়ে আসতে হয়। সার্ক ভুক্ত টুরিষ্টদের জন্য ১০০০ রুপি ফি দরকার হয় সাথে এক কপি ছবি। যা সহজেই কোনো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে করিয়ে নেওয়া যায়। একটু খরচ বেশি পড়বে। বিস্তারিত আর্টিকেলের শেষের দিকে রইলো।

এখানকার মানুষ খুব আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ, তাই তাদের সাথে সহজেই বন্ধুত্ব করা যায়। তারা পর্যটকদের সাথে নিজেদের সংস্কৃতি শেয়ার করে নিতে পছন্দ করে।গ্রামে খাবারের দাম একটু বেশি হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে সব কষ্টই ভুলে গিয়েছিলাম।

ফিরে আসা এবং
কিছু বিশেষ স্মৃতি
.

দুই দিন গাঁদ্রুক ভিলেজে কাটিয়ে আমরা আবার পোখরা হয়ে কাঠমান্ডুতে ফিরি। আমাদের ভ্রমনের বারতি পাওনা হলো নেপালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে উপলব্ধি করার সুযোগ।

দিওয়ালি বা দীপাবলি উৎসব। আগামি ৫দিন ধরে চলবে এ উৎসব। এদের উৎসব সবাই এতটাই সম্পৃক্ত যে মুগ্ধ হয়ে রইলাম। পথে পথে সবাই নেপালি গানের সাথে সাথে নাচ করছে, কেউ স্থানীয় বাদ্যযস্ত্র নিয়ে রেলি করছে। একদল পুজোতে ব্যাস্ত। কেউবা বাড়ি কিংবা দোকানগুলোতে গিয়ে টাকা তুলছে উৎসবে আরো প্রানবন্ত করতে। এক আনন্দমুখর অবস্থা। এগুলো দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে যায়। ফিরতে হবে আমাদের চিরো-চেনা ধুলোর শহরে।

আমরা ১ নভেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। ফেরার পথে আমি ভুলে কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে আমার ক্যামেরা ব্যাগটি ফেলে আসি। তবে সৌভাগ্যক্রমে ঢাকায় এয়ারপোর্টে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে আবেদন করার পরদিনই ব্যাগটি ফিরে পাই, আর সেটি ফিরে পাওয়ার আনন্দের অনুভূতিটাও এই ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
এই ভ্রমণ আমাদের জন্য শুধু কিছু জায়গা ঘোরার উপলক্ষ্য নয়, বরং এক জীবনের সেরা কিছু স্মৃতি সংগ্রহের অভিজ্ঞতা। নেপালের অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে গেছে।

NEPAL নেপাল ভ্রমণ x rajon (360)

০১

হিমালয় কন্যা

গাঁদ্রুক ভিলেজে কাছে ঘুরতে ঘুরতে এক ঝরনার ধারে তার দেখা পাই। খুবই আন্তরিত। ছবি তোলার কথা বলতেই সাবলীল ভাবে ক্যামেরার সামনে দাড়ায়। এবং এতটাই সখ্যতা হয় যে আমাদের কে নেপালি গানের সাথে নাচ দেখায়। আরও ছবি এবং ভিডিও নিচে লিংকে দেয়া হল।

০২

গাঁদ্রুক ভিলেজের একাংশ

গাঁদ্রুক ভিলেজ থেকে অন্নপূর্ণা দক্ষিণ, হিমচুলি, এবং মাচাপুচ্রে (ফিসটেইল) পর্বত স্পষ্ট দেখা যায়।
 

NEPAL নেপাল ভ্রমণ x rajon (376)
NEPAL নেপাল ভ্রমণ x rajon (376)

০৩

ফেরার পথে ইয়াক এর পাল

ইয়াক (Yak) হিমালয় অঞ্চলের একটি বিশেষ ধরনের গবাদিপশু, যা মূলত নেপাল, তিব্বত, ভারত এবং ভুটানসহ বিভিন্ন উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে পাওয়া যায়। ইয়াক হিমালয় অঞ্চলের প্রতিকূল ঠান্ডা পরিবেশে টিকে থাকতে খুবই উপযোগী এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা


নেপাল ভ্রমনের আরো ছবি

Exploring Kathmandu
Durbar Square:
A Quick Overview
.

কাঠমান্ডুর দরবার স্কয়ার: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নেপালের থামেল এলাকায় অবস্থিত দরবার স্কয়ার, মূলত কাঠমান্ডুর অন্যতম ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি মূলত নেপালের প্রাচীন মল্ল রাজাদের আমলের রাজপ্রাসাদের চত্বর হিসেবে পরিচিত। কাঠমান্ডু, পাটান, এবং ভক্তপুর—এই তিনটি স্থানে আলাদা দরবার স্কয়ার রয়েছে, তবে কাঠমান্ডুর দরবার স্কয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।

দরবার স্কয়ার নেপালের প্রাচীন রাজাদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এই স্কয়ারটি মূলত বিভিন্ন মন্দির, রাজকীয় প্রাসাদ, এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠের খোদাই করা স্থাপত্য দ্বারা সমৃদ্ধ। এখানে কাঠ এবং পাথরের এক অদ্ভুত সমন্বয় দেখতে পাওয়া যায়, যা ঐতিহাসিক নেপালি স্থাপত্যের অসাধারণ নিদর্শন।

দরবার স্কয়ারের মূল আকর্ষণসমূহ

১. হানুমান ধোকা প্রাসাদ: এই প্রাসাদটি মল্ল রাজাদের রাজ্য শাসনের সময় থেকে চলে আসছে। পরবর্তীকালে শাহ রাজাদের শাসনামলেও এটি রাজকীয় আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে একটি ছোট হানুমান মূর্তি স্থাপন করা হয়, যার থেকে এর নামকরণ হয়েছে। হানুমান ধোকা প্রাসাদে রাজা এবং রানির জন্য আলাদা বসবাসের ব্যবস্থা ছিল এবং এটি বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দরবার স্কয়ারের স্থাপত্য

দরবার স্কয়ারের স্থাপত্যে নেপালি পাগোডা স্টাইলের বৈচিত্র্য দেখা যায়। কাঠের খোদাই করা কারুকার্য মন্দির এবং প্রাসাদগুলোতে এক বিশেষ সৌন্দর্য এনে দিয়েছে। এখানে প্রাচীন হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মের মিলিত সাংস্কৃতিক প্রভাব স্পষ্ট। কাঠের কারুকার্যে হিন্দু দেবদেবীর প্রতিকৃতি এবং নানা পৌরাণিক কাহিনির চিত্র ফুটে ওঠে। পাথরের কিছু ভাস্কর্য এবং নকশাও আছে যা প্রাচীন শিল্পকলার নিদর্শন বহন করে।

Gandruk Village
in nepal
.

গাঁদ্রুক ভিলেজ

গাঁদ্রুক (বা গাঙরুক) ভিলেজ নেপালের অন্নপূর্ণা অঞ্চলের একটি মনোরম গ্রাম, যা মূলত গুরুঙ সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। অন্নপূর্ণা পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এই গ্রামটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হিমালয়ের দর্শনীয় দৃশ্য, এবং স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। এটি পোখরা থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং হিমালয়ের বিভিন্ন ট্রেকিং রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হয়। গাঁদ্রুক তার সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, শান্ত পরিবেশ, এবং স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। যারা প্রকৃতির মাঝে শান্তিতে সময় কাটাতে চান এবং প্রকৃতির কাছে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চান, তাদের জন্য গাঁদ্রুক ভিলেজ আদর্শ স্থান। এছাড়া, এখানকার ঐতিহ্যবাহী গুরুঙ ঘরবাড়ি এবং স্থানীয় সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। গাঁদ্রুক ভিলেজের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোই এটিকে নেপালের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

গাঁদ্রুক ভিলেজের বিশেষত্ব

১. অন্নপূর্ণা এবং ফিসটেইল পর্বতের দৃশ্য: গাঁদ্রুক থেকে অন্নপূর্ণা দক্ষিণ, হিমচুলি, এবং মাচাপুচ্রে (ফিসটেইল) পর্বত স্পষ্ট দেখা যায়। সূর্যোদয়ের সময় এই পর্বতগুলোর উপর রোদ পড়লে অসাধারণ একটি দৃশ্য তৈরি হয়, যা এই গ্রামকে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলে।

গাঁদ্রুক ট্রেক এবং ভ্রমণ

গাঁদ্রুক ভিলেজের ভ্রমণ ট্রেকারদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এখান থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ট্রেকিং রুটের সূচনা হয় যা অন্নপূর্ণা এবং আরও কয়েকটি হিমালয় অঞ্চল প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। সাধারণত, পোখরা থেকে গাঁদ্রুক পর্যন্ত ট্রেক শুরু হয়, যা প্রায় দুই থেকে তিন দিন লাগে। ভ্রমণকালে পাহাড়ি পথে বিভিন্ন ঝর্ণা, সবুজ চা বাগান এবং স্থানীয় গ্রামগুলি দেখা যায়, যা ট্রেকারদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।



ছবিয়াল: রাজন আহমেদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial