এককাঠের পুতুল | বাংলাদেশের অপার ঐতিহ্য

এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে। বদলেছে যুগ। সেই সঙ্গে বদলে গিয়েছে মানুষের রুচি এবং চাহিদাও।

a
traditional
toy
in
Bangladesh
.

এককাঠের পুতুল বাংলাদেশের অপার ঐতিহ্য। একটা সময় ছিল যখন শৈশবের খেলনা বলতে কাঠের তৈরি  ঢেঁকি, আলনা, আলমারি, চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট-পালঙ্ক, রঙ্গিন ঘোড়া, হাতি , লম্বা লাঠি লাগানো হেলিকপ্টার, মাটির চাকা দেওযা টমটম গাড়িসহ আরও অনেক কিছু বোঝাত। আর এই ধরনের খেলনা মূলত বিভিন্ন মেলায় পাওযা যেত। এই ধরনের খেলনা কেনার জন্য বছরে একবার হলেও বৈশাখী মেলায় যাওয়া হতো। যা এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে। বদলেছে যুগ। সেই সঙ্গে বদলে গিয়েছে মানুষের রুচি এবং চাহিদাও।

এই সব খেলনা সব জেলায়ই তৈরি করত বিভিন্ন শিল্পীরা। যাদেরকে মূলত সূত্রধর বলা হয়। তবে চাহিদা কমে যাওযায় সেই খেলনাগুলিও বিলুপ্তির পথে। তবে এ ধরণের পুতুল তৈরিতে সোনারগাঁওয়ের শাহ্পুর গ্রাম প্রসিদ্ধ। জানা গিয়েছে , নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা হাতে গোনা কয়েজন এখনও তাঁদের পুরোনো পেশাকে আকড়ে ধরে রেখে এসব  কাঠের খেলনা বানাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁয়ে উপজেলার পৌর এলাকার ভট্টপুর গ্রামের বীরেন্দ্রচন্দ্র সূত্রধর ও জিয়ানগর গ্রামের আশুতোষ চন্দ্র সূত্রধরের পরিবার। প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা তৈরি করে চলেছেন কাঠের খেলনা।

জিয়ানগর গ্রামের কারুশিল্পী আশুতোষ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “আমরা বংশগতভাবেই এসব হাতি-ঘোড়া তৈরির কাজে জড়িত। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি খেলনা বাজার দখল করে ফেলেছে। তাই আমাদের তৈরি এসব হাতি-ঘোড়া তেমন একটা চলে না। তবে বৈশাখে এসবের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে বলে এ সময়টায় আমরা কাজে ব্যস্ত থাকি।

ভট্টপুর গ্রামের কারুশিল্পী বীরেন্দ্রচন্দ্র সূত্রধর বলেন, “আমাদের পরিবারের সবাই এ কাজে যুক্ত। বর্তমানে কাঠের দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে আমাদের কারুপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও আমরা বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। এক সময় পয়লা বৈশাখে এসব হাতি-ঘোড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন অনেক কমে গেছে।

সোনারগাঁ সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি বাবুল মোশাররফ বলেন, “কাঠের চিত্রিত হাতি ঘোড়া ও পুতুল আমাদের ঐতিহ্য বহন করে। এক সময় গ্রামীণ মেলায় এসব পণ্য অহরহ পাওয়া যেত কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা হারিয়ে যাচ্ছে। সোনারগাঁয়ের দুয়েকটি পরিবার এখনো এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এটা আমাদের জন্য গৌরবের। এ শিল্প বিলুপ্ত হওয়ার আগেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।”

তথ্যসূত্র : deshrupantor.com

WOODWORKS IN BANGLADESH

দারুশিল্প | সমৃদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস

wooden toy craft in fashion

ফ্যাশনে এককাঠে পুতুলের মটিফ

একটা সময় ছিল, শৈশব মানেই ছিল কাঠের খেলনা—
ঢেঁকি, আলনা, ছোট খাট-পালঙ্ক, রঙিন ঘোড়া-হাতি, টমটম গাড়ি, এমনকি লাঠি লাগানো হেলিকপ্টারও।
আর এগুলো পেতে হলে যেতেই হতো বৈশাখী মেলায়।
সময় বদলেছে, সেই খেলনাগুলো এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
কিন্তু এই নস্টালজিয়াটা এখনো রয়ে গেছে—আর সেটাই এবার ধরা পড়েছে ফ্যাশনে। ১৪৩৩ বৈশাখে বিশ্বরঙ তাদের কালেকশনে ব্যবহার করেছে এককাঠের পুতুলের মটিফ—
একটা সুন্দর ট্রিবিউট, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

এক কাঠের পুতুল বাংলাদেশের অপর ঐতিহ্য

Craft making

নির্মাণপদ্ধতি ও রঙের ব্যবহার

এ ধরণের এককাঠের পুতুল-এর নির্মাণপদ্ধতি ও রঙের ব্যবহার একান্তই সহজ-সরল, কিন্তু বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এ ধরণের পুতুল তৈরিতে কদম, আমড়া, জিওল, শ্যাওড়া, ছাতিম, শিমুল প্রভৃতি কাঠ ব্যবহৃত হয়। এসব কাঠ গাছ কিনে স’মিল থেকে পুতুলের সাইজ অনুযায়ী টুকড়ো করে কাটিয়ে আনতে হয়। তারপর যে খেলনা হবে তা পেনসিল দিয়ে হালকাভাবে তার একটা কাঠামো আঁকা হয়। এরপর এক টুকরা কাঠ হাতুড়ি-বাটালি দিয়ে খোদাই করে বের করে আনা হয় হাতি, ঘোড়া বা পুতুলের আকৃতি। পরে এনামেল  উজ্জ্বল রঙের সাহায্যে চোখ-মুখ এঁকে ফুটিয়ে তোলা হয় খেলনার রূপ। কিছু খেলনায় চাকাও লাগানো হয়। খেলনার আকার হিসেবে ৩, ৬, ৯, ১২, ১৮, ২২ ইঞ্চি পুরু কাঠ প্রয়োজন হয়।

দরদাম
এসব হাতি, ঘোড়া ও পুতুল আকার ভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial