art-and-craft-dhaka-division final part 1 bng

হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | ঢাকা বিভাগ

Spread the love
  • 2
    Shares

বর্তমান ঢাকা  “বিশ্বের রিকশা রাজধানী” নামেও পরিচিত হলেও এর আছে এক দীর্ঘ ইতিহাস । মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে এই শহর জাহাঙ্গীর নগর নামে পরিচিত ছিলো।  ঢাকাতে বিশ্বের সেরা মসলিন কাপড় উৎপাদিত হতো। বিশ্বব্যাপী মসলিন বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র ছিলো ঢাকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীগণ এখানে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসতেন।  বিশ্ব বাণিজ্য শিল্পের কারনে আস্তে আস্তে আমাদরে গড়ে উঠে নিজস্ব একটা  সংস্কৃতি । যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পে পরিনত হয় । যা কারুশিল্পীদের মনের মাধুরী মেশানো কারুকাজ এবং নিজস্ব স্বকীয়তা বাংলাদেশের ঐতিহ্যে রূপ নেয় । এই হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র ঢাকা বিভাগ -এর মাধ্যমে উপলদ্ধি করা যাবে ঢাকা বিভাগের প্রতিটি জেলার প্রতিটি কোন কতটা বিচিত্র এবং ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ।

click here for english version

ঢাকা বিভাগ

প্রতিটি জেলা তাদের বিশেষ এবং উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যে ভরপুর । একান্তভাবে দেশীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ব্যবহারে শিল্পীদের মৌলিক শিল্পবোধ ও ধ্যান ধারনায় সৃষ্টি ঢাকাই জামদানি। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোন দেশের কারিগরদের পক্ষে জামদানি তৈরি সম্ভব হয়নি। আদিকাল থেকেই ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকায় জামদানি কারুশিল্পীদের বংশানুক্রমিক বসবাস। কিংবা ‘প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার’ বলে খ্যাত শেখেরচর (নরসিংদী জেলার বাবুরহাট) এ বিভাগে অবস্থিত। বাংলাদেশের তাঁত বস্ত্রের চাহিদার প্রায় সিংহভাগ পূরণ করছে এ জেলার তাঁত শিল্প। বাংলাদেশের বিশেষ এবং উলে­খযোগ্য ঐতিহ্য হচ্ছে তাঁত শিল্প। আরও আছে, ‘চমচম, টমটম ও শাড়ি, এই তিনে টাঙ্গাইলের বাড়ি।’ প্রবাদ প্রবচনের ছড়াটি যে টাঙ্গাইলকে ঘিরে তাও ঢাকা বিভাগে অন্তরভুক্ত । এছাড়া মিরপুরের বেনারসি পল্লি , ফরিদপুর জেলা নকশি কাঁথা , শরীয়তপুর জেলার মৃৎ শিল্প ও ধামরাই এর কাঁসা-পিতল শিল্প সমৃদ্ধ ঢাকা বিভাগ


ঢাকা বিভাগের ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র -কে দুই (২) টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে । প্রথম পর্ব


art and craft map dhaka part 1 +

দ্বিতীয় পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন  >>>

জেলারগুলোর ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা চেষ্টা করা হয়েছে । তথ্য বিষয়ক ভুল থাকলে সবার সহযোগিতা কামনা করছি । যে কোন ধরনের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংযুক্ত করার জন্য প্রস্তুত। আপনার সহযোগিতায় আসতে পারে মানচিত্রের পূর্নতা ।


ঢাকা বিভাগের ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প বিস্তারিত :

প্রথম পর্ব

মিরপুর বেনারসি 

জামদানি শাড়ী

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

শীতল পাটি 

লুঙ্গি

গামছা

নকশি কাঁথা

বাঁশ-বেত শিল্প

দ্বিতীয় পর্ব

গয়নাশিল্প

কাঁসা-পিতল শিল্প

শোলাশিল্প

দারুশিল্প

বাংলার পট ও পটের গান

সরা চিত্র  

কাঠের খেলনা

নৌকা

মৃৎ শিল্প

মিরপুর বেনারসি

মিরপুর বেনারসি 

মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বরের বিশাল একটা অংশ জুড়ে অবস্থান বেনারসি পল্লীর 

বেনারসি শাড়ির মূল উৎপত্তিস্থল হিসেবে ভারতের বেনারস শহরের নাম শোনা যায়। কিন্তু ঠিক কবে থেকে বেনারশী শাড়ি তৈরি করে আসছেন তা জানা যায় নি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতের বেনারসের প্রায় ৩৭০টি মুসলমান তাঁতি পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ব্যবসা শুরু করে। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে স্থানীয়রা এ পেশায় ব্যাপকভাবে জড়িত হবার পরই বেনারসি শিল্পের অগ্রগতির সূচনা ঘটে। 

মিরপুর বেনারসি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >>> 

জামদানি শাড়ি

জামদানি শাড়ি

বলা হয় প্রাচীনকালের মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি । যা বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য । কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত একধরনের পরিধেয় বস্ত্র যা বুননকালে তৃতীয় একটি সুতা দিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয় । ‘জামদানি’ কে স্রেফ কাপড়/শাড়ি বা পণ্য ভাবলে ভুল হবে। ‘জামদানি’ হচ্ছে বিশেষ ভূগোল ও পরিবেশে শিল্প চর্চার বিশেষ একটি ধরণ যার মাধ্যমে একজন তাঁতি সুতা , রং , মাকু এবং তাঁত এর মাধ্যমে নৈপুণ্য শিল্প তৈরী করে । 

ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

জামদানি শাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >>>

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো কুটিরশিল্প। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি তারই ঐতিহ্য বহন করে । জেলার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে । টাঙ্গাইলের একটি প্রবাদ বেশ পরিচিত। 

‘নদী চর খাল বিল গজারীর বন
টাঙ্গাইল শাড়ি তার গরবের ধন।’ 

বাজিতপুর ও করটিয়া-য় সপ্তাহে দুই দিন শাড়ির হাট বসে । এখানে টি পিট তাঁত,চিত্তরঞ্জন তাঁত এবং পাওয়ার তাঁতে শাড়ি বুনে থাকেন । 

শীতল পাটি

শীতল পাটি 

টাঙ্গাইল জেলা দেলদুয়ার উপজেলার হিঙ্গানগর, গজিয়াবাড়ি, আটিয়া ও নাল্লাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম শীতল পাটি জন্য সমৃদ্ধ । সপ্তাহে দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার শীতল পাটির হাট বসে হিঙ্গানগর গ্রামে

লুঙ্গি

লুঙ্গির  এবং গামছা

টাঙ্গাইল জেলা কালিহাতীর বল্লা এবং নরসিংদী জেলার ‘প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার’ বলে খ্যাত শেখেরচর (বাবুরহাট) লুঙ্গির তৈরির জন্য বিখ্যাত । বাংলাদেশের তাঁত বস্ত্রের চাহিদার প্রায় সিংহভাগ পূরণ করছে এ জেলার তাঁত শিল্প।

ফরিদপুরের নকশি কাঁথা

ফরিদপুরের নকশি কাঁথা

নকশি কাঁথা হলো সাধারণ কাঁথার উপর নানা ধরণের নকশা করে বানানো বিশেষ প্রকারের কাঁথা। নকশি কাঁথা বাংলাদেশেরলোকশিল্পের একটা অংশ। ফরিদপুরের কাঁথায় লোকগল্প দেখা যায় । তেমনই একটি কাথায় কৃষ্ণকাহিনীর একটি দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে গাছের উপরে বসা কয়েকজন নগ্ন মহিলার একটি দৃশ্যের নীচে শিরোনাম লিখিত হয়েছে: বস্ত্রহরণ

বাঁশ-বেত শিল্প

বাঁশ-বেত শিল্প

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী, পূবেরকান্দা, চাতালচরসহ বিভিন্ন গ্রামে সুপ্রাচীনকাল ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্পের প্রসার ঘটে। তৈরী হয় শীতলপাটি, চাটাই, ডুল, জাবার, হাতপাখা, ডুলা, খলই, ওড়া, পাইছা, ঝুঁড়ি, চালনা, কুলা, মুড়া, চাই ইত্যাদি নানা বাহারি জিনিস। 


ঢাকা বিভাগের ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র -কে দুই (২) টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে ।

দ্বিতীয় পর্ব দেখতে এখানে ক্লিক করুন  >>>

ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র দেখতে ক্লিক করুন

In addition, traditional handicraft maps of other Division | অন্যান্য বিভাগের ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র :

ঢাকা বিভাগ  >>>

চট্টগ্রাম বিভাগ >>>

খুলনা বিভাগ >>>

বরিশাল বিভাগ >>>

ময়মনসিংহ বিভাগ >>>

রংপুর বিভাগ >>>

রাজশাহী বিভাগ >>>

সিলেট বিভাগ >>>


ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহ


Spread the love
  • 2
    Shares

Leave a Reply

%d bloggers like this: