art and craft map of Rajshahi division

art and craft map of Rajshahi division

হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | রাজশাহী বিভাগ

Spread the love
  • 1
    Share

বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল পটভূমি হচ্ছে গ্রাম। আর এর প্রাণবন্ত ও প্রাকৃতিক রূপ আমাদের লোকজ ঐতিহ্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্য । তাদের সরল মনের গ্রামীন কারুনৈপুন্য থেকে শুরু করে হস্তনির্মিত তাতঁ শিল্প, মৃৎশিল্প, কাসাঁ ও পিতল, বাশঁ ও বেত এবং পাট শিল্পের মত এক সুবিশাল ভান্ডারে সমৃদ্ধ আমাদের বাংলাদেশ । এই হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র, রাজশাহী বিভাগ -এর মাধ্যমে উপলদ্ধি করা যাবে রাজশাহী বিভাগ -এর প্রতিটি জেলার প্রতিটি কোন কতটা বিচিত্র এবং ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ । তাই এই মানচিত্র  “সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ” ।

Click here for English Version

রাজশাহী বিভাগ

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত রাজশাহী এক ইতিহাসখ্যাত নগরী ।  পঞ্চদশ শতকে ভাতুরিয়া দিনাজপুরের জমিদার রাজা কংস বা গনেশ এ অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন । তিনি রাজা শাহ নামে পরিচিতি ছিলেন। মনে করা হয় ‘রাজা’ আর ‘শাহ’ মিলে রাজশাহী নামকরণ হয়েছে। রাজশাহী জেলা বিশেষ করে রাজশাহী শহর একইসাথে রেশম নগরী, শিক্ষা নগরী, আমের রাজধানী, শান্তির শহর, সবুজ নগরী নামে পরিচিত ।  তেমনি হস্ত ও কারুশিল্পে রয়েছে রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলায়  নিজ নিজ ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য।    

বাংলাদেশের আবহমানকালের ঐতিহ্য শখের হাঁড়িতে , বাংলার পট ও পটের গান রাজশাহীর ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য।  পাবনার তাঁতশিল্প ,চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুজনি কাঁথা কিংবা  কাঁসা-পিতল শিল্প রাজশাহীকে করেছে আরো সমৃদ্ধ ।


হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | রাজশাহী বিভাগ

art and craft map of Rajshahi division

রাজশাহী  বিভাগের  ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প

ছন ও তালপাতার ঝুড়ি

নকশি শিকা  

লুঙ্গির ও গামছা

বাঁশ ও বেত শিল্প

পাবনার শাড়ি

নকশি কাঁথা

কাঁসা-পিতল শিল্প

তালের পাখা

শখের হাঁড়ির

বাংলার পট ও পটের গান


ছন ও তালপাতার ঝুড়ি

ছন ও তালপাতার ঝুড়ি

ছন ও তাল-পাতার ঝুড়ি এক অনন্য লোক শিল্পকর্ম। গ্রামের নাম হাপুনিয়া। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের একটি গ্রাম  ছন আর তালপাতা দিয়ে তারা তৈরি করে থাকেন রকমারি ডিজাইনের ঝুড়ি-ডালা ছাড়াও নিত্য ব্যবহারিক জিনিসপত্র । এছাড়াও  মহিপুর, বনমরিচা, গোসাইবাড়ী, বাগড়া, বাগড়া কলোনি, তাজপুর, পেচুঁল, টুনিপাড়া, ভাটগাড়ী গ্রামে বিপুল সংখ্যক নারী সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে ডালা তৈরির কাজ করেন।

নকশি শিকা

নকশি শিকা  

এক প্রকার লোকশিল্প। সাধারণত  পাট দিয়ে এটি তৈরি করা হয় এবং এতে যখন বিভিন্ন রকম কারুকার্য করা হয় তখন একে বলা হয় নকশি শিকা। বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই শিকার ব্যবহার আছে তবে পাবনা জেলা নকশি শিকার জন্য বিখ্যাত । 

নকশি শিকার অসংখ্য আঞ্চলিক নাম রয়েছে, যেমন- উল্টাবেড়ী, ফুলটুংগী, রসুন দানা, আংটিবেড়, ফুলমালা, ডালিম বেড়, ফুলচাং, গানজা, আউলাকেশি, কাউয়ার ঠ্যাং,  ইত্যাদি।

লুঙ্গির ও গামছা

লুঙ্গি ও গামছা

‘লুঙ্গি’ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পোশাক তবে নামটা এসেছে ‘বর্মি’ শব্দ থেকে। যা আমাদের জাতীয় পোশাকের অংশ ।  পিতৃ পুরুষের হাতে লালিত উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত তাঁত শিল্পে পাবনা জেলা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার একটি গ্রাম তামাই যা  লুঙ্গি তৈরিতে সুনাম অর্জন করেছে । তামাই গ্রামকে বাংলাদেশের লুঙ্গিশিল্পের আঁতুড়ঘর বলা হয় । পাবনার চাঁচকিয়া,  চন্ডীপাশা, গোপালপুর, ষাইটগাছা,  বপুর,কদিমবগদি গ্রামেও লুঙ্গি তৈরি হয়

পাবনার শাড়ি

পাবনার শাড়ি

কন্যা কইরো নাগো মন ভারি; পাবনা থিইক্যা আইনা দিমু ট্যাহা দামের মটুরি’ পাবনার তাঁত, পাবনার ঐতিহ্য.

পাবনার অন্যতম তাঁত প্রধান এলাকা দোগাছী, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া, আটঘরিয়া,পাবনা তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধিশালী ।

পাবনা অঞ্চলের শাড়ি বোনার ঐতিহ্য বহমান থাকলেও উন্নত মানের শাড়ি এখন কেবল সিরাজগঞ্জে বোনা হয়ে থাকে। 

বেত শিল্প

বাঁশ ও বেত শিল্প

বেত বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য বনজ সম্পদ। একজাতীয় লতানো বা সোজা বেয়ে ওঠা পাম। বাংলাদেশেও অনেক এলাকায় তা রতন নামেই পরিচিত। তেমনই  বাঁশ শিল্প বাংলাদেশের একটি লোকশিল্প । বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতির প্রতীক ।

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার চলনবিল এলাকা বাঁশ ও বেতশিল্পর জন্য পরিচিত  

নকশি কাঁথা

নকশি কাঁথা

নকশি কাঁথা হলো, সাধারণ কাঁথার উপর নানা ধরনের নকশা করে বানানো বিশেষ প্রকারের কাঁথা। যা স্বভাবগতভাবেই বাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য  সূঁই-সুতার মাধ্যমে কাপড়ের উপর ফুটিয়ে তোলা হল ।

তেমনই রাজশাহীতে এক ধরনের কাঁথা যা লহরী কাঁথা নামে পরিচিত । পারস্য শব্দ লহর থেকে লহরী কাঁথা নামের উদ্ভব। লহর মানে হলো ঢেউ। সাধারণত রাজশাহীতে এই কাঁথা বিখ্যাত।

চাঁপাই নবাব গঞ্জের আঞ্চলিক ঐতিহ্য সুজনি কাঁথা । সাধারণত এই কাঁথায় ঢেউ খেলানো ফুল ও লতাপাতার নকশা থাকে।  

শখের হাঁড়ির

শখের হাঁড়ি

মৃৎশিল্পের একটি শাখা। বিশেষ শৈল্পিক উদ্দেশে মাটির হাঁড়িতে চিত্রিত লোকশিল্প। রাজশাহীর শখের হাঁড়িতে রয়েছে বাংলাদেশের আবহমানকালের ঐতিহ্য। এসব হাঁড়িতে ঘোড়া, পাখি, শাপলা ফুল, পানপাতা, মাছ প্রভৃতি মটিফ ব্যবহৃত হয়।

রাজশাহী শহরে  বসন্তপুর গ্রামের মাত্র একটি পরিবার এখন শখের হাঁড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত।  এই একটি পরিবারই এখন রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শিল্প শখের হাঁড়িকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

বাংলার পট ও পটের গান

বাংলার পট ও পটের গান

পট চিত্রশিল্পীদের ডাকা হয় ‘পটুয়া’ নামে। তাঁরা যে শুধু চিত্রশিল্পীই তা নয়, তাঁরা চিত্র প্রদর্শনীর সময় সুরে সুরে গানে গানে কাহিনী বিবরণ করেন । পটচিত্রের সময় যে গান গাওয়া হয় তা ‘পটের গান’ নামে পরিচিত।

পটচিত্র দেখিয়ে গ্রাম-গঞ্জের মানুষকে ধর্মাচার ও লোক বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো, সাথে মানুষের বিনোদন এর  খোরাক ছিল ।  পটে আঁকা ছবি দেখিয়ে গাওয়া হয় গাজীর গান। গাজীর পটের পাশাপাশি মনসাপট, রামায়ণপট, কৃষ্ণপট ইত্যাদিও

কাঁসা-পিতল শিল্প

কাঁসা-পিতল শিল্প

যে সম্প্রদায় কাঁসার তৈরী তৈজসপত্র বা গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রী তৈরী করে তারা কাঁসারু বলে পরিচিত। এই সম্প্রদায়ের লোকজনকে ঠাটারি নামেও ডাকা হয়। কাঁসা পিতলের দ্রবসামগ্রীতে বিভিন্ন কারুকার্য ও নঁকশায় লোকজ কাহিনী অঙ্কনরীতি  ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের উপকণ্ঠে আজাইপুর, আরামবাগ, শব্জরবাটি ও রামকেষ্টপুর গ্রামের মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িত

তালের পাখা

তালের পাখা

প্রাচীন লোকগাঁথাতে প্রবাদ আছে “আমার নাম তালের পাখা, শীতকালে দেইনা দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা”। তাই তালের পাখাকে বলা হয় মানুষের প্রাণের সখা।

শীত মৌসুমে তাল গাছের পাতা কেটে  রোদে শুকিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় । পরে পানি থেকে উঠিয়ে নরম ভেজা পাতা গোলাকার করে কেটে মাঝখান থেকে দুখণ্ড করা হয় । তারপর শিল্পী  নিজের মাধুরী মিশিয়ে অলংকরন করে থাকে ।   একটি তাল পাতা থেকে দুটি তালপাখা তৈরি হয়।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার হাঁপানিয়া ফকিরপাড়া গ্রামে তালপাখা তৈরি হয় ।  হাঁপানিয়া গ্রামটিতে তালগাছ না থাকলেও এখন তালপাখার গ্রাম নামেই পরিচিত।


ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র দেখতে ক্লিক করুন

In addition, traditional handicraft maps of other Division | অন্যান্য বিভাগের ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র :

ঢাকা বিভাগ  >>>

চট্টগ্রাম বিভাগ >>>

খুলনা বিভাগ >>>

বরিশাল বিভাগ >>>

ময়মনসিংহ বিভাগ >>>

রংপুর বিভাগ >>>

রাজশাহী বিভাগ >>>

সিলেট বিভাগ >>>


৮ টি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ গঠিত । রাজশাহী  বিভাগের জেলাগুলো  হল :


image and information Source : internet

Graphic : FXYZ
powered by bangladesh fashion archive | BFA


Spread the love
  • 1
    Share

Leave a Reply

%d bloggers like this: