অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ Amor Ekushey Book Fair x bfa x fxyz web

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫: একদিনের অভিজ্ঞতা

বইমেলা এখন আর কেবল বইয়ের মেলা নয়; এটি একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক মিলনমেলা—যার মাঝে আনন্দ, স্মৃতি এবং কিছু প্রশ্নও রয়ে যায়।

“যে বইমেলায় বইয়ের গন্ধের চেয়ে মানুষের মুখের গল্প বেশি,
সেই মেলাই আজকের বইমেলা।”
.

Amor Ekushey
Book Fair
.

জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটি ছিল প্রথম অমর একুশে বইমেলা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি মোড় ঘোরানো সময়ের পরে এবারের মেলার আলাদা একটি তাৎপর্য ছিল। সাহিত্যপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে বইমেলার মানে ছিল নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়া, একধরনের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ। তবু, এই মেলা কি সেই পুরনো উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে পেরেছে?

অমর একুশে বইমেলা প্রতি বছর বাংলা সাহিত্যের পাঠক, লেখক, এবং প্রকাশকদের জন্য একটি বিশেষ সময়। এটি শুধু বই কেনা-বেচার মেলা নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক উৎসব। ২০২৫ সালের মেলায় পা রাখার সাথে সাথেই একটি পরিচিত পরিবেশ চোখে পড়লো—বাংলা একাডেমির ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তৃত এলাকা সেজে উঠেছে নানা রঙে। তবু, এবারের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। মেলার পরিবেশে প্রাণ ছিল, তবে তা যেন কিছুটা ম্লান হয়ে এসেছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, তবে বই কেনার প্রতি আগ্রহের অভাব স্পষ্ট ছিল।

বড় প্রকাশনীগুলো যেন একটি প্রথাগত দায়িত্ব পালন করছে, আর ছোট প্রকাশনীগুলো টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বইমেলার আসল আবেদন কি হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি এটি কেবল একটি পরিবর্তনের ধারায় প্রবেশ করছে? উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু বলতে পারি, বইমেলা এখন আর কেবল বইয়ের মেলা নয়; এটি একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক মিলনমেলা—যার মাঝে আনন্দ, স্মৃতি এবং কিছু প্রশ্নও রয়ে যায়।

মেলায় দর্শনার্থী, কিন্তু ক্রেতা কম

মেলায় পা রেখেই প্রথমে চোখে পড়লো ভিজিটরদের ভিড়। তবে একটু খেয়াল করতেই বুঝলাম, এই ভিড়ের বেশিরভাগই দর্শনার্থী, ক্রেতা নয়। অনেকেই এসেছেন মেলায় আসার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে—সেলফি তোলা, রিল বানানো বা কেবলই সময় কাটানোর জন্য। আমিও কি তাদের থেকে খুব ভিন্ন কিছু করলাম? একটাও বই না কিনে মেলা থেকে ফিরে আসাটা আমার জন্য একধরনের অপরিচিত অভিজ্ঞতা।

বাংলা একাডেমি অংশে তুলনামূলকভাবে কম ভিড়। ছোট ছোট প্রকাশকদের স্টলগুলো যেন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে, পাঠকদের অপেক্ষায়। অন্যদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও, তাতেও যেন কিছুটা কৃত্রিমতার ছোঁয়া। বড় বড় প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নগুলোও এবছর তেমন আকর্ষণীয় লাগলো না। মনে হলো, সৃষ্টিশীলতার চেয়ে আড়ম্বর বেশি।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️


গ্রাফিতি, ডাস্টবিন আর ফটোবুথ
.

মেলার আরেকটি ব্যতিক্রমী দিক ছিল একটি ডাস্টবিন, যেখানে পলাতক শেখ হাসিনার গ্রাফিতি আঁকা ছিল। এটি যেন শুধুমাত্র ডাস্টবিনের ভূমিকা পালন করেনি; এটি একটি অপ্রত্যাশিত ফটোবুথে রূপ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে এসে নানা অঙ্গভঙ্গি করে ছবি তুলছিলেন। কেউ হাসছেন, কেউ ভাবগম্ভীর চেহারায় পোজ দিচ্ছেন।

এই ঘটনাটি মেলার একটি চিত্তাকর্ষক দিক হলেও এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। গ্রাফিতিটি রাজনৈতিক বিদ্রূপের প্রতীক হয়ে ওঠার পাশাপাশি, এটি কি বইমেলার মতো একটি সাংস্কৃতিক স্থানে উপযুক্ত? কিছু দর্শক বলছিলেন, এটি তাদের কাছে বিনোদনের একটি উপাদান। অন্যদিকে, অনেকে মনে করেন, এটি মেলার মূল উদ্দেশ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে।

তবে, এই ধরনের উপস্থাপনা যে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটি মেলার অংশগ্রহণকারীদের মত প্রকাশের একটি নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial