
আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা
শিল্প শ্রমিক সংকট
ধ্রূপদী কাসা শিল্পের কাচামাল ব্যয়বৃদ্ধি, যোগান, বাজারজাতকরণ, ক্রেতা সঙ্কোচণ তো রয়েছেই আরেকটি বড় বাধা হলো শিল্প শ্রমিক সংকট। একজন দক্ষ শ্রমিক ধ্রূপদী পর্যায়ের কাজ করতে জানতে হলে বেশ কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। সাধারণত বংশানুক্রমিক ভাবেই এসব শিক্ষায় দীক্ষিত হতেন শিল্পীরা। অর্থাভাবে, অনেকেই বংশপরম্পরাগত এই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন, ভিড়েছেন পেট চালানোর দায়ে অন্য পেশায়। তাই দক্ষ শ্রমিকের অভাবে শীঘ্রই এই শিল্প ম্রিয়মাণ হবে বলে শঙ্কিত সংশ্লিষ্টরা।
ধামরাইয়ের বিখ্যাত রথটির ডান দিকে রয়েছে রাশেদা মোশাররফের পিতলের শোরুম। দোকানে ঢুকলেই নান্দনিক ভাষ্কর্য তৈজস ও গৃহসজ্জাসামগ্রী চোখে পড়ে। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচাতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে এবং সহজ শর্তে করতে হবে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা। তিনি আরো বলেন, আমাদের এসব জিনিস তৈরিতে প্রচুর টাকা প্রয়োজন হয়। আবার দেখা যায়, ব্যবসা কখনো ভালো আবার কখনো খারাপ হয়। অথচ ব্যাংক চড়া সুদে লোন দিতে আগ্রহী হয়। আবার ব্যাংক লোন নিলে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। রাশেদা বলেন, এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার যদি সর্বোচ্চ ৫শতাংশ সুদে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করে তাহলে অনেক ভালো হবে।
কাঁসা শিল্পের প্রসারে করনীয়
দেশীয় লাইফস্টাইল হাউজগুলোতে প্রথমদিকে ধামরাই থেকে পণ্যসামগী নিলেও এখন তার পরিমাণ অনেক কমে গেছে। সাবলীল রুচিসম্পন্ন ক্রেতার অভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতাও দুরহ হয়ে উঠছে।
সরকারী বা বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ব্যাপকভাবে দরকার ঢাকা তথা বাংলাদেশের এই শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে। মাঝে ২০১৮ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘এসডিআই’ ধামরাইয়ের কাঁসা শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য আছেন। সর্বনিম্ন ৭০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। সাহা মেটাল, রাশেদা মেটাল সহ আরও অনেকে তাঁদের কাছ থেকে পুঁজির জোগান পেয়েছেন। তবে শুধু পুঁজির জোগানই এই শিল্প এগিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়; ক্রেতাদের রুচির বিষয়টিও এখানে জরুরি। ঐতিহ্য ধরে রাখায় ক্রেতার আগ্রহ কাঁসা শিল্পের প্রসারে ভূমিকা রাখবে।
তামা কাসার ঝলক স্তিমিত হয়ে মলিন হয়ে আসে, তবে তাদের ধারণ করে যাদের জীবিকা যাদের সংগ্রাম তারা এখনো স্বপ্ন দেখেন ধীরে ধীরে আবার সমুজ্জল হয়ে উঠবে এই শিল্প আবার আসবে শ্রী সমৃদ্ধি। এই করেই হচ্ছে সংগ্রাম, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম।
তামা কাসার ঝলক স্তিমিত হয়ে মলিন হয়ে আসে, তবে তাদের ধারণ করে যাদের জীবিকা যাদের সংগ্রাম তারা এখনো স্বপ্ন দেখেন ধীরে ধীরে আবার সমুজ্জল হয়ে উঠবে এই শিল্প আবার আসবে শ্রী সমৃদ্ধি। এই করেই হচ্ছে সংগ্রাম, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম।
কাঁসা শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে
বর্তমানে ঢাকার ধামরাই, জিনজিরা, জামালপুর, ইসলামপুর, নবাবগঞ্জ ও বিক্রমপুরের ঘোড়দৌড় বাজারে বেশকিছু কারখানা থাকলেও টাঙ্গাইলের কাগমারী, বাঘিল, পোড়াবাড়ি, মগড়া ও বল্লায় একেবারেই নেই বললেই চলে। অথচ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কাগমারীসহ কালিপুর, পাতুলিপাড়া, পোদ্দারপাড়া, সন্তোষ, সাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত কারিগর ছিলেন। এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা এখনো প্রাণ দিয়ে এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।

হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | ঢাকা বিভাগ
fayze hassan
হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | রাজশাহী বিভাগ
fayze hassan
হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | সিলেট বিভাগ
fayze hassan
হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | রংপুর বিভাগ
fayze hassan
ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | ময়মনসিংহ বিভাগ
fayze hassan






