প্রকৃতিকে ভালোবাসে বলেই মানুষ প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে চায়। প্রকৃতিও তার সৌন্দর্যের অপরূপ ভাণ্ডার মেলে ধরে কাছে টানে। এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই ব দ্বীপে পরিচিত অপরিচিত দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলা নিকেতন । এদেশে রয়েছে পাহাড়, সাগর, মাঠ, বিশাল নীল আকাশ– যা এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। পাহাড়, জলপ্রপাত, বনভূমি, নদী এদেশকে করে তুলেছে অপূর্ব রূপময়। বিশাল সৌন্দর্য ভান্ডার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার | Cox’s Bazar সম্পর্কে জানা যাক ।
কক্সবাজার | Cox’s Bazar
বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত, যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০কিমি বিস্তৃত। । বাংলাদেশের অন্যতম স্বাস্থ্যকর এবং পর্যটন স্পট কক্সবাজার, তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
কক্সবাজারে আদি নাম পালংকি। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামক এক বৃটিশ কর্মকর্তা ১৭৯৯ সালে এখানে এসে একটি বাজার স্থাপন করেন। তার নামানুসারে কক্স সাহেবের বাজার এবং পরে কক্সবাজার হিসাবে পরিচিত লাভ করে।
পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হোটেল এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই ২০টি পাঁচতারা হোটেল রয়েছে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট এবং মায়ানমার, চীন এবং থাইল্যান্ড থেকে সমুদ্র পথে আসা বাহারি জিনিস পত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট, এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র ফিশ একুরিয়াম, প্যারাসেইলিং, ওয়াটার বাইকিং, বিচ বাইকিং, কক্স কার্নিভ্যাল, সার্কাস শো, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কতৃক নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্য, শিশু পার্ক এবং অসংখ্য ফটোশুট স্পট। এছাড়া এখানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সী একুরিয়াম এবং ডিজনি ল্যান্ড।
কক্সবাজারে বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে শহরটিকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময়। এসব উপজাতিদের মধ্যে চাকমা সম্প্রদায় প্রধান।
কক্সবাজার কিভাবে যাবো
বাসে করে যেতে চাইলে গ্রিন লাইন, এস আলম, সোহাগ পরিবহণ, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী ঢাকা থকে সরাসরি কক্সবাজার যায়। এইসব বাসের সিট ভাড়া এক হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।
ট্রেনে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়েও কক্সবাজার যাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তুর্না নিশিথা, মহানগর প্রভাতী বা গোধূলি ট্রেনে চট্টগ্রাম চলে আসতে হবে। তারপর, চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস আলম বা ইউনিক অথবা হানিফে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। বাস ভেদে ভাড়া ৪০০ থেকে ৬০০ পর্যন্ত হতে পারে।
প্লেনে করেও কক্সবাজার যেতে পারেন। নভেএয়ার, ইউ এস বাংলা , বাংলাদেশ বিমানে করে সরাসরি কক্সবাজার এয়ারপোর্ট যাওয়া যায় । সেখান থেকে মুল সৈকত ২০ মি: এর পথ ।

কক্সবাজারে ঘোরাঘুরি
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
- কক্সবাজার রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
- কক্সবাজার লাবনী বিচ
- কক্সবাজার কলাতলী বিচ
- হিমছড়ি
- কক্সবাজার ইনানি বিচ
- সোনাদিয়া দ্বীপ
- ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
- টেকনাফ
- কানা রাজার সুড়ঙ্গ
- কুতুবদিয়া বাতিঘর
- আদিনাথ মন্দির, মহেষখালী
সোর্স-
জাতীয় পত্রিকা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত






