‘টানা’ আর ‘পোড়েন’-এর মাঝে ভারসাম্য রাখতে রাখতে তাঁতীদের জীবন কেটে যায় নিজস্ব টানা-পোড়েনে, যার ভারসাম্য রক্ষা তাঁত-এ সুতা বোনার চেয়েও বহুগুণ কঠিন।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সবচেয়ে আদি উৎস হচ্ছে তাঁত। তাঁতের সুতোয় বোনা আছে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের ফ্যাশন। তাঁতের শিল্পের ভালোরকম প্রচলন শুরু হয়েছিল সতেরো শতকের দিকে।
একটা সময় নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি তাঁত ছিল। নব্বই দশকে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র এক হাজারে। তাঁত ও তাঁতীদের এই ক্রমবিলুপ্তি বেশ দুঃখজনক তো বটেই। নরসিংদী ছাড়াও পাবনা, টাঙ্গাইল, মণিপুরি সম্প্রদায় অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য বহু বছর ধরে চলমান। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যখন পাবনা সফরে গিয়েছিলেন, তখন তাঁতশিল্পে মুগ্ধ হয়ে তিনি একে সকল বস্ত্র শিল্পের মা বলে আখ্যা দেন। এমনকি কবিগুরুও তাঁতপণ্য ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। সিরাজগঞ্জেও তাঁতশিল্পের স্বর্ণযুগ কেটেছে। ইতিহাসের পাতায় ভাস্বর বিশ্ব-পর্যটক ইবনে বতুতা এবং হিউয়েন সাঙের লেখনীতে উল্লেখ পাওয়া যায় টাঙ্গাইলের শাড়ির প্রসঙ্গ।

আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা

এছাড়াও তাঁতের পোশাক কিনতে ঢাকা থেকে মোটামুটি অদূরেই চলে যেতে পারেন টাঙ্গাইলের পাথরাইল ইউনিয়নের তাঁত পল্লীতে। ওখানে তাঁতীরা নিরলস বুনে চলেন সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর সব নকশাদার শাড়ি। রয়েছে বিপণীবিতানও। অনলাইনেও দেখা মিলবে তাঁত কর্নার, তাঁত বাংলা, তাঁতী ও তাঁত ইত্যাদি দোকানের, যারা শুধুমাত্র তাঁতের পোশাক নিয়ে কাজ করে। ফরচুন শপিং মলে লেভেল ২-এর নম্বর দোকান ’তাঁতি‘ । নাম অনুযায়ী শুধু তাঁত পন্য বিক্রি নয়, ১৯৬০ সাল থেকে পারিবারিক ব্যবসার হাত ধরে তাঁতি আজ পরবর্তী প্রজন্মের হাতে।


টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি
TANGAIL SAREE
তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো কুটিরশিল্প। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি তারই ঐতিহ্য বহন করে। টাঙ্গাইলের দক্ষ কারিগররা তাদের বংশ পরম্পরায় তৈরি করছেন এ শাড়ি।


হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | ঢাকা বিভাগ
fayze hassan
হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | রাজশাহী বিভাগ
fayze hassan
হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | সিলেট বিভাগ
fayze hassan
হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | রংপুর বিভাগ
fayze hassan
ঐতিহ্যময় হস্ত ও কারুশিল্প মানচিত্র | ময়মনসিংহ বিভাগ
fayze hassan

