শিল্পকলা একাডেমিতে লোকশিল্প প্রদর্শনী ‘ধারণ’ DHARON x bfa x fxyz - Copy

ঐতিহ্যের শেকড়ে ফেরা: শিল্পকলা একাডেমিতে লোকশিল্প প্রদর্শনী ‘ধারণ’

লোকশিল্পকে আমরা কতটা বুঝি, আর কতটা কেবল দেখে পাশ কাটিয়ে যাই।

পরতে পরতে জমে থাকা সময়ের ধুলো,
ধুলো পেরিয়ে জন্ম নেয় শিল্প—
শিল্প আর শিল্পীর মাঝখানে
নীরব সেতু হয়ে ওঠে এসব প্রদর্শনী।

“ধারণ” নামটিও যেন অর্থবহ—এটি কেবল প্রদর্শন নয়, বরং ধারণ করা; ইতিহাসকে, শিকড়কে, আর সেই মানুষদের গল্পকে, যারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। 

কিউরেটর জিন্নাতুন জান্নাত এবং সহ-কিউরেটর আয়শা নাজমিনের এই আয়োজন দর্শককে শুধু দেখার নয়, ভাবারও একটি জায়গা দেয়—লোকশিল্পকে আমরা কতটা বুঝি, আর কতটা কেবল দেখে পাশ কাটিয়ে যাই।

শিল্পকলা একাডেমিতে লোকশিল্প প্রদর্শনী ‘ধারণ’ x bfa x fxyz

জাতীয় চিত্রশালা ভবনের
৪ নম্বর গ্যালারিতে

বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণভোমরা হলো আমাদের লোকশিল্প। চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ আয়োজন করেছে এক বিশেষ প্রদর্শনী, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ধারণ’।  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি বর্তমানে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের ৪ নম্বর গ্যালারিতে চলছে। 

প্রদর্শনীটি মূলত নকশিকাঁথা, বাঁশশিল্প, পটচিত্র, মাটির পুতুল ও রিকশাচিত্রের মতো পাঁচটি বিশেষ ধারাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো লোকশিল্পকে কেবল অতীতের স্মৃতি হিসেবে না দেখে, আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব তুলে ধরা। প্রদর্শনীতে গ্রাম ও শহরের শিল্পী ও দর্শকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে প্রদর্শিত মাটির পুতুলগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সংগ্রাহক ইমরান-উজ-জামান এর সংগ্রহ থেকে, যা প্রদর্শনীতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

ইমরান-উজ-জামান: লোকজ ঐতিহ্যের এক নিবেদিত সংগ্রাহক

ইমরান-উজ-জামান পেশায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা শাখার একজন কর্মী হলেও, হৃদয়ে লালন করেন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেলা ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন অসংখ্য লোকজ দ্রব্য। কেবল সংগ্রহেই থেমে থাকেননি, তিনি মেলা ও লোকশিল্প নিয়ে গড়ে তুলেছেন ভিডিও, গান এবং স্থিরচিত্রের এক বিশাল ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।

তার বিশ্বাস, দেশের স্বার্থেই আমাদের দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এতে যেমন আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য টিকে থাকবে, তেমনি প্লাস্টিক বা কৃত্রিম উপাদানের ভিড়ে পরিবেশও রক্ষা পাবে।

তার সংগ্রহে আছে  বাংলাদেশের মাটির পুতুল থেকে শুরু করে  ‘ব্যবহারিক মৃৎপাত্র’ বা মাটির পাত্র যা আমাদের পূর্বপুরুষদের নান্দনিক রুচির পরিচয় বহন করে। তিনি মূলত মাটির তৈরি জিনিসের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরি করতে চান।

facebook link: Imran Uz-zaman

প্রদর্শনীটি চলবে

প্রদর্শনীটি গত ১৩ এপ্রিল শুরু হয়েছে এবং চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত থাকছে।

আমাদের শেকড়ের এই শিল্পধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে এবং একে টিকিয়ে রাখার তাগিদে এই প্রদর্শনীটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যারা লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া পেতে চান, তাদের জন্য ‘ধারণ’ হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।

সময় করে একবার ঢুঁ মেরে আসা যায়—
হয়তো কোনো একটা শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে, নিজেরই কোনো স্মৃতি খুঁজে পাবেন।

রিকশা আর্টের উত্থান: গণমানুষের ক্যানভাস থেকে এলিট শোকেসে

শিল্প কীভাবে পণ্য হয়ে ওঠে? এর উত্তরটা লেখা আছে পুঁজিবাদের হালখাতায়। ভোগবাদের মধ্য দিয়ে আমরা ভ্যান গখের স্টারি নাইট হোক বা যামিনী রায়ের আঁকা ছবি, সবকিছুকেই নতুনভাবে বিক্রির একটা চিন্তা করি।

বিস্তারিত পড়ুন


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️


December 12, 2025
National SME Product Fair জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা x bfa x fxyz

জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা

bdfashion archive
দেশের উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রতি বছর এসএমই পণ্য…
December 12, 2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial