গার্মেন্টস খাতে পানির ব্যবহার এবং পরিবেশে তার প্রভাব
একটি জিন্স প্যান্ট উৎপাদন -এ তুলা উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়ার মত উপযুক্ত করতে মোট ১০০০০ লিটার পানির খরচ হয় । যার বড় অংশ খরচ হয় ডাইয়িং প্রসেসে। কথা হচ্ছে, জিন্স প্যান্ট উৎপাদন করতে এত পানি লাগছে কেন?
২০১৭ সালে দৈনিক যুগান্তর এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটা পোশাক রং করা ও ধোয়ার কাজে ব্যয় হয় ২৫০ লিটার পানি।
এই হিসেবে, শুধু সুতা ও কাপড় ধোয়া ও রং করার পেছনে প্রতি বছর পানি খরচ হয় ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার! ওয়াসার হিসেবে প্রতি লিটার পানির সে সময়কার বাজারমূল্য হিসেবে এই পানির দাম পড়ে ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা।
বলাই বাহুল্য, এই পানির সবটুকুই মিঠা পানি হতে হয়। নোনা পানি দিয়ে এ কাজ হয় না। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের হিসেবে, এ কারণে প্রতি বছর ঢাকার পানির স্তর ২-৩ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে।
বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের ২০৫০ সালের মধ্যে বিরাট অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। আমরা কি তাহলে আমেরিকা, চীন, ভারত বা আফ্রিকা থেকে তুলা কিনে এনে আমাদের শ্রমিকের রক্ত আর সৃষ্টিকর্তার উপহার পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানকে কাঁচামাল হিসেবে যুক্ত করে সেটাই রপ্তানী করে দিচ্ছি?

ব্যক্তি উদ্যোগে আমরা যা করতে পারি

আসলে জিনস তৈরির কাপড় ডেনিম এমন পদ্ধতিতে তৈরি হয় এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলোই এমন যে যতটা সম্ভব না ধুয়ে বা কম ধুয়ে ব্যবহার করলেই এই ডেনিমের আঁশগুলো ভালো থাকে
এ ছাড়া কড়কড়ে নতুন ডেনিমের নীল রঙের নানা শেডগুলোও না ধোয়া অবস্থাতেই বেশি ভালো লাগে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে জিনস হাঁটুর কাছে, ঊরুতে বা পেছন দিকে যেসব বিশেষ প্যাটার্নে রংচটা হয়ে ওঠে তাও না ধোয়া অবস্থাতেই ভালো বোঝা যায়।

জিন্স প্যান্ট প্রতিদিন ধোয়া লাগে না। কেউ চাইলে দুই-তিন সপ্তাহ পর্যন্ত জিন্স প্যান্ট না ধুয়েই ব্যবহার করতে পারবে। যদিও কেউ কেউ ছয় মাসে একবার ধোয়! জিন্স প্যান্ট ঘন ঘন ধোয়া ঠিক না। এতে কালার নষ্ট হয়ে যেতে পারে!
বৃষ্টিতে না ভিজলে জিন্স প্যান্টে কোনো ধরনের পানি লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না।ময়লা বেশি লাগলে হালকা ঝেড়ে রোদে শুকাতে দিলেই ঠিক হয়ে যায়।

পরতে পরতে রংচটা হয়ে যাওয়া জিনসটাই আপনার বেশি প্রিয়। কিন্তু এমন জিনসে যেন সহজে ময়লা-দাগ বসে যায়।একটা কাপড় হালকা করে ভিজিয়ে চিপে নিন। এবার জিনসে বসে যাওয়া দাগ ঘষে ঘষে তুলতে থাকুন।
আর জীর্ণ জিনসের গন্ধ তাড়াতে হলে কড়কড়ে রোদে শুকাতে দিন।একবার সরাসরি রোদে দিয়ে আবার ভেতরে বাইরে উল্টে নিয়ে ভেতরের অংশ বাইরে রেখে রোদে দিন। রোদে শুকানোর পর দুবারই ভালো করে ঝেড়ে নিন ।

রোদে শুকিয়ে নেওয়ার পরও যদি গন্ধের জন্য জিনস পরতে অস্বস্তি লাগে তখন কী করা যাবে? যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর জিনস ব্র্যান্ড টেলাসনের পরামর্শ হচ্ছে,
‘আমরা এই জিনসগুলো ধুই না, আপনারও তা ধোয়া উচিত না। কিন্তু আর উপায় না থাকলে জিনসটাকে উল্টে ভেতরটা বাইরে নিয়ে আসুন, সামান্য সাবান দিয়ে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে রোদে শুকান।

এসব কোনো বুদ্ধিতেই যখন আর কাজ হচ্ছে না তখন ব্যবসায়ীরা ঠিকই নতুন বুদ্ধি নিয়ে হাজির হয়েছেন। জিনস অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী অ্যাশ ব্ল্যাকও তাই করেছেন।
মিস্টার ব্ল্যাক ডেনিম রিফ্রেশ’ নামে একটা ফ্রেশনার বাজারে ছেড়েছেন তিনি। অ্যাশ ব্ল্যাক বলছেন, দীর্ঘদিন ব্যবহারে ধুলোবালি ময়লার সঙ্গে ঘাম, ত্বকের কোষ এসব জমে একধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণেই জিনস তেল চিটচিটে হয়ে যায়।
এই স্প্রে জিনসের ভেতরে বাইরে ব্যবহার করে ১০ মিনিট রেখে দিলে জিনস আবারও শুকনো হয়ে যাবে এবং জিনসের দুর্গন্ধও দূর হবে।

SUSTAINABLE FASHION বা টেকসই জীবনধারা সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
সাসটেইনেবল ফ্যাশন | SUSTAINABLE FASHION
আপসাইক্লিং এর উদাহরণ
শাড়ির কিচ্ছা |UPCYCLING |SUSTAINABLE FASHION
ছবি : ইন্টারনেট
তথ্যসূত্র :
- rmgtimes
- www.prothomalo
- roar.media
- jugantor
Graphic: FXYZ
#UPCYCLING #SUSTAINABLEFASHION #ecofriendly #enviornmet #saree #Blue #katan #tasel #bedcover #dopatta #pattern #fashion #trend #ethnic #tradition #culture #bangaldesh #bangaldeshfashionarchive #বাংলাদেশ #fashionarchive #archive #bfa #FXYZ






