sustainable fashion ফ্যাশন হোক পরিবেশবান্ধব x bfa x অনিন্দিতা চৌধুরী web

ফ্যাশন হোক পরিবেশবান্ধব | SUSTAINABLE FASHION

অধিকাংশ মানুষই তাদের ওয়ার্ড্রোবের মাত্র ২০ শতাংশ কাপড় নিয়মিত পরেন এবং বাকি ৮০ শতাংশই থেকে যায় অব্যবহৃত।

ফ্যাশন নিঃসন্দেহে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ– দুভাবেই মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বহু লোকের জীবিকা নির্বাহ সম্ভব হয় ফ্যাশন জগতকে কেন্দ্রে রেখে। কিন্তু একই সময়ে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন, ব্যবহার ও অদরকারি দ্রব্য নিষ্কাশনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাস্তুসংস্থান তথা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পৃথিবী দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে এবং এর পেছনে ক্রমবর্ধমান ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অবদানও কম নয়। জলবায়ু সংকটের বৃদ্ধিতেও সরাসরি জড়িত আছে ফ্যাশনের সমৃদ্ধি।

আর তাই এখন শুধু চটকদার ফ্যাশনে জীবনে আলো ছড়ানোতেই আটকে নেই ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম। বরং পরিবেশের উপর ফ্যাশন জগতের নেতিবাচক প্রভাবগুলো কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, এ নিয়েও সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। আর এর জের ধরেই জন্ম হয়েছে ‘সাসটেইনেবল’ কিংবা পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের।

Eco-friendly as in production

উৎপাদনে যেমন পরিবেশবান্ধব

পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের ধারণাটা সহজভাবে বুঝতে চাইলে প্রথমেই আসতে হবে এর উৎপাদনের দিকটায়। কারখানাগুলোতে পুরো উৎপাদনকাজের সময় কীভাবে পরিবেশের উপর প্রভাব কমিয়ে, সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে খেয়াল রেখে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়– এটিই হচ্ছে এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। এতে করে বাজারে আসে পরিবেশবান্ধব, সামাজিক দায়িত্বসম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী সব ফ্যাশন-পণ্য।

ফ্যাশনের এই রূপটিকে অনেকে কাজের সঙ্গে মিল রেখে ‘ইকো ফ্যাশন’ও বলে থাকেন। ইকো ফ্যাশন পণ্যগুলোর উৎপাদনে যেন উল, লিনেন, সুতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দ্রব্যাদি ব্যবহার হয় এবং সেসব দ্রব্যের ফলনে কোনো ধরণের কীটনাশক বা রাসায়নিক না দেয়া হয়, সেদিকে সচেতন থাকা হয়।

sustainable fashion ফ্যাশন হোক পরিবেশবান্ধব x bfa x অনিন্দিতা চৌধুরী web +

নিষ্কাশনেও তেমনই

এছাড়াও বর্জ্য নিষ্কাশনের দিকে নজর দিতে গিয়ে ইকো ফ্যাশনপন্থীরা ‘বায়োডিগ্রেডেবল’ পণ্যের প্রতি বেশি যত্নশীল ভূমিকা রাখার পক্ষে। কেননা কারখানার বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার পথে না গেলে পরিবেশের জন্য এটি একটি বিশাল পরিমাণ বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

শুধু কারখানা বা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত পক্ষরাই যে সাসটেইনেবল ফ্যাশনকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন, তা কিন্তু নয়। ভোক্তা বা ব্যবহারকারীদেরও নিজস্ব দায় রয়েছে। যে যার নিজের জায়গা থেকে পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন বিভিন্নভাবে–

Do not purchase unnecessary products

অপ্রয়োজনীয় পণ্য না কেনা

২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ মানুষই তাদের ওয়ার্ড্রোবের মাত্র ২০ শতাংশ কাপড় নিয়মিত পরেন এবং বাকি ৮০ শতাংশই থেকে যায় অব্যবহৃত। এটি যে শুধু যুক্তরাজ্যের চিত্র, তা ভাবলে ভুল হবে কেননা আমাদের সকলেরই এমন বেশ কিছু পোশাক থাকে– যা দেখে ভালো লেগেছে বলে কিনেছি, কিন্তু পরে আর পরা হয়নি। যেকোনো পণ্য কেনার আগে তার প্রয়োজন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কিনলেই একটি পণ্যের উৎপাদন অনেকটা পর্যায় পর্যন্ত রুখে দেয়া সম্ভব। এতে করে বর্জ্যের সংখ্যাও কমবে, এবং নিজের ঘরেও জায়গা বাঁচবে।

Fashion product recycling and exchange practices

ফ্যাশনপণ্য রিসাইক্লিং ও বিনিময় প্রথা

মানুষ যেকোনো ক্ষেত্রেই বিনিময়ে বিশ্বাসী। বিনিময় প্রথার জন্ম হয়েছিল বলেই একসময় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় হয়েছে। ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও পরিবেশের সুরক্ষা টিকিয়ে রাখতে চাইলে আশ্রয় নিতে হবে এ প্রথার। প্রতিনিয়ত নতুন পণ্য কেনার বাতিক থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এখন ফেসবুকে প্রায়ই রিসাইক্লিং কিছু গ্রুপ দেখা যায়, যেগুলোতে ব্যবহৃত কিন্তু বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কম মূল্যে বিক্রি করা হয়। রিসাইক্লিংয়ের এই ধারণার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিলে একইসাথে পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের পক্ষেও থাকা যায়, আবার নিজের পকেটের স্বাস্থ্যও ঠিকঠাক রাখা যায়।

Not suffering, but real happiness in sacrifice!

ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ!

বিনিময়ের পাশাপাশি দানের মতো মহান গুণের চর্চাও চালিয়ে যাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকায় ‘মানবতার দেয়াল’-এর মতো ধারণাগুলো কার্যকর হতে পারে। যার যা প্রয়োজন নেই, সে দেয়ালে রেখে যাবে, আবার অন্য যার প্রয়োজন– সে নিয়ে যাবে। মানবতা রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশকেও রক্ষা করা যাবে, যাতে করে মানবজাতির পাশাপাশি অন্যান্য প্রজাতিও একটু ভালো করে টিকে যেতে পারবে। বিন্দু বিন্দু জুড়ে তবেই গড়ে ওঠে বিশাল মহাসিন্ধু– তাই নিজেদের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসগুলোকে মূল্যহীন ভাবার কিছু নেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকলকে হতে হবে শুধু ফ্যাশনেবল নয়, ‘সাসটেইনেবল ফ্যাশনেবল’।



.

বিন্দু বিন্দু জুড়ে তবেই গড়ে ওঠে বিশাল মহাসিন্ধু– তাই নিজেদের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসগুলোকে মূল্যহীন ভাবার কিছু নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial