ফ্যাশন যখন ফিলোসফির স্টেটমেন্ট fashion statement x bfa x fxyz যডন

ফ্যাশন যখন ফিলোসফির স্টেটমেন্ট

আপনার পোশাক আসলে জীবন এবং বাস্তবতা নিয়ে আপনার বোধ ও বিশ্বাসের অকপট ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আপনার পোশাকটা আপনাকে চেনে তো?

“লোকটির চুল লম্বা। লম্বা চুল মানেই একটা ফ্যাশন এর ব্যাপার।”

এই উক্তিটি হুমায়ূন আহমেদের গল্পসমগ্র থেকে নেয়া। প্রোটাগনিস্ট একজন রিকশাওয়ালাকে দেখে এই মন্তব্যটি করেছিলেন। নিত্যদিনের জীবনযাপনে আমরা প্রায়ই বলে থাকি, আগে দর্শনধারী– পরে গুণবিচারী। কাল্পনিক চরিত্রটিও তা-ই করলেন। এই ‘দর্শন’ পুরোটাই চেহারা ও অবয়বের কথা বলে। কিন্তু দেখাদেখির বাইরেও আরেকখানা দর্শন আছে, যাকে ইংরেজিতে আরেকটু ভারিক্কী চালের মনে হয়। অর্থাৎ, ফিলোসফি।

ফ্যাশন ও ফিলোসফি– শব্দ ও ধারণা দুটো আদতে খুবই পরস্পরবিরোধী মনে হয়, তাই না? কিন্তু যদি বলি ব্যক্তির ফ্যাশনেও তার দর্শন ফুটে ওঠে, তখন আর অতটা অচেনা মনে হয় না। রোজকার প্রয়োজনে পোশাক-আশাক শুধু পরিধান আর তার মধ্যে একটি বিশেষ কায়দার ফ্যাশন ফুটিয়ে তোলার চেষ্টার মধ্যে কিন্তু বেশ ফারাক রয়েছে। এই ফারাকটা বুঝতে হলে, ফ্যাশনের পেছনের ফিলোসফিটা আসলে কী– তা জানতে হবে।

ফ্যাশনের ফিলোসফি

স্রেফ লজ্জা নিবারণের স্বার্থে কাপড়চোপড় পরা আর সেই কাপচোপড়ের নিরীখে নিজেকে তুলে ধরা– এই দুটোর মধ্যে পার্থক্যটাই বলে দেয় একজন ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর ফ্যাশনের পেছনের দর্শন, বা ফিলোসফি। নিজের ভেতরকার সত্যিটা, নিজের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিশাল সব বিষয় বা প্রিয় রং, প্রিয় কার্টুন ইত্যাদি ছোটখাটো পছন্দও উঠে আসে ফ্যাশনের এই ফিলোসফিতে।

ফ্যাশনের ফিলোসফি না থাকলে ভেবে দেখুন তো একজন বাউল কেন গেরুয়া বসন পরবেন? তার মনের গেরুয়া রঙটাই তো তার সর্বাঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে একটা বার্তা দিতে চান। আমাদের রকস্টার জেমস আজীবন কালো পাঞ্জাবি আর একটা জিন্সে স্টেজ থেকে দুনিয়াদারি কাঁপিয়ে গেলেন। জাকারবার্গ সাহেব ওই এক ছাইরঙা টিশার্টেই বহুত!

ফ্যাশন যখন ফিলোসফির স্টেটমেন্ট fashion statement x bfa x fxyz jatra 1

অনুকরণের স্বভাব

মানুষ নাকি বাঁদর থেকেই বিবর্তিত হয়েছে। সেকথা সত্যি হোক, মিথ্যে হোক– মানুষের মধ্যে যে বাঁদরের মতো অনুকরণপ্রিয় স্বভাবটা আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রিয় গায়ক, নায়ক, কবি-সাহিত্যিক এমনকি প্রিয় সংগঠনকেও নিজের মধ্যে ধারণ করার আমাদের যে তীব্র আকাঙ্খা, তার প্রতিফলন ঘটাতেও আমরা সেই পোশাক-পরিচ্ছদে মেখে থাকা ফ্যাশনটাকেই সঙ্গী করি।

একজন হয়তো গায়ক অঞ্জন দত্তের বিশাল ভক্ত। হার্টব্রেক হোক বা বন্ধুদের আড্ডা– গলা ছেড়ে ‘রঞ্জনা আমি আর আসবো না’ আর নয়তো ‘মেরী অ্যান-এর নাম ধরে দুবেলা হাঁকডাক না ছাড়লে একেবারেই হয় না। এখন বাজারে যখন অঞ্জনের গানের লিরিক্স লেখা, অঞ্জনেরই ছবি আঁকা একখানা কালো টিশার্ট আসবে, তখন সেই ভক্তটি নিজেকে খুব একটা দূরে রাখতে পারবে কি না– তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেই হয়। এর খুব সহজ কারণ হচ্ছে, আমরা নিজেদেরকে অন্যের সামনে বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। আমার যদি কোনো একটা বিষয় খুব পছন্দের হয়ে থাকে, সেটিকে আমি আমার পোশাক-পরিচ্ছদ, এককথায় সকলপ্রকার আর্টিফ্যাক্টসের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইবই। আবার এই ইচ্ছেটা অনেক ক্ষেত্রে অনুকরণেরও বটে। বাজারে ছাড়া অঞ্জনের ওই টিশার্টটি অন্য অঞ্জনভক্তরা পরছে বলেও কিন্তু পরতে ইচ্ছে হতে পারে, হাল জমানার ফোমো থেকে বাঁচতে। এদিকে অবশ্য ইউনিফর্মিটিরও একটা আলাপ এসে যায়।

Jatra House No. 63, Road No. 17/A, Block E, Banani, Dhaka, Bangladesh

”যাত্রাভঙ্গ।পূনর্যাত্রা”

যাত্রা বিরতি নতুন ঠিকানায়

বাড়ি নং- ৬৩, রোড নং ১৭/এ, ব্লক -ই, বনানী, ঢাকা
( পুরনো যাত্রা বিরতির পেছনে, পাশের রাস্তা দিয়ে প্রাইম ব্যাংকের পেছনের বিল্ডিং )
SHOP ONLINE: jatrabangladesh.com

jatra biroti fahion show
”যাত্রাভঙ্গ।পূনর্যাত্রা”-তে, ১৫ ই ফেব্রুয়ারী, যাত্রা বিরতি নতুন ঠিকানায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্যাশন শো
JARTA

যাত্রা বিরতি

নতুন ঠিকানায়

পোশাকে ঝলমল– একতাই বল

ফ্যাশন খুব ভালোভাবে একতা বা ইউনিফর্মিটি প্রকাশ করতে পারে। আজকাল গায়ে হলুদ বা বিয়ের অনুষ্ঠান দেখলেই এই কথাটি খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। না, বর বা কনের সাজগোজ দেখে নয়– বরং তাদের বন্ধুবান্ধব, ভাইবোনের পোশাক-আশাক দেখে। কে কনেপক্ষ, কে বরপক্ষ– কার সঙ্গে কার কেমন ভাব জমে আছে, সবই যেন একই ধরনের পোশাক দেখে স্বাচ্ছন্দ্যে বলে দেয়া যায়। ঠিক যেমনটা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগ ডে’র অনুষ্ঠানে, ছেলেরা এক দল, মেয়েরা এক দল হয়ে একই রকম পোশাক পরে হৈচৈ, নাচগানে মেতে থাকে। ওখানে কিন্তু সবাই চাইলে নিজের বিভিন্ন সুন্দর পোশাক পরে উপভোগ করতে পারতো, কিন্তু এসব অনুষ্ঠানে মানুষ নিজেদের মধ্যকার একতাটাকে পোশাকেও নিয়ে আসে এবং একটি উপলক্ষ ভিত্তিক ইউনিফর্ম তৈরি করে। এতে করে তাদের দেখলেই বোঝা যায়, আদর্শে-বিশ্বাসে না হোক অন্তত এই একটি উপলক্ষের জন্য এরা সবাই একই দলের সদস্য।

ফ্যাশন যখন ফিলোসফির স্টেটমেন্ট fashion statement x bfa x fxyz jatra 2

আপনার পোশাক আসলে জীবন এবং বাস্তবতা নিয়ে আপনার বোধ ও বিশ্বাসের অকপট ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। বাধ্যবাধকতা তো থাকেই কাজকর্মের চক্করে, তারপরেও দেখবেন অফিস থেকে বেরিয়ে কারো হয়ত প্রথম কাজটা হলো আনমনে শার্টের হাতটা আরামসে গুটিয়ে নেওয়া। কারও টুপিতে থাকবেন চে, কারো হুডিতে টিনটিন। কেউ বা বয়ে বেড়াবেন শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই। কারও বা হাঁটতে হাঁটতে যা মনে হয় তা তার টিশার্টেও লেখা থাকে- গোটা শহর বাতি জ্বেলে সতর্ক, পায়ে পায়ে হারাবার রাস্তা…

আপনার পোশাকটা আপনাকে চেনে তো?

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা

X (Twitter)
Post on X
Pinterest
fb-share-icon
Instagram
FbMessenger
Open chat
1
Scan the code
Hello
How can i help you?
Skip to content