কেমন-ছিলো-এবারের-ঈদের-ফ্যাশন-how-was-the-eid-ul-fitar-x-bfa-x-fxyz-V2

কেমন ছিলো এবারের ঈদ ফ্যাশন?

সাস্টেইনেবল ফ্যাশন কিছুটা হলেও আমাদের মধ্যে বীজ বপন করতে পেরেছে। আর সেইসাথে জায়গা করে নিচ্ছে মিনিমালিস্ট লুকের প্রতি আগ্রহ।

ইফতারি আর সেহরির সময় জানতে জানতে এরই মাঝে শেষ হয়ে গেলো ২০২৪ সালের রমজান মাস। আর শেষ হয়ে গেলো কাঙ্খিত ঈদের রাত। ঈদের আগে সারা রমজান মাস জুড়ে বেশ ব্যস্ত ছিলো ফ্যাশন হাউজগুলো এবং সেইসাথে ক্রেতাদের মধ্যেও ছিলো সেরা পোশাকটি বেছে নেবার জন্য তাড়াহুড়া। ক্রেতাদের ভিতর কেমন ছিলো এবারের ঈদ ফ্যাশন? এখানে কিছু পাবলিক আইকনের ঈদের পোশাক কেমন ছিলো এবং ব্রান্ডগুলো কি আয়োজন নিয়ে এবারের ঈদ সাজিয়ে ছিলো তার একটা ধারনা দেয়া চেষ্টা করা হলো। আমরা অপেক্ষায় থাকবো আপানাদের এবারের ঈদের পোশাকগুলো কি ছিলো। শেয়ার করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যা আমারা এই আর্টিকেলের সাথে যুক্ত করে দিবো।

প্রতি বছরই ঈদের ট্রেন্ডে নতুন কিছু যোগ হয়, পুরনো কিছু থেকে যায়– চিরাচরিত সাজ ও নতুনের মধ্যে ঘটে এক বিশেষ ধরনের সংমিশ্রণ। আর সে অনুযায়ী বদল ঘটে ক্রেতাদের আচরণেও। যে পোশাকটা আজ থেকে দশ বছর আগে সবচেয়ে সুন্দর আর ফ্যাশনেবল বলে মনে হতো, আজ তাই তা ভীষণই বেমানান লাগে। আরো পাঁচ বছর পরে যে পোশাকটি ফ্যাশন সাম্রাজ্য দাপিয়ে বেড়াবে, তার ছিটেফোঁটাও হয়তো আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এভাবেই চলনে-বলনে আর বদলের ধরনে ফ্যাশন এগিয়ে যায়, সঙ্গী থাকে উৎসবের আনন্দ।

একথা সত্যি যে, যত দিন যাচ্ছে, স্টাইলের সাথে সাথে আরামটাকে ফ্যাশনে আরো বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। পোশাককে আমরা শুধু এক দিন পরার জন্য কিনি না, বরং পরবর্তীতেও যাতে পোশাকটির ভালোরকম ব্যবহার ঘটে– সেদিকেও ক্রেতারা সচেতন হয়েছেন। সাস্টেইনেবল ফ্যাশন কিছুটা হলেও আমাদের মধ্যে বীজ বপন করতে পেরেছে। আর সেইসাথে জায়গা করে নিচ্ছে মিনিমালিস্ট লুকের প্রতি আগ্রহ। নো মেক আপ লুক যখন মেকআপ জগতের রাজা হয়ে উঠছে, তখন পোশাকেও এর ছাপ পড়ছে।

image source : facebook profile of Sakib Bin Rashid

শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, পরতে আরাম হওয়াও চাই– এমনটা প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের আচরণেও। দিনে দিনে বৈশ্বিক উষ্ণতার পারদ যত বেশি চড়ছে, অন্তত বাংলাদেশের ওঠানামা করা গ্রীষ্মতাপের কথা ভেবে হলেও এবার ঈদে পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বেছে নেবার তাগিদ বেড়েছে।

এবার ঈদে গরম থাকবে– এই বার্তাটি যেন এই বসন্তের বাতাসে মিশে থাকা উষ্ণ শ্বাসের সাথেই বুঝে ফেলেছেন ক্রেতামণ্ডলী। পিছিয়ে ছিলেন না ডিজাইনাররাও। তাইতো পোশাকে বেশিরভাগ এগিয়ে থাকছে হালকা রঙগুলো। আসমানি, পাউডার পিংক, পিচ, সাদা, হালকা বেগুনি, প্যাস্টাল গ্রিন ইত্যাদি রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে এর সাথে হালকা কনট্রাস্ট করে আনা হয়েছে কুল টোনের রঙগুলোকেও। বিশেষ করে ইয়েলো, বিবিয়ানা, সৃষ্টি ইত্যাদি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে এমনটাই ঘটেছে।

image source : facebook profile of Sunerah Binte Kamal

আর এই স্বাচ্ছন্দ্যের মনোভাব থেকেই ঈদের বাজারে পোশাকের রঙ, নকশা, ফেব্রিক সব দিক দিয়েই দেখা গেল এক নতুন মিনিমালিস্ট লুক। তবে সেইসাথে চিরাচরিত উৎসব-ভাবের জমকালো ভাবও বাজার ছেড়ে একেবারে চলে যায়নি। ঈদের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে মিনিমালিস্ট লুক যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কটি পরার প্রবণতা। পাঞ্জাবির নকশার সাথে মিলিয়ে ফ্লোরাল বা জ্যামিতিক প্যাটার্নের কটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভেতরে-বাইরে সবভাবেই যারা জাঁকিয়ে উদযাপন পছন্দ করেন, সেই ক্রেতাদের দল এখনো আগের মতোই রয়েছে। সেক্ষেত্রে টার্কিশ ডিজাইন বা মুঘল ধাঁচের পোশাক প্রাধান্য পাচ্ছে, সাথে রয়েছে আরব্য ফ্যাশনের ছোঁয়াও।

অনেকগুলো ফ্যাশন ব্র্যান্ডই অন্যবারের মতো এবারও তাদের ঈদ কালেকশনের বিশেষত্ব হিসেবে রেখেছে এইসব নকশার আধিপত্য। তুর্কী টুপি হোক বা ঢলঢলে কাফতান, জরিসুতার কারুকাজে শেরওয়ানি হোক বা আবায়ার ঢেউ খেলানো ঘের– একটা অভিজাত সাজ আনার জন্য ভালোরকম চেষ্টা চালিয়েছে ফ্যাশন হাউজগুলো। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সেইলর, টুয়েলভ, ভার্গো ইত্যাদি। মজার বিষয় হচ্ছে, গরমকাল নিয়ে এই ব্র্যান্ডগুলোর খুব একটা মাথাব্যথা দেখা যাচ্ছে না, কেননা তাদের পোশাকগুলোর বেশিরভাগই হয় কালো রঙে করা, আর নয়তো ডার্ক টোনের। হয়তো গাঢ় রঙ ছাড়া আভিজাত্যের চেহারাটা অচেনা লাগে, তাই এমন উদ্যোগ।

image source : Facebook profile of Apu Biswas

একইসাথে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাচ্ছে দেশী পণ্যের প্রতি আগ্রহও। শাড়ির বাজার জুড়ে রাজত্ব কড়ছে জামদানি ও টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি। এর পেছনে যে সদ্য জিআই পণ্যের তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ির অন্তর্ভুক্তি ভূমিকা রেখেছে, তাও বেশ ভালো বোঝা যাচ্ছে। সেইসাথে তারকাদের বিয়েতে, গণমাধ্যমে জামদানির ছড়াছড়ি অনেকটা অনুপ্রাণিত করেছে ক্রেতাদেরকে জামদানির প্রতি ঝুঁকতে।

image source : Facebook profile of Jaya Ahsan

দেশী পণ্যের প্রতি আকর্ষণ যেমন বেড়েছে, তেমনি কিছুটা হলেও আছে আমদানিকৃত পোশাক কেনার তাগিদ। সুতি শাড়িতে ‘দেশী পণ্য কিনে হোন ধন্য’ মনোভাব যেমন আছে, তেমনি আবার সিল্কের শাড়ির ক্ষেত্রে অধিকাংশই হচ্ছে ভারত থেকে আনা। তাই আমাদের নিজস্ব রাজশাহী সিল্ক এক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে আছে মাইসোর সিল্কের কাছে।

নকশার ক্ষেত্রে ইক্কত বা জ্যামিতিক প্যাটার্ন, এমব্রয়ডারি,  প্যাচওয়ার্ক, হ্যান্ড স্টিচ, ফ্লোরাল প্রিন্ট এবং ব্লকের কাজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। পোশাকের ফেব্রিকে এগিয়ে থাকছে সুতি কাপড় ও হাফসিল্ক। খাটো নয়, বরং উৎসবের দিনকাল এলেই যেন লম্বা ঝুলের কামিজের চলন বেড়ে যায়। এবারেও তাই ঘটেছে। কামিজের গলা এবং হাতের ডিজাইন নিয়ে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেইসাথে শহুরে নারীদের জন্য কো-অর্ড, অর্থাৎ একই প্রিন্টের সালওয়ার-কামিজের প্রচলন বেড়েছে।

সালওয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে ফেব্রিক হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে সিল্ক এবং এগিয়ে থাকছে বেনারসির মোটিফ, সোনালি-রূপালি জরির পাড় ও ফ্লোরাল প্রিন্ট। পোশাকে অনেক বেশি কনট্রাস্ট না এনে একটা ইউনিফর্মিটি ধরে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমনকি মা-বাবা-সন্তান একই ধরনের পোশাক পরে পরিবারসমেত একই সাজে সাজা, কিংবা প্রিয় বন্ধু-বান্ধবেরা কিনছেন একই ডিজাইনের টি-শার্ট। এমন প্যাকেজ কালেকশন থাকছে লা রিভের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর ঈদ কালেকশনে। তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, নারীদের চেয়ে পুরুষদের সাজে মিনিমালিজম বরাবরের মতোই বেশি স্থান পেয়েছে।

image source : facebook profile of Salman Mohammad Muqtadir

কিছুটা ভিন্ন করার তাগিদ আমাদের ফ্যাশনে সবসময়ই বয়ে আনে এক ভিন্ন মাত্রা। এবারকার বিশ্বরঙের কালেকশনেও এই ভিন্নতাই উদযাপিত হয়েছে। শহুরে জীবনযাত্রায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বহুমাত্রিক রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে তারা ধার করেছে বেশ কিছু নকশা, যা একইসাথে ট্রেন্ড ও ট্র্যাডিশনের সম্মিলন ঘটায়। ঐতিহ্য আর নতুনত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটিয়ে ২০২৪ সালেও বাংলাদেশের ঈদ ফ্যাশন নিজের মতো করে জায়গা করে নিয়েছে ক্রেতাদের মনে, আচরণে।

একেবারে কচিকাচা ক্রেতাদের মধ্যে আছে দুই ভাগ। এক দল চায় বরাবরের মতোই ‘গর্জিয়াস’ জামা, অন্য দল চায় ওয়েস্টার্ন ধাঁচের পোশাক। বড়রাও অবশ্য বাদ নেই পাশ্চাত্যের নকশা থেকে। ফুলেল ঘের দিয়ে সাজানো গাউনও বেছে নিচ্ছেন অনেকে। আর ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ীই দোকানপাট গুলোর চেহারাও সেজেছে– বৈচিত্র্যের আয়োজনে। বাঙালিয়ানা, পাশ্চাত্য, আরব্য-তুর্কী, ভারতীয় ইত্যাদি মোটামুটি সব উপকরণই ছিলো এই ঈদ ফ্যাশনের ঝুলিতে।

ঈদের দুই-তিনদিন পরই এবার পহেলা বৈশাখ। ঈদ আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই চলে আসলো বলে নববর্ষের পান্তা-ইলিশ আর সেইসাথে বাঙালিয়ানার সাজ। তাই অনেকেই এক বাজেটে যাতে দুই উপলক্ষের পোশাক বেছে নিয়েছেন হয়তো। দেখা হবে নববর্ষের আনন্দে। আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা।

পহেলা-বৈশাখ-PAHELA-BAISHAKH-বাঙালির-অন্যতম-বড়-উৎসব-x-bfa-x-fxyz


dyeing technique কাপড়ের রং করার পদ্ধতি Shibori dyeing x bfa x fxyz

কাপড়ে রঙ করার টেকনিক: যেখান থেকেই শুরু নকশার গল্প

এই টেকনিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে poetic বলা যায় শিবোরিকে। জাপানের একটা পুরোনো resist dyeing technique, যার ইতিহাস

Sustainable Fashion-এর আলোচনায় Natural Dye x bfa x fxyz V2

প্রকৃতি, কারিগর আর ফ্যাশন—Natural Dye-এর গল্প

Natural dye হয়তো পুরো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বদলে দেবে না কিংবা natural dye-এর উপর নির্ভর করবে না। কিন্তু এটি আমাদের একটা…

Sreetwear trend আজকের দিনে স্ট্রিটওয়্যার ট্রেন্ড নাকি কালচর x bfa x fxyz

আজকের দিনে স্ট্রিটওয়্যার: ট্রেন্ড নাকি কালচর?

স্ট্রিটওয়্যার মানে খুব সহজ একটা কথা—নিজের মতো করে পোশাক পরা। নিয়ম ভাঙা। আর নিজের গল্পটা নিজের ভাষায় বলা।

Fast Fashion ফাস্ট ফ্যাশন x bfa x fxyz

ফাস্ট ফ্যাশন-ট্রেন্ড বদলায়, কিন্তু বর্জ্য থেকে যায়

অনলাইন শপিং বাড়ার পর ফাস্ট ফ্যাশন আরও জনপ্রিয় হয়েছে। ফোনে স্ক্রল করতে করতে একটা কিছু ভালো লাগলো, কার্টে দিলাম, দুই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial