প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন মাটিরঘর

কেউ কেউ মাটিরঘরকে শান্তির নীড় বা বালাখানাও বলে থাকেন।

প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন মাটিরঘর। কেউ কেউ মাটিরঘরকে শান্তির নীড় বা বালাখানাও বলে থাকেন। মাটিরঘর মানে একটি প্রাকৃতিক এয়ার কুলারের ঘর। শীতকালে যেমন গরম অনুভব হতো তেমনি গ্রীষ্মকালেও মাটির ঘরে থাকতো শীতল অনভূতি। যা বর্তমানে যুগের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতোই আরামদায়ক।

আগেকার দিনে অনেক মাটির বাড়ি দেখা গেলেও এখন তেমন মাটির বাড়ি দেখতে পাওয়া যায় না। মাটির দুই তলা বিশিষ্ট বাড়ি একেবারেই বিলুপ্ত। মানুষের আধুনিক জীবনযাপনের ইচ্ছা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবাই মাটির ঘর ভেঙে টিন আর ইটের পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন। তবে গাজিপুরে দেখলাম গ্রামগুলোতে এখনো মাটির বাড়ি দেখা যাচ্ছে। তবে কালের বিবর্তনে আর কেউ নতুনভাবে মাটির বাড়ি তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছে না। সবাই পাকা ইটের বাড়ি তৈরীতে আগ্রহী।

mud house in bangladesh প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন মাটিরঘর x bfa x fxyz i1
How are mud houses made?

মাটিরঘর কিভাবে বানানো হয়

এই ঘর তৈরী করার জন্য প্রয়োজন হতো এঁটেল বা দো—আঁশ মাটি।  যে মাটি দিয়ে ঘর তৈরী করা হবে সেই মাটি কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে ঝুর—ঝুরে করে নেওয়া হতো। তার পর তার সাথে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাঁদা করে নেয়া হতো। তার পর সেই কাঁদামাটি দিয়ে তৈরী করা হতো মাটির ঘর।

অল্প—অল্প করে মাটি বসিয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট উচু করে এবং সেই কাঁদায় ২৫/৩৫ ইি  চওড়া করে দেয়াল তৈরী করা হতো। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরী করা হতো। এভাবে দেয়াল তৈরী করা হলে কিছু দিন রোদে শুকানো হতো। তারপর এই দেয়ালের উপর বাঁশের চাল তৈরী করে খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হতো। একটি মাটির ঘর তৈরী করতে ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতো। 

কোনো কোনো ঘরের দেয়ালজুড়ে নানান রকমের ফুলেল নকশা, লতাপাতার কারুকার্য করা থাকতো।

যারা মাটির ঘর নির্মাণ করেন তাদের ‘দেল বারুই’ বলে।

আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা


আমাদের সাথে সংযুক্ত হতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম


তথ্যসূত্র

bd-journal.com

protidinerdak.com


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial