প্রকৃতিকে ভালোবাসে বলেই মানুষ প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে চায়। প্রকৃতিও তার সৌন্দর্যের অপরূপ ভাণ্ডার মেলে ধরে কাছে টানে। এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই ব দ্বীপে পরিচিত অপরিচিত দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলা নিকেতন । এদেশে রয়েছে পাহাড়, সাগর, মাঠ, বিশাল নীল আকাশ– যা এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। পাহাড়, জলপ্রপাত, বনভূমি, নদী এদেশকে করে তুলেছে অপূর্ব রূপময়। বিশাল সৌন্দর্য ভান্ডার থেকে বাংলাদেশের সাজেক ভ্যালী | SAJEK VALLEY সম্পর্কে জানা যাক ।
সাজেক ভ্যালী | SAJEK VALLEY
সাজেক ভ্যালি এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিনটি রূপ দেখতে পাবেন । কখনও বা খুব গরম অনুভূত হবে, তারপর হটাৎ হালকা থেকে ঝুম বৃষ্টি আবার চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশা যা আপনাকে ছুয়ে যাচ্ছে । এই মেঘের চমৎকৃত খেলা আরো একটা সময় দেখতে পাবেন। তা হলো খুব সকাল বেলা। সূর্যদয়ের সময় এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে তুলোর কার্পেট বিছিয়ে রাখে । আর আপনি উপর থেকে এই বৈচিত্রময় দৃশ্য দেখে বিমোহিত হবেনই ।
আর সন্ধ্যার পর রাতের আকাশ তো কোটি কোটি তারার পশরা সাজিয়ে বসে । আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখা মিলবে মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের ।
সাজেক ভ্যালির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ১৮০০ ফুট। যা রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার।
সাজেক ভ্যালি কিভাবে যাবো
সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। এছাড়া রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে পায়ে হেঁটে সাজেক যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকে যেতে চাইলে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়া যায় । খাগড়াছড়ি পৌছে সেখান থেকে চান্দের গাড়ি কিংবা সিএনজি নিয়ে সাজেক যাওয়া যায় ।
খাগড়াছড়ি থেকে যেতে হলে দীঘিনালা সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পার হয়ে সাজেক যেতে হয়। সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পার হয়ে ১০নম্বর বাঘাইট হাট পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্প। এখান থেকেই প্রথমে যাওয়ার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ। যা কাসালং নদীর উপরে অবস্থিত। এর পর পড়বে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রু্ইলুই পাড়া।
সমতল থেকে এই রুইলই পাড়া গ্রামের উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এই গ্রামের আদি জনগোষ্ঠী লুসাইদের বসবাস। এছড়া পাংকুয়া এ ত্রিপুরারও বাস করে। রুইলুই পাড়া থেকে অল্প সময়ে পৌঁছে যাবেন সাজেক ভ্যালি।
সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজিবি ক্যাম্প।

সাজেক ভ্যালিতে ঘোরাঘুরি
সাজেকের রুইলই পাড়া থেকে দুই থেকে আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর কমলক ঝর্ণা। সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া। এটিও লসুই জনগোষ্ঠীদের একটি গ্রাম। কংলক পাড়া থেকে ভারতে লুসাই পাহাড় দেখা যায়। আর এই লুসাই পাহাড় থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি। সাজেক থেকে ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহারও দেখা মেলে।
সাজেক ভ্যালিতে কোথায় থাকবো
সাজেক ভ্যালিতে থাকবার জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ শখানেক রিসোর্ট আছে । সেনাবাহিনীর তিনটি রিসোর্ট ছাড়াও আদিবাসীদের কটেজ গুলোতে থাকতে পারবেন । এ কটেজ গুলো তুলনামূলক কম ভাড়াতে পাওয়া যায় । সাজেকের সব কটেজ থেকেই সুন্দর ভিউ পাওয়া যায় ।
সাজেক ভ্যালি বাড়তি সতর্কতা
- সাজেকে অনেক জায়গায় বিদ্যুত নেই । সোলার প্লান্ট ব্যাবস্থা আছে । সাথে পাওয়ার ব্যাক রাখতে পারেন ।
- মোবাইল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে রবি এবং টেলিটক এর সার্ভিস ভালো ।
- ঝামেলা এড়াতে কটেজ কিংবা রুম বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো ।
- আদিবাসীরা খুব সহজ সরল । তাদের সাথে ভদ্র ব্যাবহার করুন। এবং তাদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নিবেন।
সোর্স-
জাতীয় পত্রিকা















