Sreetwear trend আজকের দিনে স্ট্রিটওয়্যার ট্রেন্ড নাকি কালচর x bfa x fxyz

আজকের দিনে স্ট্রিটওয়্যার: ট্রেন্ড নাকি কালচর?

স্ট্রিটওয়্যার মানে খুব সহজ একটা কথা—নিজের মতো করে পোশাক পরা। নিয়ম ভাঙা। আর নিজের গল্পটা নিজের ভাষায় বলা।

স্ট্রিটওয়্যার

STREETWEAR

স্ট্রিটওয়্যার কি শুধু ট্রেন্ড? না। এটা একটা কালচার। স্ট্রিটওয়্যার মানে নিজের পরিচয় নিজের মতো করে তুলে ধরা। এটা প্রতিবাদও হতে পারে, আবার স্রেফ আরামও হতে পারে। কখনও এটা রাজনৈতিক বার্তা দেয়, কখনও শুধু বলে—“আমি আমার মতো।”

স্ট্রিটওয়্যারের উদ্ভব

স্ট্রিটওয়্যার আধুনিক ফ্যাশনের একটি স্টাইল, যা মূলত শহুরে বা আর্বান কালচারের অংশ। সহজ করে বললে, আজকের জেন–জি এই কালচারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে স্ট্রিটওয়্যার যে শুধু জেন–জিদের উদ্ভাব—তা নয়। ট্রেন্ড হয়ে ওঠার পেছনে আছে এক দীর্ঘ ও ইন্টারেস্টিং ইতিহাস।
স্ট্রিটওয়্যার ফ্যাশনের উদ্ভব মূলত ১৯৭০ ও ৮০–এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শহুরে সংস্কৃতি থেকে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্কেটবোর্ডিং ও সার্ফিং কালচার থেকে এর শুরু, পরে তা নিউ ইয়র্কের হিপ–হপ ও গ্রাফিটি সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এক সময় বৈশ্বিক ফ্যাশন ধারায় পরিণত হয়।
নিউ ইয়র্কের হিপ–হপ সংগীত ও আর্ট মুভমেন্টের সঙ্গে স্ট্রিটওয়্যার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হিপ–হপ শিল্পীরা বড় লোগোযুক্ত পোশাক, গ্রাফিক প্রিন্টেড টি–শার্ট, স্নিকার্স এবং ওভারসাইজড জ্যাকেট বা প্যান্ট পরতেন। এই স্টাইলই ধীরে ধীরে স্ট্রিটওয়্যারের ভিত্তি গড়ে তোলে।
এর পাশাপাশি গ্রাফিটি শিল্পীরাও বড় ভূমিকা রাখেন। তারা আর্ট ও ফ্যাশনের মিশ্রণ ঘটিয়ে কাস্টমাইজড এবং এক্সক্লুসিভ পোশাকের ধারণা সামনে আনেন। ফলে স্ট্রিটওয়্যার শুধু পোশাক না, বরং এক ধরনের প্রকাশভঙ্গিতে পরিণত হয়।

স্ট্রিটওয়্যারের বিস্তার

১৯৮০–এর দশকে স্ট্রিটওয়্যার আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে Supreme, Stüssy এবং A Bathing Ape (BAPE)–এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে এই ধারা বড় আকার পায়। স্কেট ও হিপ–হপ–প্রভাবিত ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব স্ট্রিটওয়্যার কালেকশন তৈরি করতে শুরু করে, যা তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
পরবর্তী সময়ে স্ট্রিটওয়্যার স্নিকার কালচার, জাপানি ফ্যাশন এবং এমনকি লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যেও জায়গা করে নেয়। এক সময় হাই ফ্যাশন ও স্ট্রিট কালচারের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসে।

কিছু বিখ্যাত স্ট্রিটওয়েয়ার ব্র্যান্ডের

১. Supreme
উৎপত্তি: নিউ ইয়র্ক, ১৯৯৪

২. Stüssy
উৎপত্তি: ক্যালিফোর্নিয়া, ১৯৮০

৩. A Bathing Ape (BAPE)
উৎপত্তি: জাপান, ১৯৯৩

৪. Off-White
উৎপত্তি: ইতালি, ২০১২ (প্রতিষ্ঠাতা: ভার্জিল অ্যাবলো)

৫. Palace Skateboards
উৎপত্তি: লন্ডন, ২০১০

৬. Kith
উৎপত্তি: নিউ ইয়র্ক, ২০১১

৭. Fear of God
উৎপত্তি: যুক্তরাষ্ট্র, ২০১৩ (প্রতিষ্ঠাতা: জেরি লরেঞ্জো)

৮. Neighborhood
উৎপত্তি: জাপান, ১৯৯৪

৯. Carhartt WIP
উৎপত্তি: যুক্তরাষ্ট্র (মূলত ওয়ার্কওয়্যার ব্র্যান্ড), WIP লাইন ১৯৮৯ সালে ইউরোপে শুরু

১০. The Hundreds
উৎপত্তি: লস অ্যাঞ্জেলেস, ২০০৩

এই ব্র্যান্ডগুলো স্ট্রিটওয়েয়ার ফ্যাশনের প্রধান চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্টাইল ও ট্রেন্ডের উদাহরণ স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশে স্ট্রিটওয়্যার

এখন বাংলাদেশেও স্ট্রিটওয়্যার শুধু একটি ট্রেন্ড নয়, বরং ধীরে ধীরে লাইফস্টাইল হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও গ্লোবাল পপ কালচারের প্রভাবেই এই ধারা ছড়িয়ে পড়ে। ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, কে–পপ ও হিপ–হপ তরুণদের পোশাকের ভাষা বদলে দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি, বনানী কিংবা চট্টগ্রামের ক্যাম্পাসে এখন হুডি, ওভারসাইজ টি–শার্ট, ব্যাগি প্যান্ট খুব সাধারণ দৃশ্য। আগে যেখানে জিন্স আর ফরমাল শার্ট ছিল নিয়ম, এখন সেখানে কার্গো প্যান্ট ও স্নিকার্স জায়গা করে নিয়েছে।
আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো অনলাইন ব্র্যান্ডের উত্থান। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম–ভিত্তিক অনেক উদ্যোক্তা এখন গ্রাফিক টি–শার্ট, স্ট্রিট স্টাইল জ্যাকেট ও ক্যাপ তৈরি করছেন। অনেক সময় এগুলোতে স্থানীয় মোটিফ বা বাংলা টাইপোগ্রাফি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে স্ট্রিটওয়্যার একটি লোকাল পরিচয়ও পাচ্ছে।
বাংলা লেখা গ্রাফিক টি–শার্ট, দেশীয় রঙের ব্যবহার, এমনকি লোকাল স্ল্যাং—এসব স্ট্রিটওয়্যারকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে। এটি এখন শুধু “ইমপোর্টেড ট্রেন্ড” নয়, বরং তরুণদের নিজস্ব প্রকাশের মাধ্যম।

স্ট্রিটওয়্যার কেন এত জনপ্রিয়?

কারণ তরুণরা নিয়ম ভাঙতে ভালোবাসে। স্ট্রিটওয়্যার বলেছে—ফ্যাশন শুধু এলিটদের জন্য না। সাধারণ মানুষও নিজের স্টাইল নিজে তৈরি করতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সেলিব্রিটি কালচার এই জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ বড় বড় বিলাসবহুল ব্র্যান্ডও স্ট্রিটওয়্যার থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। হাই ফ্যাশন আর স্ট্রিট কালচার এখন অনেকটাই মিশে গেছে।
এখন স্ট্রিটওয়্যার শুধু শহরের রাস্তা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই। এটি র‍্যাম্প, লাক্সারি ব্র্যান্ডের অংশ হয়েছে, এমনকি অফিস ফ্যাশনেও ঢুকে পড়েছে।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—যতদিন মানুষ নিজের স্টাইল নিজে বানাতে চাইবে, ততদিন স্ট্রিটওয়্যার বেঁচে থাকবে। কারণ শেষ পর্যন্ত স্ট্রিটওয়্যার মানে ফ্যাশনকে নিজের মতো করে নেওয়া।

স্ট্রিটওয়্যার কি শুধু ট্রেন্ড? না। এটা একটা কালচার। স্ট্রিটওয়্যার মানে নিজের পরিচয় নিজের মতো করে তুলে ধরা। এটা প্রতিবাদও হতে পারে, আবার স্রেফ আরামও হতে পারে। কখনও এটা রাজনৈতিক বার্তা দেয়, কখনও শুধু বলে—“আমি আমার মতো।”

স্ট্রিটওয়্যার স্টাইল



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial

Warning: Undefined array key "sfsi_threadsIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 165

Warning: Undefined array key "sfsi_blueskyIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 170
error

Your share and comment are an inspiration to us