সত্যজিৎ রায় শুধুমাত্র স্ক্রিপ্ট কিংবা লাইট এন্ড অ্যাকশন এর ডিরেক্টশনই নয়, ছায়াছবি নির্মানের প্রত্যেকটা ধাপ, কাস্টিং থেকে শুরু করে পোস্টার ডিজাইনিং, ছায়াছবির টাইটৈলকার্ডের লেখার ধরন, আবহ সঙ্গিত, লোকেশন বাছাই,
Ray is widely considered one of the greatest and most influential film directors in the history of cinema.
ছবিসূত্র:
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ
সত্যজিৎ রায় ছিলেন একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, যাকে বিংশ শতাব্দীর সেরা চলচ্চিত্র পরিচালকদের মধ্যে গণ্য করা হয়।
সত্যজিৎ রায় শুধুমাত্র একজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন না , সত্যজিৎ রায় ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক । সত্যজিৎ রায় শুধু দেশের নয় , বহু আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠ পুরস্কারগুলাে অর্জন করেন একাধিকবার । এক হিসাবে জানা যায় , ১৯৮৪ সন পর্যন্ত তিনি মােট ২৮ টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন , যা বিশ্বের চলচ্চিত্র ইতিহাসে আর কারাে পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি ।
চলচ্চিত্র মাধ্যমে সত্যজিৎ চিত্রনাট্য রচনা, চরিত্রায়ন, সঙ্গীত স্বরলিপি রচনা, চিত্রগ্রহণ, শিল্প নির্দেশনা, সম্পাদনা, শিল্পী-কুশলীদের নামের তালিকা ও প্রচারণাপত্র নকশা করাসহ নানা কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।
বাবা এবং ঠাকুরদার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রেই শিল্প সাহিত্যের প্রতিভা লাভ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।
আন্তর্জাতিক চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী .
. সত্যজিৎ রায় ০২ মে ১৯২১ সালে কলকাতায় একটি বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জে মহকুমার (বর্তমানে বাংলাদেশ) কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে। তার পিতা বাংলা শিশু সাহিত্যে খেয়াল রসের স্রষ্টা সুকুমার রায় , মাতা সুপ্রভাদেবী । যে সময়ে সত্যজিৎ রায়ের বয়স মাত্র তিন বছর, তার বাবা সুকুমার রায় মারা যান।
এই বংশেরই উপেন্দ্রকিশাের রায়চৌধুরী ছিলেন শিশু সাহিত্যিক , সংগীত , চিত্রশিল্পী ও যন্ত্রকুশলী । সত্যজিৎ ছিলেন তারই পৌত্র ।
বাবা এবং ঠাকুরদার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রেই শিল্প সাহিত্যের প্রতিভা লাভ করেছিলেন সত্যজিৎ । স্কুলে থাকতে বাড়ির সংগ্রহের রেকর্ড শুনে পাশ্চাত্য সঙ্গীতে দীক্ষিত হয়ে যান । ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হিসেবে এর পাশাপাশি ব্রহ্মসঙ্গীত , রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতিও অনুরাগ জন্মেছিল ।
চিত্রশিল্পের চর্চা বাল্যবয়স থেকেই ছিল । বি . এ পাশ করার পর শিল্প শিক্ষার জন্য ভর্তি হন রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে । কিন্তু আধুনিকমনা সত্যজিতের পক্ষে এখানকার পরিবেশ মনঃপুত না হওয়ায় শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই কলকাতায় চলে আসেন ।
১৯৪০ খ্রিঃ তিনি ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন কোম্পানি ডিজে কিমার সংস্থায় জুনিয়র ভিসুয়ালাইজার হিসেবে যােগ দেন । এই সময়েই তিনি সিগনেট প্রেস প্রকাশন সংস্থার বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা শুরু করেন । ছােটদের পত্রিকা মৌচাকেও তার প্রথম আঁকা অলঙ্করন প্রকাশিত হয় ।
কয়েক বছরের মধ্যেই বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের আর্ট ডিরেক্টারের পদে উন্নীত হন । তার প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালীর সাফল্যের পর ১৯৫৬ সালে চাকরিতে ইস্তফা দেন ।
পথের পাঁচালী, অপরাজিত (১৯৫৬) ও অপুর সংসার (১৯৫৯) – এই তিনটি একত্রে অপু ত্রয়ী নামে পরিচিত, এবং এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী সত্যজিতের জীবনের শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বহুল স্বীকৃত।
১৯৫৬ সালে পথের পাঁচালী কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট এর প্রশংসাপত্র লাভ করে । এরপর ১৯৬৬ খ্রিঃ পর্যন্ত পথের পাঁচালী বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্রোৎসবে পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছে ।
১৯৪৯ সালে, রায় তার দূরবর্তী আত্মীয় এবং তার দীর্ঘদিনের প্রিয়তমা বিজয় রায়কে বিয়ে করেন। তার একটি ছেলে ছিল, সন্দীপ, যে এখন নিজেই একজন চলচ্চিত্র পরিচালক।
১৯৯২ সালে, হৃদরোগের জটিলতার কারণে সত্যজিৎ রায়ের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিনি আর সুস্থ হয়ে ওঠেন না এবং তাঁর ৭১তম জন্মদিনের ৯ দিন আগে ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান।
অস্কার পুরষ্কার হাতে সত্যজিৎ রায়
Image Source: Oscars
Satyajit Ray
সত্যজিৎ রায়ের পুরস্কার ও সম্মাননা
সত্যজিৎ রায় ভারত সরকার কর্তৃক ৩২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরষ্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৯ সালে ১১তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, তিনি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হন।
বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে, তিনি মাত্র চারজন চলচ্চিত্র নির্মাতার একজন যিনি সেরা পরিচালকের জন্য একাধিকবার সিলভার বিয়ার জিতেছিলেন, সাতটি সহ সর্বাধিক গোল্ডেন বিয়ার মনোনয়নের রেকর্ড গড়েছিলেন।
ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে, যেখানে তিনি পূর্বে অপরাজিতার (১৯৫৬) জন্য গোল্ডেন লায়ন জিতেছিলেন, ১৯৮২ সালে তিনি গোল্ডেন লায়ন অনারারি পুরস্কারে ভূষিত হন। একই বছর, তিনি ১৯৮২ সালে কানে সম্মানসূচক “হোমেজ এ সত্যজিৎ রায়” পুরস্কার পান।
চার্লি চ্যাপলিনের পর সত্যজিৎ রায় হল দ্বিতীয় চলচ্চিকার যাকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৮৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ১৯৮৭ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক লিজিয়ন অফ অনারে সম্মানিত হন।
ভারত সরকার তাকে ১৯৬৫ সালে পদ্মভূষণ এবং তার মৃত্যুর কিছু আগে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, ভারতরত্ন দিয়ে সম্মানিত করে।
অস্কার পুরষ্কার হাতে সত্যজিৎ রায়; Image Source: Oscars
সত্যজিৎ রায়ের সাহিত্যকর্ম
সত্যজিৎ রায় যেমন ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালি ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, তেমনই তিনি বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্যও বিখ্যাত। তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র হল গোয়েন্দা ফেলুদা, বৈজ্ঞানিক প্রফেসর শঙ্কু ও তারিনীখুড়ো। তিনি এই তিনটি চরিত্র ছড়াও অনেক ছোট উপন্যাস ও ছোট গল্প রচনা করেছেন। তারঁ লেখার মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর তরুণ পাঠক বর্গ, যদিও তিনি সবার কাছেই প্রিয় লেখক ছিলেন।
তাঁর অধিকাংশ উপন্যাস ও গল্প প্রকাশ হয় কলকাতার আনন্দ প্রকাশনের মাধ্যমে, এবং তাঁর অধিকাংশ স্ক্রীনপ্লেগুলি তাঁর বন্ধু নির্মাল্য আচার্য সম্পাদিত “ঈক্ষণ” নামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের মঝামাঝি তাঁর অনেক চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখা এবং ছোত গল্পের সংকলন পাশ্চাত্যেও প্রকাশিত হয়। তাঁর অনেক গল্পই ইংরাজিতে অনুদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।
ফেলুদা সিরিজ
ফেলুদা, যাঁর আসল নাম প্রদোষ চন্দ্র মিত্র, হলেন কলকাতাবাসী একজন শখের গোয়েন্দা. সাধারণতঃ তাঁর সঙ্গী দু’জন: তোপসে (তাঁর খুড়তুতো ভাই- তপেশ রঞ্জন মিত্র) এবং লালমোহনবাবু (লালমোহন গাঙ্গুলী যিনি নিজে জটায়ু ছদ্মনামে রহস্য রোমাঞ্চের গল্প লেখেন।) সত্যজিৎ রায় ৩৫টি ফেলুদার গল্প লেখেন, যার সবই খুব জনপ্রিয় হয় এবং এর মধ্যে দু’টিকে নিয়ে তিনি নিজেই চলচিত্র তৈরি করেন – সোনার কেল্লা (চলচ্চিত্র) (The Golden Fortress) (1974) এবং জয় বাবা ফেলুনাথ (The Elephant God) (1978).
অন্যান্য ছোট গল্প তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্রগুলির গল্প ছাড়াও সত্যজিৎ রায় আরো নানা গল্প রচনা করেছেন। এগুলির অনেকগুলিই সন্দেশ পত্রিকায় অথবা বারোটি করে গল্পের সংকলন হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে- যেগুলি সরচিপূর্ণ পটভুমিকায় গড়ে তোলা, এবং গল্প হিসাবে প্রায় শেষ অবধি সাদামাঠা কিন্তু সমাপ্তির ঠিক আগে গল্প অদ্ভুত মোড় নিয়ে পাঠককে অবিস্মরণীয় অনুভুতির স্বাদ দিয়েছে। অধিকাংশ গল্পেই দেখানো হয়েছে কিভাবে সামান্য কোন ঘটনা কারুর জিবনে গভীর রেখাপাত করেছে, আবার কোন কোনটি রোমহর্ষক ভয়ের গল্প। এদের ভাষা খুবই সরল ও সাবলীল।
সত্যজিৎ রায় অনেক ছোট গল্প ইংরাজী থেকে অনুবাদও করেন যেগুলি বেশীরভাগই রোমাঞ্চকর গল্প যাদের মধ্যে কয়েকটি ব্রাজিলের কালো বাঘ বইটিতে প্রকাশিত হয়।
প্রোফেসর শঙ্কু
১ প্রোফেসর শঙ্কু-নিউ স্ক্রিপ্ট, ২ প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা ৩ সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু ৪ মহাসংকটে শঙ্কু ৫ স্বয়ং প্রোফেসর শঙ্কু ৬ শঙ্কু একাই ১০০ ৭ পুনশ্চ প্রোফেসর শঙ্কু ৮ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু
তারিণী খুড়োর গল্প
তারিণী খুড়ো হলেন একজন চিরকুমার (অবিবাহিত) মজলিশি বৃদ্ধ যিনি যিনি নিজের জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প বলতে ভালোবাসেন। তাঁর অনেক গল্পই রোমাঞ্চকর ভয়ের বা ভুতের গল্পের মত হয়ে যায় আবার অনেক গল্পে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কবিতা সত্যজিৎ রায় বেশ কিছু কবিতা অনুবাদ করেন ও কয়েকটি লিমেরিক রচনা করেন যেগুলির সংকলন – ‘তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম’ নামে প্রকাশিত হয়।
মোল্লা নাসীরুদ্দীনের গল্প মধপ্রাচ্যের মোল্লা নাসীরুদ্দীনের অনেকগুলি গল্প সংগ্রহ করে সত্যজিৎ রায় মোল্লা নাসীরুদীনের গল্প নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেন।
অন্যান্য ফটিকচাঁদ গল্পটি একটি কিশোরকে নিয়ে; সুজন হরবোলা একজন হরবোলার কাল্পনিক জীবনবৃত্তান্ত যা সত্যজিৎ পরে সিনেমার রূপ দিয়েছেন। একেই বলে শুটিং সত্যজিত রায়ের নিজের শুটিংএর অভিজ্ঞতা ও চিন্তা ভাবনাকে নিয়ে লেখা. যখন ছোটো ছিলাম হল তাঁর বাল্যকালের স্মৃতিচারণ। Our Films, Their Films (আমাদের ছবি, তাদের ছবি) তাঁর চলচিত্র সমলোচনার সংকলন। বিষয় চলচ্চিত্র (১৯৮২) তাঁর লেখা চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রবন্ধের একটি সংকলন।
সিনেমায় পোশাক পরিকল্পনা ও সত্যজিৎ রায়
পোশাকের নকশার ব্যবহার এবং সিনেমায় পোশাক পরিকল্পনা -র ক্ষেত্রে বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য রয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন কারনে বাংলা সিনেমায় একটি বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির রয়েছে একটি পুরানো সাংস্কৃতিক ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গ সিনেমা বলতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা শহরে টালিগঞ্জ ভিত্তিক বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে বোঝায়। পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আর্ট ফিল্মগুলির তৈরীর জন্য পরিচিত এবং বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র এবং নির্মাতা আন্তর্জাতিক প্রশংসা অর্জন করে। তেমনই একজন সত্যজিৎ রায়। তার রয়েছে একটি গৌরবময় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি। তার প্রতেকটি সিনেমা চিন্তার খোরাক যোগায়। চিত্রনাট্য, ক্যামেরার ফ্রেমিং কিংবা সেট ডিজাইন বা পোশাক পরিকল্পনা, সব কিছুতে তার ছিল নিজস্বতা। এখানে সিনেমায় পোশাক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তার চিন্তা ভাবনার বিষয়গুলো আলোচনা করা যেতে পারে। যা এককটি দলিল হয়ে আছে ।
পোশাক পরিকল্পনায় যে বিষয় গুলো দেখা যায়
১. জাতিগত এবং নিজস্বতা পরিচয়ের বহি:প্রকাশ ২. সামাজিক মুল্যবোধ এবং ৩. সামাজিক অবস্থান এবং সম্পদের সংকেত
সত্যজিৎ রায় এবং পোশাক পরিকল্পনা
শুধুমাত্র স্ক্রিপ্ট কিংবা লাইট এন্ড অ্যাকশন এর ডিরেক্টশনই নয়, ছায়াছবি নির্মানের প্রত্যেকটা ধাপেই তিনি নিজ হাতে করেছেন। কাস্টিং থেকে শুরু করে পোস্টার ডিজাইনিং, ছায়াছবির টাইটৈলকার্ডের লেখার ধরন, আবহ সঙ্গিত, লোকেশন বাছাই, পোশাক পরিকল্পনা, সেট নির্মান সর্বাত্রই নিজস্বতা হাজির করেছেন। পোশাক পরিকল্পনায় সত্যজিৎ রায় কেমন তার একটি নিবন্ধন খুজে পাওয়া যায় ‘আনন্দভুবন’ পত্রিকায় ১লা জুলাই ১৯৯৮ সংখ্যায়। তার একটা সংযুক্ত করা হল ।
হীরক রাজার দেশে
১. ’হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার নামচরিত্র হীরক রাজা স্বৈরাচারী ছিলেন। তার চরিত্রে কালো দিকের কথা ভেবেই সম্ভবত গাঢ় রঙেরেোপশাক পানো হয়েছে। হীরক রাজার ভুমিকায় অভিনয় করেছেন উৎপল দত্ত
গুপি গাইন বাঘা বাইন
২. ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ সিনেমায় জাদুকর বরফির পোশাক পুরোটাই সত্যজিৎ রায়ের করা । আজব এবং মৈালিক
ঘরে-বাইরে
৩. ‘ঘরে-বাইরে’ সিনেমায় ভিক্টর ব্যানার্জি আদ্দির, সিল্ক, খদ্দর পাঞ্জাবি আর নান্দনিক কাশ্মিরি সালের ব্যাবহার দেখা যায় । স্বতীলেখা সেনগুপ্ত ব্লাউজ ট্রেয়াল দেবার দৃশ্যে পরেন পাঁচটারও বেশি ব্লাউ্জ যা প্রতেকটাই সত্যাজিৎকৃত ডিজাইন
মহানগর
৪. ’মহানগর’ সিনেমাতে চাকরিরত মাধবী আধূনিক হয়ে উঠেছেন। এক-সময় দেখা যায় পাতলা আর আধুনিক ডিজাইনের ব্লাউজের নিচে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাটারফ্লাই অন্তবাস।
জয় বাবা ফেলুনাথ
৫. ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবিতে ধুতি, পাঞ্জাবি , জ্যাকেট ও বিদ্যাসাগরীয় চটি ছাড়া লালমোহন বাবুকে চিন্তা করাই যায় না । সন্তোষ দত্ত এই পোশাকে লালমোহন বাবু হিসেবে চিরদিনের মত সবার মনে গেঁথে আছেন ।
তার প্রায় তিরিশটিরও অধিক সিনেমা রয়েছে যেখানে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী চরিত্র রূপায়ন করা হয়েছে ।
পোশাকপরিকল্পনায় যে বিষয় গুলো থাকা দরকার
১. গল্প বলা এবং চরিত্র তৈরীতে পোশাক সহায়তা করে থাকে। একজন অভিনেতা তার চরিত্র বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য পোশাক এবং মেকাপ এর উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে ।
২. গল্প বলার জন্য পোশাকের রঙ, পোশাকের নকশা অন্যতম। পোশাকের সাথে সেট এবং সেট এর সাথে ফ্রেম থেকে ফ্রেম এর সাদৃশ্য করা পোশাকের প্রধান উপাদান
৩. একটি সিনেমার সময়কাল, ইতিহাস কিংবা ভবিষ্যত কল্পনা তাতক্ষনিক ভাবে পোশাক দ্বারা সংঞ্জায়িত করা যায়।
৪. নিজস্ব সংস্কৃতি এবং পরিচয় তুলে ধরা যায় পোশাক পরিকল্পনার মাধ্যামে।
৫. সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ সময়ের ফ্রেমে পোশাক পরিচ্ছদ দর্শকদের জন্য প্রভাব ফেলে।
সিনেমা এমন একটি শিল্পরূপ এবং শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম যা খুব সহজে সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আর অন্যান্য সংস্কৃতি থেকে স্বদেশীয় পোশাকের মাধ্যমে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব । একজন নির্মাতাকে চিত্রায়নে সক্ষম হতে হবে মাত্র ।