প্রকৃতিকে ভালোবাসে বলেই মানুষ প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে চায়। প্রকৃতিও তার সৌন্দর্যের অপরূপ ভাণ্ডার মেলে ধরে কাছে টানে। এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই ব দ্বীপে পরিচিত অপরিচিত দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলা নিকেতন । এদেশে রয়েছে পাহাড়, সাগর, মাঠ, বিশাল নীল আকাশ– যা এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। পাহাড়, জলপ্রপাত, বনভূমি, নদী এদেশকে করে তুলেছে অপূর্ব রূপময়। বিশাল সৌন্দর্য ভান্ডার থেকে বাংলাদেশের কুয়াকাটা | KUAKATA সম্পর্কে জানা যাক ।
কুয়াকাটা | KUAKATA
বাংলাদেশের সাগর কন্যা নামে পরিচিত কুয়াকাটা, বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভায় অবস্থিত। প্রায় ১৮ কিঃমিঃ দীর্ঘ এই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে একই সাথে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। আর এ জন্যই কুয়াকাটা অন্য সকল সমুদ্র সৈকত থেকে আলাদা। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব প্রান্তের গঙ্গামতির বাঁক থেকে সব থেকে ভালো ভাবে সূর্যদয় দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার ভাল জায়গা হচ্ছে কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত।
কুয়াকাটার নামকরন
কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে আরাকানদের এদেশে আগমনের সাথে জড়িত ইতিহাস। ‘কুয়া’ শব্দটি এসেছে ‘কুপ’ থেকে। ধারণা করা হয় ১৮ শতকে মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে আরাকানরা এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তখন এখানে সুপেয় জলের অভাব পূরণ করতে তারা প্রচুর কুয়ো বা কুপ খনন করেছিলেন, সেই থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়ে যায় কুয়াকাটা!
সংস্কৃতি এবং উৎসব
কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান। ভক্তরা এখানে ‘রাস পূর্ণিমা’ এবং ‘মাঘী পূর্ণিমা’ উৎসবে উপস্থিত হন। এই উপলক্ষে তীর্থযাত্রীরা উপসাগরে পবিত্র স্নান করেন এবং ঐতিহ্যবাহী মেলায় অংশ নেন। সমুদ্র সৈকতের পাশে অবস্থিত ১০০ বছরের পুরানো বৌদ্ধ মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের মূর্তি এবং দু’টি ২০০ বছরের পুরানো কূপ রয়েছে।
রাস পূর্ণিমা : মানবতা রক্ষায় দ্বাপর যুগে কংস রাজাকে বস করে পূর্ণিমা তিথিতে ঘটে রাধা-কৃষ্ণের পরম প্রেম। সেই থেকেই মূলত রাস উৎসবের প্রচলন। সত্য ও সুন্দরের জয়ের আকাঙ্ক্ষায় প্রায় ২০০ বছর ধরে কলাপাড়ায় রাস উৎসব উদযাপন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রাস মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয় ।

কুয়াকাটায় ঘোরাঘুরি | পর্যটন স্পট
- কুয়াকাটা নাম করনের সেই কুয়া
- শুঁটকি পল্লী
- বৌদ্ধ মন্দির
- সীমা বৌদ্ধ বিহার
- মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার
- কেরানিপাড়া
- ফাতরান বন (সুন্দরবনের পূর্বাংশ )
- লাল কাকড়ার চর
- ঝিনুক বীচ
- লেবুর চর / লেম্বুর চর
- তিন নদীর মোহনা
- গঙ্গামতির জঙ্গল
কুয়াকাটা কীভাবে যাবো
নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। লঞ্চে ঢাকা সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। আর বাসে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। তবে সবচেয়ে সহজ ও আরামের কথা বিবেচনা করলে কুয়াকাটা যেতে নদী পথই উত্তম।
সোর্স-
জাতীয় পত্রিকা














