brand-collection-featured-image-x-bfa-x-fxyz-24

featured-image-BY-Aarong

এই ঈদের ফ্যাশন-বাজার

এক টিকেটে অনেক ছবি দেখার শর্টকাট আইডিয়া নিয়ে নিজেকেই বললাম, ‘চলো না বসুন্ধরায় (শপিং মল) যাই!’

এক টিকেটে অনেক ছবি দেখার
শর্টকাট আইডিয়া

একদিকে জীবন ব্যস্ত কাজের অহর্নিশ চাপে, অন্যদিকে লেখার ডেডলাইন অনবরত ফুরিয়ে যাওয়ার চোখ রাঙানি দিয়ে চলেছে। এক টিকেটে অনেক ছবি দেখার শর্টকাট আইডিয়া নিয়ে নিজেকেই বললাম, ‘চলো না বসুন্ধরায় (শপিং মল) যাই!’ বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ঈদ বাজারের হালচাল হালকার ওপর ঝাপসা দেখে নিলে পুরো একটা সাপ্লিমেন্টের জন্য না হোক, ঈদের দিন সকালে কোন তারকা কোন রংয়ের কোন পোশাক পরছেন তার অগ্রীম লেখনী না হোক, একটা মোটামুটি ফ্যাশন-কালেকশন নিয়ে আন্দাজ তো দেওয়া যাবে। সেই ভরসায় যানজটের চ্যালেঞ্জ মাথা পেতে নিয়ে চলে গেলাম বসুন্ধরায়। লক্ষ্য, মেরেকেটে ঈদ বাজারের হালচাল নিয়ে একটু দেখা, সেখান থেকে দু-চার কলম লেখা।

সময়ের সাথে সাথে ফ্যাশনের রূপ পরিবর্তন হয়, ফ্যাশন দুনিয়ারও প্রতিনিয়ত ভোল পাল্টাতে থাকে। এবারকার ঈদের ফ্যাশনে রোজার ঈদের মত রাতারাতি কোনো পরিবর্তন ঘটে না গেলেও দিন দিন যে পোশাক ও আরামের মধ্যকার সম্পর্কটা আরো মজবুত হয়ে চলেছে, সেটি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন নামিদামি ফ্যাশন হাউজগুলোর ঈদ কালেকশনে এক ঢুঁ মেরে এলেই। এককালের জনিপ্রয় এক হিন্দি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের ডায়লগ মনে পড়ে যেতেই পারে ঈদ পোশাকের এই ফিলোসফি থেকে- ইয়ে আরাম কা মামলা হ্যায়! মানুষজন পোশাকে সবার আগে কমফোর্ট ভালোভাবে চায়, আপাতত এটুকু ফ্যাশন পণ্যর কারিগরদের কাছে স্পষ্ট।

নিজের পছন্দে খাও
আর পরের পছন্দে পরো

এককালে খুব জনপ্রিয় একটা ডায়লগ ছিল, নিজের পছন্দে খাও আর পরের পছন্দে পরো (পোশাক)। টেকনোলজিক্যাল ডিটার্মিনিজমের এই জমানায় আর যাই হোক, এই আপ্তবাক্য একেবারেই থ্রিসিক্সটি ডিগ্রি উল্টে গেছে বললে ভুল হবে না। কাপড়চোপড় এখন কমবেশি সবাই নিজের পছন্দ, স্বাধীনতা, ক্ষমতায়ন এবং সর্বোপরি কমফোর্টের জায়গা থেকেই কেনে। আর খাবার কোনটা খাবে আর কোথায়, তার জন্য বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ পেইজ আর ইউটিউবে রিভিউ হাতড়ে বেড়ায়। সে যাই হোক, ঈদের পোশাকে কিন্তু এখনো একটা ব্যাপার ঠিকঠাক আছে। নতুন শাড়ি আর পাঞ্জাবি (একটু বড়দের কথা ভেবেই বলা) ঈদের আল্টিমেট ফ্যাশন ডেস্টিনেশন। তার পাশে তো আরও অনেক কিছু আছে, থাকবেই। তবে শাড়ি আর পাঞ্জাবির আবেদন পুরো আরেক মাত্রায়, সেজন্যই ওগুলোই বোধ করি দেখা হয়েছে বেশি।

ফ্যাশন ব্রান্ড- আড়ং

শাড়ি

শাড়ি ছাড়া বাঙালি নারীর সাজ নাকি পূর্ণতা পায় না। তাই যেকোনো উৎসব-আনন্দ হোক, শাড়িতে নারী তো সাজবেই। এবারকার ঈদ ফ্যাশনে শাড়ির ভাণ্ডারে একইসাথে রাজত্ব করছে বাঙালিয়ানা ও আমদানিকৃত সব শাড়ির সৌন্দর্য। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির আটপৌরে আরাম আর স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে আছে বেশিরভাগ শাড়ির দোকানগুলোতেই। সাদা-নীল-কালো এমন মনোরম রঙগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে টাঙ্গাইল শাড়ির কালেকশনে। টাঙ্গাইল হাফসিল্ক , সফট সিল্ক বা সুতি টাঙ্গাইলের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি হলেও ব্যবহারের সুবিধার জন্য অনেকেই হাফসিল্ক শাড়ি খোঁজেন, যে চাহিদা পূরণ করবে টাঙ্গাইল হাফসিল্ক।

শাড়ি ছবিসূত্র: Tangail Saree Kutir

ভেজিটেবল ডাই

সেইসাথে রয়েছে ভেজিটেবল ডাই বাটিকের শাড়ি। এই বাটিক শাড়ি আপাতদৃষ্টিতে অন্যান্য বাটিক কাপড়ের মতো মনে হলেও একে বিশেষ করে শাড়িতে ব্যবহৃত রঙগুলো। এই শাড়িগুলোতে যেসব রঙ ব্যবহার করা হয়, তার একটিও কৃত্রিম নয়– সবই প্রাকৃতিক উপকরণ থেকে তৈরি। যেমন খয়ের, হরিতকি, ডালিমের খোসা, জাম, পুঁইয়ের বোঁটা ইত্যাদি। তাই এর নাম ভেজিটেবল ডাই বাটিক। মোমের ডিজাইন, আয়রনের কিউরিং আর প্রাকৃতিক রঙের মিশ্রণে তৈরি এই শাড়িগুলো অনেক বেশি কোমল। নিত্যদিনের ব্যবহারে যেমন সুন্দর, তেমনি উৎসবের আমেজে যোগ করে এক ভিন্ন সৌন্দর্য। ফ্যাশন ব্রান্ড Aranya কিংবা Friendship Colours of the Chars ইকো ফ্রেন্ডলি এসব ভেজিটেবল ডাই নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে নিয়মিত। ডিজাইনে প্রাধান্য শিবুরি ডায়িং, ওয়াক্স ডায়িং এর মত এক্সক্লুসিভ ডায়িং টেকনিক।

শাড়ি ছবিসূত্র: Aranya

জামদানি উদযাপন

শাড়ির ক্ষেত্রে হাফসিল্ক, গামছা প্রিন্ট, জামদানি, তাঁত ইত্যাদি শাড়ি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে বৈচিত্র্যের বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। যেমন, শাড়ির দোকান তাঁত ঘরে গিয়ে যে শুধু তাঁত শাড়ি বা দেশী শাড়ির রমরমা দেখা যাবে, তা নয়। সেখানে রয়েছে নজরকাড়া সব ভারতীয় শাড়ির ভাণ্ডার। মাইসোর সিল্ক, তসর সিল্ক, এন্ডি সিল্ক ইত্যাদি শাড়িগুলোতে থাকা ভিন্নমাত্রিক নকশা মনে ধরার মতো। বসুন্ধরা আউটলেটে তাঁত ঘরের পাশেই আছে জামদানি কুটির, জামদানি কর্নার, জামদানি হাউস, ঢাকা জামদানি কুটির ইত্যাদি জামদানির সব ছোট ছোট ‘হাব’। জামদানির মধ্যে ছিমছাম ডিজাইন যেমন আছে, তেমনি দাম ও কারিগরির সাথে বাড়তে থাকা জমকালো ডিজাইনের জামদানির সংখ্যাও কম নয়। সম্প্রতি জামদানি যেভাবে উদযাপিত হচ্ছে, সে অনুযায়ী ঈদ ফ্যাশনে জামদানি বিশেষ জায়গা জুড়ে থাকবে– এতে কোনো সন্দেহ নেই। জামদানির দোকানগুলোতে রাখা শাড়ির রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে হালকা গোলাপি, বেগুনি, লাল খয়েরি ইত্যাদি জমকালো সব রঙ।

শাড়ি ছবিসূত্র: Tangail Saree Kutir

ঈদের পাঞ্জাবি

Taaga Man পাঞ্জাবিগুলোতে রাখা হয়েছে মৃদু রঙ, নকশার ক্ষেত্রেও মিনিমালিস্ট লুক প্রাধান্য পেয়েছে। তবে এবারকার ঈদ বাজারে ক্লাসিক সাদা বা অফ হোয়াইট পাঞ্জাবিগুলো খুব একটা দেখা গেলো না, সব পাঞ্জাবিতেই আছে কিছুটা রঙিন ছোঁয়া। লম্বা পাঞ্জাবির সাথে এবার প্রায় সমান জায়গা জুড়ে রয়েছে সেমি লং ও শর্ট পাঞ্জাবি। ডিজাইন একই, কিন্তু আকারে ভিন্নতা রেখে ক্রেতাদের জন্য বেশি অপশন রাখার জন্যই ফ্যাশন হাউজগুলোর এই উদ্যোগ। অতিরক্ত জমকালো ভাব থেকে বের হয়ে আসার প্রবণতা কাজ করেছে পাঞ্জাবির ক্ষেত্রেও। ঈদের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে বিবিয়ানা ব্যবহার করছে আরামদায়ক, উচ্চ মানের সুতি কাপড় ও মৃদু রঙ। সেইসাথে কাঠের বোতাম যেন এতে যোগ করছে আরেক নান্দনিক মাত্রা। এছাড়া সবগুলো ব্রান্ডেই ডিজিটাল প্রিন্ট এর প্রভাব বেশ লক্ষনীয়।

ছবিসূত্র: Taaga Man
SHOP ONLINE: Nitya Upahar

টি-শার্ট -এ বাঙালিয়ানা

তবে শুধু শাড়ি-পাঞ্জাবিই নয়, অনেকের ঈদ সাজের পছন্দ থাকে একটু ক্যাজুয়াল লুক। তাদের জন্য Nitya Upahar নিয়ে এসেছে ছোটদের এবং বড়দের রঙিন সব টি-শার্ট। বরাবরের মতই বাঙালিয়ানা প্রেম জোরেসোরে বইছে নিত্যউপহারের আউটলেটে। টি-শার্টের নকশায় তাই এগিয়ে রয়েছে জীবনানন্দ দাশের কবিতা দিয়ে টি-শার্ট

তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও —
আমি এই বাংলার পারে র’য়ে যাব;
দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের সন্ধ্যায়
হিম হয়ে আসে ধবল রোমের নিচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে
তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও।

ফ্যাশন ব্রান্ড- দেশাল

দেশাল সবসময়ই একটু আরামদায়ক কাপড়চোপড়ের দিকে বেশি নজর দেয়। এবারেরে ঈদ কালেকশনও তার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি যোগ হওয়া দেশালের নতুন সাব-ব্র্যান্ড ‘নয়া’ থেকে আনা টপসগুলো ভীষণ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি এবং ডিজাইনগুলোও ভীষণই স্বাচ্ছন্দ্যের সাজে পরিপূর্ণ। রঙের ক্ষেত্রে দেশাল এগিয়ে রাখছে একটু ম্যাট কালারগুলোকে। বাদামি, কচুপাতা রঙ, মেটে রঙ ইত্যাদির আলসে আরাম ছড়িয়ে আছে দেশালের শাখাগুলোতে।

YELLOW

ফ্যাশন ব্রান্ড- ইয়েলো

ইয়েলোতে যেন এবার জ্যামিতিক ফ্যাশন রাজত্ব করছে। সব ধরনের পোশাকেই তারা জোর দিয়েছে প্যাটার্ন থিমের নকশার উপর। এই নকশার ধাঁচটির নাম হচ্ছে ‘ইক্কত প্যাটার্ন’। বর্তমানে পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন হাতব্যাগেও এর প্রচলন শুরু হয়েছে। বাঙালিয়ানা ও পাশ্চাত্যের মিশেলে ইয়েলোর কালেকশনে রয়েছে নারীদের জন্য জর্জেট কাপড়ের ওয়েস্টার্ন ধাঁচের কলারওলা কটি। বাচ্চাদের জন্য কটি ও পাঞ্জাবির ‘কম্বো’ রয়েছে, যাতে বাচ্চাদের জন্য পোশাক বাছাই আরো সহজ হয়। এছাড়াও কটিতে যে গৎবাঁধা নকশাই থাকতে হবে, এ ধারণাকে অতিক্রম করে কটিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ধাঁচের ফ্লোরাল প্রিন্ট। ইয়েলোর থ্রি-পিসগুলোতে তেমন কোনো নতুনত্ব দেখা যায়নি। তবে মৃদু রঙের প্রতি দেশালের মতো ঝোঁক দেখা যায় ইয়েলোতেও। বিশেষ করে কুর্তিগুলোতে পিচ, প্যাস্টাল গ্রিন, ডাস্টি পিংক, আসমানি, হালকা বাদামি ইত্যাদি বিভিন্ন প্যাস্টাল রঙের জয়জয়কার দেখা গিয়েছে।

ফ্যাশন ব্রান্ড- আড়ং

ফ্যাশন ব্রান্ড- আড়ং

আড়ং আমাদের আটপৌরে নিত্যকার জীবনকে ধারণ করে আছে তাদের পোশাকে। চারদিকে যখন বেশিরভাগ কাপড়চোপড়েই আরোপিত তারুণ্যের জয়গান, সেখানে আড়ং এর এমন কালেকশন অন্যভাবে ভাবায়। বড় বড় ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়ি-থ্রিপিস যেন নতুন করে ভাবায় কিভাবে লেগেসি মেন্টেইন করে আধুনিক পোশাক তৈরী করতে হয়।

ঈদে অনলাইনে কেনাকাটা

এই ফ্যাশন হাউজগুলো ছাড়াও অনলাইন দোকানগুলোতেও শুরু হয়ে গেছে ঈদ ফ্যাশনের হৈ-হুল্লোড়। চলছে বিভিন্ন সেল, ডিসকাউন্ট অফার আর নতুন নতুন পোশাকের ভাণ্ডার তো রয়েছেই। খুঁত, ওয়্যারহাউজ, হরিতকি, মহাশয় ইত্যাদি পেজগুলো থেকেও পূরণ করতে পারেন এবারকার শপিং লিস্ট।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা

X (Twitter)
Post on X
Pinterest
fb-share-icon
Instagram
FbMessenger
Open chat
1
Scan the code
Hello
How can i help you?
Skip to content