saree of Bangladesh বাংলাদেশি সেরা ১০ শাড়ি web

Saree of Bangladesh | The Bearer of Tradition .

 বাংলাদেশি সেরা দশ শাড়ি

দেশিয় সংস্কৃতির এক অনন্য অনুষঙ্গ হলো শাড়ি। যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক । একেকটি শাড়ি যেন একেকটি ভালোবাসার গল্প ।

বাঙালি নারীর কাছে শাড়ি শুধুমাত্র পোশাকই নয়। একেকটি শাড়ি যেন তাদের কাছে একেকটি ভালোবাসার গল্প। কোনটি হয়তো সদ্য কৈশোরে পা রাখা মেয়ের আবদার পূরণে, মায়ের কিনে দেয়া শাড়ি। আবার কোন শাড়িতে হয়তো জড়িয়ে আছে বিয়েতে পাওয়া প্রথম উপহারের আবেগ। কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে প্রথম দেখা করতে যাওয়ার স্মৃতি। এসব গল্পগুলো বাংলাদেশের পোশাক সংস্কৃতিটিকে এত বর্ণিল করে তুলেছে । 

দেশিয় সংস্কৃতির এক অনন্য অনুষঙ্গ হলো শাড়ি। যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। শাড়ী না হলে যেন বাঙালি নারীদের সাজ-গোজ এ পূর্ণতায় পায় না। তাই নারীদের আলমারিতে পোশাকের দিক থেকে শাড়ির ভ্যারিয়েশন বেশি লক্ষ করা যায়। এই ভ্যারিয়েশন রুচিগত কারন তো আছেই, তার থেকে গ্রহনযগ্য কারন হলো আমাদের দেশের প্রতিটি অঞ্চলে শাড়ির স্বতন্ত্র ঐতিহ্য। আর এসব স্বতন্ত্র ঐতিহ্য নিজ নিজ অঞ্চলকে করেছে সমৃদ্ধ। আর করে দিয়েছে আর্ন্তজাতিক ভাবে দেশকে ব্রান্ডিং করার সুযোগ।

বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী কোন শাড়িগুলো পাওয়া যায় তা জানাব আজকের আয়োজনে।বলা চলে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে শাড়ির প‍্রচলন। যা

শাড়ির ইতিহাস

শাড়ি বলতে একখণ্ড বস্ত্র বা কাপড় কে বোঝাতো। এই বস্ত্র খানা আবার পুরুষে পড়লে হতো ধুতি। শাড়ির ইতিহাস ঘেটে জানা যায় শাড়ি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ “সতীকা/শাটিকা” থেকে যার অর্থ “এক ফালি কাপড়”। ঐতিহাসিক মতে আর্যগণ শাড়ি পরার প্রচলন শুরু করে। অনার্য সভ্যতায় অনেক আগে থেকেই শাটী’ শব্দটি প্রচলন ছিলো বিধায় কেউ কেউ মনে করে শাঢীই শাড়ির মূল শব্দ। শাড়ি শব্দের অস্তিত্ব সংস্কৃত ছাড়াও অন্য ভাষাতেও ছিলো তবে অন্য নামে। বলা হয় সিন্ধু ও মেহের গড়ের মতো অনার্য সভ্যতার ধবংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে নারীদের পরনে শাড়ি মত কাপড়ের ব্যবহার দেখা যায়।

ইতিহাসবিদ নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে সেলাই করা কাপড় পরার রেওয়াজ আদিম কালে ছিল না। এই সেলাইবিহিন অখন্ড বস্ত্র পুরুষের ক্ষেত্রে ‘ধুতি’ এবং মেয়েদের বেলায় ‘শাড়ি’ নামে অভিহিত হয়। সেলাই করার জ্ঞান লাভ হওয়ার পর এই অখন্ড বস্ত্রই নানা এলাকায় বিচিত্ররূপে ও বিভিন্ন নামে রূপান্তরিত ও আদৃত হয়, যেমন ঘাগরা, সালোয়ার, কুর্তা, কামিজ প্রভৃতি। কিন্তু কয়েকটি এলাকায় তা সেলাই ছাড়াই টিকে যায়। এসব এলাকা হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, আসাম, কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, বিহার, পাঞ্জাব এবং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ ও পাঞ্জাব। 

এক কালে শাড়ি পরার দুটি ধরন ছিল, আটপৌরে (এক প্যাঁচ ) ও পোশাকি। পরবর্তীকালে এ ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। পরার ধরনে এসেছে ‘কুচি পদ্ধতি’। ঠাকুরবাড়ির বধূ জ্ঞানদানন্দিনী পার্সি কায়দায় কুঁচি দিয়ে শাড়ি পরার স্টাইল আরম্ভ করেন, যা এখন সকল নারীদের শাড়ির পরার সচারাচর পদ্ধতি। শাড়ির সাথে ব্লাউজের চল শুরু করতেও ঠাকুরবাড়ির ফ্যাশনেরই বেশি অবদান। তবে ‘আটপৌরে’ বা ‘এক প্যাঁচ’ শাড়ি পরার প্রথা হারিয়ে যায়নি। গ্রামাঞ্চলে প্রবীন মহিলারা এর চল অব্যাহত রেখেছেন। তরুণীরাও পহেলা বৈশাখ, দুর্গা পূজা বা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ভাবে শাড়ি পরে থাকেন। 

ষাটের দশকের কবি আবুল হাসানের কবিতায় কবি বলেছেন –

‘তুমি তো নও আম্রপালী,

বর্তমানের নারী

তোমার লাগে লিনোলিয়াম

 সিফনঘেরা শাড়ি’।

  

বাংলাদেশি সেরা দশ শাড়ি | SAREE OF BANGLADESH

SAREE MAP OF BANGLADESH


saree map of Bangladesh-bfa X fxyz-2022

Tangail Saree | টাঙ্গাইল শাড়ি

টাঙ্গাইল তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো কুটিরশিল্প। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় তৈরী হয় এবং এই জেলার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে টাঙ্গাইল তাঁত শিল্পের ব্যাপ্তি পপ্রসারিত হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির তাঁতিরা মূলত ঐতিহ্যবাহী মসলিন তাঁতশিল্পীদের বংশধর। তাদের আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার ধামরাই ও চৌহাট্টায়। তারা দেলদুয়ার, সন্তোষ ও ঘ্রিন্দা এলাকার জমিদারদের আমন্ত্রনে টাঙ্গাইল যায় এবং পরবর্তিতে সেখানে বসবাস শুরু করে। শুরুতে তারা নকশাবিহীন কাপড় তৈরী করত।

১৯০৬ সালে মহাত্মা গান্ধী স্বদেশী আন্দোলনের ডাক দেন। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডের ল্যাঞ্চা শায়ারের তৈরী কাপড় বর্জন করা। এই সময়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) এর তাঁত শিল্পের প্রসার লাভ করে। ১৯২৩-২৪ সালে তাঁতের কাপড়ে নকশা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৩১-৩২ সালে শাড়ি তৈরীর জন্য জ্যাকার্ড তাঁত প্রবর্তন করা হয়।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে টাঙ্গাইলের শাড়ি দেশ খ্যাত। টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি গুলো অত্যন্ত মানসম্মত ও রুচিশীল। যেমন- খেশ শাড়ি, জুম শাড়ি, গ্যাস কটন শাড়ি, কটকি শাড়ি, মাসলাইস শাড়ি, কোটা শাড়ি।

টাঙ্গাইলের শাড়ির খ্যাতি বলি আর বৈশিষ্ট বলি তা হলো শাড়ির সূক্ষ বুননের এবং আকর্ষনীয় নকশার জন্য । এছাড়া প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শাড়ির পাড় বা কিনারের কাজ থাকবে। তারা ডবি এবং জ্যাকার্ড মেশিন এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল যে কোন নকশা খুব সহজেই শাড়িতে ফুটিয়ে তুলতে পারেন । যদিও প্রযুক্তি উন্নতির আগে টাইঙ্গাইলে শাড়ি নকশা ছিল সরল , অনেকটা জ্যামিতিক ধরনের । সাথে ছিল জমিনে বুটি কাজ ।

টাঙ্গাইলের শাড়ি  মুলত  ১২ হাত থেকে ১৪ হাত পর্যন্ত হয়ে থাকে। শাড়ির লেন্থ এর ব্যাপ্তির প্রচলন প্রথমে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি থেকেই শুরু।

আরও পড়ুন : টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি | TANGAIL SAREE । বিস্তারিত

টাঙ্গাইল শাড়ির প্রকারভেদ

  • সুতি শাড়ি
  • আধা রেশমি শাড়ি।
  • হাফ সিল্ক শাড়ি।
  • সফট সিল্ক শাড়ি।
  • সুতি জামদানি শাড়ি।
  • বালুচুরি শাড়ি।
  • ডাংগ্য শাড়ি।
  • গ্যাস মারচেন্ডাইজড শাড়ি।
  • টুইস্টেড সুতি শাড়ি।

টাঙ্গাইলের জামদানী

ঢাকায় জামদানি মটিফ গুলো পাওয়ারলুমের মাধ্যমে সুতি ও হাফসিল্ক শাড়িতে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা যে শাড়ি তৈরী করে সেটাই টাঙ্গাইলের জামদানী। এ শাড়িগুলো বেশির ভাগই পাওয়ারলুমে হয়ে থাকে।

টাঙ্গাইলের জামদানি দুই ভাবে তৈরি করা হয়। এক ধরনের শাড়ি হয় পাওয়ার লুমে আর এক ধরনের শাড়ি তৈরি হয় হাততাঁত যন্ত্রে। সুতার মধ্যেও রয়েছে ভিন্নতা, হাফ সিল্ক সুতা এবং রেশম সুতা দুই ধরনের সুতা দিয়ে জামদানি তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল জামদানি শাড়ি তাঁত যন্ত্রে তৈরি করতে, প্রথমে নকশা কাগজে একে নিতে হয়। এরপর তাঁত যন্ত্রের মাধ্যমে নকশা তোলা হয়।

khesh Saree | খেশ শাড়ি

খেশ শাড়ির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, পুরাতন কাপড় ছাড়া এই শাড়ী তৈরি করা সম্ভব নয়। পুরোনো সুতির কাপড় ছিড়ে ছিড়ে চিকন চিকন দরির মত বানিয়ে তা দিয়ে ভরনার অংশে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাবহার করে খেশ শাড়ী তৈরী করা হয় । এক একটি পুরোনো কাপড় থেকে বের হয় ৮০ থেকে ৮৫ টি লাছি সুতা । তারপর এই লাছি সুতা কে রং করে চরকায় ফেলে কাপড়ের ফালি তৈরি করা হয়।

তারপর এই ফালি দিয়ে তাতের সাহায্যে তৈরি করা হয় কাপড়। বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের জন্য বিভিন্ন রকম কাপড়ের ফালি দরকার হয়।

এই শাড়ীর মূল উৎপত্তি স্থল কলকাতার বীরভূমে। এই শাড়ীর সাথে জড়িত আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। ভারতের বীরভূম জেলার তাঁতীরা মূলত এই শাড়ী তৈরি শুরু করে। তাদের মতে তাদের পূর্ব পুরুষদের এই শাড়ী তৈরির হাতেখরি হয়েছিলো শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিদ্যালয়ে, শিল্পসনদে। শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিন্দ্রনাথের জন্যই সেখানকার শিল্পীরা কাঁথা সেলাইয়ের কায়দাকে কাজে লাগিয়ে পুরাতন কাপড় দিয়ে খেস শাড়ি তৈরি করেন।

Pabnai Saree | পাবনাই শাড়ি

কন্যা কইরো নাগো মন ভারি;

পাবনা থিইক্যা আইনা দিমু ট্যাহা দামের মটুরি’

পাবনার তাঁত, পাবনার ঐতিহ্য.

তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধিশালী পাবনা জেলা। মুগল আমলে হিন্দু ও মুসলিম উভয়ই তাঁত পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশের পাবনা জেলার মুসলিম তাঁতিরা যে সকল শাড়ি বুনে থাকে তাই পাবনাই শাড়ি। পাবনার অন্যতম তাঁত প্রধান এলাকা হচ্ছে দোগাছী, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া এবং আটঘরিয়া। সস্তা উপকরণ তুলা এখানে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। স্বদেশি আন্দোলনের পর থেকে তুলার চাষ আরও বেড়ে যায়। এখানকার তুলার এবং তাঁতিদের বেশ সুনাম।

১৯২৩ খৃষ্টাব্দে এ জেলায় তাঁতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে নয় হাজারে। ১৯৪৭ এর শেষ দিকে এ শিল্পে পুনঃ বিকাশ ঘটতে থাকে। ১৯৫৬ তে সরকারি হিসাবে প্রকাশ, জেলায় হাতে চালানো তাঁত রয়েছে সাড়ে ৪২ হাজার। ১৯৭৮ এ হ্যান্ডলুম সেন্সাস অনুযায়ী তাঁতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬ হাজার। এর মধ্যে নিস্ক্রিয় তাঁত ৩০ হাজার। কারিগর রয়েছে লক্ষাধিক।

বস্ত্র শিল্পের যখন রমরমা অবস্থা তখন অন্য প্রান্তের তাঁত ব্যবসায়ীদের ঈর্ষার বিষয় হয়ে ওঠে। অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িয়ে যায় এই শিল্পের সাফল্য। দেশ ভাগ (১৯৪৭) হতেই শিল্পের চেহারাটা বদলে যেতে থাকে। অনেক উদ্যোগী মানুষ ও কারিগর চলে যান পশ্চিম বাংলায়। শুরু হয় প্রতিযোগিতা পর্ব।


পাবনা জেলায় বর্তমানে তিন রকমের তাঁত আছে। পাওয়ার লুম, পিটলুম, আর চিত্তরঞ্জন তাঁত 

বর্তমানে পাবনাই শাড়ি নিন্ম ও নিন্মমধ্যবিত্ত নারীদের জন্যই বেশী বুনা হয়। তবে পাবনাতে কিছু বেনারসি তৈরী হয়।

Narshaidi Mala Saree | নরসিংদী মালা শাড়ি

নরসিংদী জেলার মালা শাড়ির নাম আমি এবছরই প্রথম জেনেছি। অনেক আগের থেকেই জনপ্রিয় শাড়ি এটা। জ্যাকার্ড শাড়িও বলা হয়ে থাকে । জ্যাকব মেশিনে তৈরী হয় এই শাড়ি।

Rajshahi Silk Saree | রাজশাহী সিল্ক শাড়ি

ঔপনিবেশিক আমল থেকেই বাংলায় শুরু হয় রেশম চাষ। ১৯০৫ সালে রেশম শিল্পের বিকাশের প্রতিষ্ঠা করা হয় দুটি বীজভান্ডার। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ সরকার রেশমের শিল্পকে তদারক করার জন্য আলাদা একটি বিভাগ চালু করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় বাংলার রেশমপ্রধান অঞ্চল ভারতের অংশে চলে যায়। অল্প কিছু অঞ্চল পড়ে এপার বাংলায়। এর মধ্যে পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের রেশমশিল্প প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় ব্যক্তিমালিকানায় কিছু উদ্যোক্তা রেশম শিল্পের হাল ধরতে এগিয়ে এলে লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাদের। পরে অবশ্য পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থার অধীন রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি রেশম বীজভান্ডার স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম আমাদের রাজশাহী সিল্ক ফ্যাক্টরি।

রাজশাহী জেলার এক বিশাল  তাঁতি গোষ্ঠী হাতে রেশম সুতার বুননে রাজশাহী সিল্ক বুনা হয়। দোয়েল সিল্ক, মটকা সিল্ক ও আরও অনেক সিল্কের শাড়ি বানানো হয় রাজশাহীতে।

রাজশাহীর সিল্ক মানেই অনিন্দ্য সুন্দর একটি শাড়ি। তুঁত গাছ থেকে পাওয়া সূক্ষ্ম রেশম সুতো দিয়ে তৈরি রাজশাহীর সিল্কের শাড়ির জনপ্রিয়তা ছিল বিদেশেও। সিল্ক কাপড়ের প্রধান উপাদান রেশমকে ঘিরে এ অঞ্চলের রয়েছে সুদীর্ঘ আর উজ্জ্বল অতীত।

Manipuri Saree | মনিপুরী শাড়ি

খেশ, জামদানীর মতোই একটা ঐতিহ্যবাহী শাড়ি মনিপুরী শাড়ি। সিলেটের মনিপুরী উপজাতিরাই সাধারণত এই শাড়ি বুনে থাকে। মনিপুরী শাড়ি আমাদের নিজস্ব একটা ঐতিহ্য হওয়া সত্বেও এটা ভারতের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত, আমাদের নয়। কেননা আমাদের নিজস্ব ডিজাইন নেই, নেই এর পরিচর্যা বা প্রচার। তবে এখন অনেকেই মনিপুরীর দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।

মনিপুরী  ভাষায় তাঁত কে বলা হয় ইয়োং। এই ইয়োং আাবার দুই ধরনের  একটি মোয়াং ও অপরটি পাং। মোয়াং তাঁত দিয়ে মোটা ধরনের কাপড় বয়ন করা হয়। আর পাং দিয়ে পাতলা সুতার কাপড় বয়ন কর হয়।।

মনিপুরী  শাড়ি  হস্তচালিত  তাঁতে তৈরি  করা হয়। মনিপুরী তাঁতের বৈশিষ্ট্য  হলো এর পাড় এবং এর রং। মনিপুরী  শাড়ির পারে মৈরাং বা টেম্পল এর নকশা করা থাকে। এবং শাড়ির মাঝেও নানান রকম নকশা থাকে। মনিপুরী  শাড়ি  নকশা কখনো  এক রকম হয় না কিছু টা জামদানী  শাড়ির মতো। তাঁতি প্রতিটি শাড়িতে মনের মাধুরী মিশিয়ে  নকশা করে থাকে। যদিও তাদের নিজস্ব একটা গ্রামার ফলো করে হিসেব করেই শাড়িগুলো বুনে থাকে। মনিপুরী শাড়ির রং উজ্জ্বল  থাকে বলে নারীরা বেশী পছন্দ  করে। যে কোন অনুষ্ঠানে  বা গরমের মাঝেও মনিপুরী  শাড়ি  গুলো বেশ আরামদায়ক।

একটি মনিপুরী  শাড়ি  তৈরি  করতে সময় লাগে ৩  থেকে ৫ দিন। ভাল মানের শাড়ি তৈরি  করতে আরো বেশী সময় লাগে। ভাল মানের শাড়ি গুলো দামও একটু বেশী হয়ে থাকে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ  উপজেলায়  সবচেয়ে  বেশী  মনিপুরী  তাঁতিদের  বসবাস এবং এ এলাকায় তাঁত সংখ্যাও অনেক বেশী। এছাড়া তিলকপুর আদমপুর,মাধবপুর এলাকায় ও মনিপুরী  শাড়ি তৈরি  হয়।।

মনিপুরী কে বিভিন্ন ইনোভেশন ও ফিউশনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। মনিপুরী বুননে শাড়ির পাশাপাশি তৈরী হচ্ছে গামছা, ওড়না, টু পিস, শাল ইত্যাদি। এছাড়াও ফিউশন করে তৈরি করা হচ্ছে মনিপুরী ব্যাগ, কটি যা শাড়ি কিংবা থ্রি পিসের সাথে মানানসই। আবার শাড়িতে ব্লক করেও দেওয়া হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন রূপ।

Pater Saree | পাটের শাড়ি

দেশের লোকগীতির কবিতায় পাটের শাড়ির কথা উল্লেখ থাকলেও এই আধুনীকতার জোয়ারে কেন জানি নতুন করে শুনতে হচ্ছে পাটের শাড়ি। পাট কে রিফাইন করে পাটের সুতা তৈরি করে তবেই এই পাটের শাড়ি তৈরী হচ্ছে। যদিও টাঙ্গাইলের কিছু কিছু তাঁতে পাটের শাড়ি  তৈরী হয় যা আমদানিকৃত সুতি এবং জুট সুতার সমন্বয়ে পাটের শাড়ি তৈরী হয়।

তুলা থেকে সুতা তৈরির কাঁচামালে আমাদের দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় তাই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু পাটের সুতার কাঁচামাল আমাদের দেশেই তৈরি হয়। তাই পোশাক তৈরিতে এই সুতার ব্যবহার আমাদের জন্য বেশ লাভজনক হবে যা আমাদের বিলুপ্তর পথে ঐতিহ্য, ফিরিয়ে দিতে নিতে হবে সর্বস্তরে উদ্দ্যোগ।

Khadi Saree | খাদি শাড়ি

বৃটিশ ভারতে গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে ঐতিহাসিক কারণে কুমিল্লা জেলায় খাদি শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। রাঙ্গামাটির তুলা থেকে সেই সময়ে খাদি কাপড় তৈরী হতে শুরু করে। জেলার চান্দিনা, দেবিদ্বার, বুড়িচং ও সদর থানায় সে সময় বাস করতো প্রচুর যুগী বা দেবনাথ পরিবার।

যারা খাদি কাপড় বুনতো তাদের বলা হতো যুগী বা দেবনাথ।

দেশীয় বস্ত্রের ব্যবহার এবং বিদেশি বস্ত্র বর্জনে গান্ধীজীর আহ্বানে সে সময় কুমিল্লায় ব্যাপক সারা জাগে এবং খাদি বস্ত্র উৎপাদনও বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে কুমিল্লার খাদি বস্ত্র। জনপ্রিয়তা অর্জন করে কুমিল্লার খাদি। গান্ধীজী প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লার অভয় আশ্রম সেই সময়ে খাদি শিল্প প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

খাদি শাড়ি মূলত হাতে তৈরী সুতা দিয়ে বানানো হয় । তাই সুতা গুলো মোটা হয়ে থাকে। তাই খাদি শাড়ি গুলো পুরোটা খাদি সুতা দিয়ে বানানো হয় না। টানায় সাধারন কটন সুতা এবং ভরনায় খাদি সুতা ব্যবহার করা হয়। নকশার প্রয়োজনে কম বেশি হতে পারে ।

Katan Saree | কাতান শাড়ি

কাতান শাড়ীর উৎপত্তি হয় বেনারাস শহরে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারত থেকে ৩৭০ টি মুসলিম পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস শুরু করে। সেই থেকেই কাতান শাড়ীর দিন শুরু হয় বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের তাঁতীরা তাদের  নিজস্ব সৃজনশীলতা,নান্দনিক ডিজাইন মাধ্যমে উন্নত রুচির পরিচয় দিচ্ছে বহু বছর ধরে। বিয়ের অনুষ্ঠানে কাতান শাড়ীর জনপ্রীয়তা আছে, যে কোন জমকালো অনুষ্ঠানে কাতানই থাকে প্রথম পছন্দ। কাতান তৈরীর কাচামাল  সুতা, আসে ভারত,পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর চীন থেকে আর বাংলাদেশের বানানো শাড়ী রপ্তানি হয় ভারত, পাকিস্তান, চিন ও আমেরিকায়।

Banarasi Saree | বেনারসি

বেনারসি শাড়ির মূল উৎপত্তিস্থল হিসেবে ভারতের বেনারশ শহরের নাম শোনা যায়। কিন্তু ঠিক কবে থেকে তারা বেনারসি শাড়ি তৈরি করে আসছেন তা জানা যায় নি। এ নিয়ে একটি গল্প শোনা যায়। তাঁতীদের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন আনসারী। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হয়রত মুহাম্মদ (সঃ) যখন মক্কা থেকে মদীনায় যান তখন এই আনসারী সম্প্রদায়ের কাছে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং এর প্রচারেও অংশ নেয়ন। মনে করা হয়, বেনারস শহরের সিংহভাগ তাঁতী সেই আনসার সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতের বেনারসের প্রায় ৩৭০টি মুসলমান তাঁতি পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এদের বৃহৎ অংশটি ছিল প্রায় ২০০ পরিবারের, তারা মূলত ঢাকার মিরপুর ও পুরান ঢাকায় বসতি স্থাপন করেন। তারা তাদের আদি পেশা এই তাঁত শিল্পের কাজ এদেশে এসেও অব্যাহত রাখেন।

তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে স্থানীয়রা এ পেশায় ব্যাপকভাবে জড়িত হবার পরই বেনারসি শিল্পের অগ্রগতির সূচনা ঘটে। ক্রমান্বয়ে তাঁতীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানাগুলো পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে মিরপুরে নিয়ে আসা হয়।

এছাড়া বগুড়ার তাঁতিরা নিজেরা শাড়ির ডিজাইন করে থাকে। কিন্তু তাঁতে বোনা শাড়ি গুলো পলিশ এবং ফিনিশিং করার জন্য শাড়ি গুলোকে মিরপুরে নিয়ে যেতে হয়। কারণ বগুড়ায় পলিস এবং ফিনিশিং করার মেশিন নেই।  তাই তাঁতে বোনা শাড়ি গুলো পলিস এবং ফিনিশিং ছাড়া মিরপুরের মহাজনদের নিকট পাইকারি বিক্রি করে। সেই কারণে বগুড়ায় তৈরি হলেও শাড়ি গুলো মিরপুরের বেনারসি শাড়ি নামে সকলে জানে।

বেনারসি শাড়ি তৈরি প্রক্রিয়া  কিছুটা জটিল। এই শাড়ি তৈরির মূল উপাদান হলো  কাঁচা রেশম সুতা। এর পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় জরি সুতা। কারিগরেরা প্রথমে নকশা ‍অনুযায়ী সুতা রং করেন। তারপর সাবান ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রৌদ্রে শুকান। এরপর কয়েকটা সুতাকে একসঙ্গে করার জন্য পাঠানো হয় অন্য কারখানায় ৷

পরবর্তীতে সে সুতা দেয়া হয় তাঁত শ্রমিকদের, তারপর গ্রাফ মাস্টারদের দেয়া ডিজাইন অনুযায়ী বেনারসি শাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে ৷ এরপর চলে তাঁতে নান্দনিক বুননের কাজ।

ডিজাইন ও বুনন সহজ হলে একটি শাড়ি তৈরি করতে একজন তাঁতির সময় লাগে প্রায় এক সপ্তাহ।

বেনারসি শাড়ি নিয়ে আরও জানতে



বেনারসি আর কাতানের মধ্যে পার্থক্য

সুতার ধরন/ বুননের রীতি অনুযায়ী শাড়িগুলোর জমিন দু’ ধরনের হয়ে থাকেঃ

১) সার্টিন / বেনারসি

২) কাতান

  • বেনারসি/সাটিন জমিনের শাড়িগুলোর জমিন মখমলের মত মোলায়েম হয়। যেমন: জামে বাহার শাড়ি। বুননে সুতা বেশি লাগে, শাড়িগুলো ওজনে একটু বেশি হয়। বিয়ের বেনারসিগুলো সবই সার্টিন ধরনের।
  • কাতান জমিনের থেকে সার্টিন/বেনারসি জমিনের শাড়ি তৈরি করতে প্রায় দ্বিগুণ সুতা প্রয়োজন হয়। কাতান জমিন তৈরি করতে যদি ৩০ হাজার সুতা দরকার হয়, সাটিন জমিন তৈরিতে সুতা লাগবে ৬০ হাজার।
  • সাধারণত, সার্টিন/বেনারসি জমিনের শাড়িতে অন্য কোন সুতা মিলিয়ে বুনন হয় না।
  •  কিন্তু, কাতান জমিন তৈরিতে অন্য সুতা মিলিয়ে জমিনে ভিন্নতা আনা হয়। যেমনঃ  তসর কাতান, রেশমি কাতান, মাস্লাইস কাতান ।
  • কাতান জমিনের শাড়িগুলো ওজনে হাল্কা, মোলায়েম / নরম হয়। প্রায় গায়ের সাথে মিশে থাকে। অন‍্যদিকে সার্টিন বুননের শাড়িগুলোর জমিন কাতান অপেক্ষা কিছুটা মোটা হয়।

Jamdani | জামদানি

জামদানি হচ্ছে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য। যা মূগল আমল থেকেই তার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। জামদানির নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ রয়েছে। একটি মত অনুসারে ‘জামদানি’ শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। ফার্সি জামা অর্থ কাপড় এবং দানা অর্থ বুটি, সে অর্থে জামদানি অর্থ বুটিদার কাপড়। একারণে মনে করা হয় মুসলমানেরাই ভারত উপমহাদেশে জামদানির প্রচলন ও বিস্তার করেন। আরেকটি মতে, ফারসিতে জাম অর্থ এক ধরনের উৎকৃষ্ট মদ এবং দানি অর্থ পেয়ালা। জাম পরিবেশনকারী ইরানি সাকীর পরনের মসলিন থেকে জামদানি নামের উৎপত্তি ঘটেছে।


জামদানি শাড়ি কেনার আগে তিন টি বিষয় গুরুত্ব দিতে হয়ে – শাড়ির দাম, সূতার মান এবং কাজের সূক্ষতা। জামদানি হল কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত একধরনের পরিধেয় বস্ত্র যার বয়ন পদ্ধতি অনন্য। আসলে জামদানি শাড়ি তাঁতীরা হাতে বুনন করে বলেই অনেক কষ্ট সাধ্য ও সময় সাপেক্ষ। তাই এগুলোর দামও অন্যান্য শাড়ির তুলনায় বেশি হয় থাকে।

ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারনে ২০১৬ সালে জামদানি কে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পন্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

জামদানি নিয়ে আরও জানতে


jamdani জামদানি
exhibition by Sourav Chowdhury titled Eternal Existence
জামদানি | মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী
শিক্ষার্থীদের নকশায় পোশাকের ঐতিহ্য
International Weavers Festival 2016
jamdani motif preservation
how to recognize jamdani
jamdani markteplace
জামদানি শাড়ি বিভিন্ন ধরণ
jamdani tate bosar dua
tools of jamdani weaving
জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর
জামদানি বুনন এর কৌশল ও প্রক্রিয়া
art-and-craft-dhaka-division final part 1 bng
জামদানি নকশার উৎস

সমৃদ্ধকরন

  • টাঙ্গাইল শাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় তৈরী হয় এবং এই জেলার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে।
  • ১৯০৬ সালে মহাত্মা গান্ধী স্বদেশী আন্দোলনের ডাক দেন
  • খেশ শাড়ির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, পুরাতন কাপড় ছাড়া এই শাড়ী তৈরি করা সম্ভব নয়।
  • পাবনা জেলায় বর্তমানে তিন রকমের তাঁত আছে। পাওয়ার লুম, পিটলুম, আর চিত্তরনজন 
  • মনিপুরী  ভাষায় তাঁত কে বলা হয় ইয়োং। এই ইয়োং আাবার দুই ধরনের  একটি মোয়াং ও অপরটি পাং।
  • মনিপুরী  শাড়ি র পারে মৈরাং বা টেম্পল  এর নকশা করা থাকে। 
  • যারা খাদি কাপড় বুনতো তাদের বলা হতো যুগী বা দেবনাথ
  • বেনারসি শাড়ীর উৎপত্তি হয় বেনারাস শহরে।
  • ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারনে ২০১৬ সালে জামদানি কে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পন্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো


তথ্যসূত্র:

bproperty.com

bn.quora.com

songbadprokash.com


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা

X (Twitter)
Post on X
Pinterest
fb-share-icon
Instagram
FbMessenger
Open chat
1
Scan the code
Hello
How can i help you?
Skip to content