ভূমি গ্যালারি
শিল্প মানেই কি দারিদ্র্য?
আমাদের সমাজে “শিল্প” আর “শিল্পী” শব্দ দুটো এখনও প্রায়শই দারিদ্র্যের প্রতিশব্দ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। শিল্পী মানেই না খেয়ে থাকা, ধার করে সংসার চালানো, কিংবা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোনো এক করুণ পরিণতি—এই গল্পটাই যেন বারবার ঘুরে ফিরে আসে। আমাদের শিল্পচর্চাকে কখনোই বিগার ওয়েতে ভাবতে শেখানো হয়নি। গ্যালারি মানেই ছিল নিঃশব্দ, গম্ভীর, সীমিত দর্শকের একটি অভিজাত পরিসর—যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ যেন একধরনের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। এই জায়গাটাতেই প্রশ্ন তোলে ভূমি গ্যালারি।
বিমানবন্দর সংলগ্ন সেন্টারপয়েন্টে
উত্তরার সেন্টারপয়েন্ট—একটি ব্যস্ত, পরিচিত শপিং মল। এখানেই ২১ নভেম্বর যাত্রা শুরু করেছে ভূমি গ্যালারি।
একটি মলের ভেতর এমন বড় পরিসরের চিত্রপ্রদর্শনী আয়োজন করা শুধু সাহস নয়, এটি একধরনের সাংস্কৃতিক স্টেটমেন্ট। এখানে দম লাগে, লাগে টেকসই চিন্তা, লাগে শিল্পকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
গ্যালারির দরজা পেরোলেই বোঝা যায়—এখানে শিল্প কোনো দূরের, দুর্বোধ্য বিষয় নয়। বরং এটি হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায়, থেমে দাঁড়িয়ে অনুভব করা যায়। যারা আগে কখনো গ্যালারিতে আসেননি ভূমি গ্যালারির সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এখানেই। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত থাকে এই গ্যালারি—যাদের অনেকেই জীবনে প্রথমবার কোনো চিত্রপ্রদর্শনী দেখছেন। কেউ কেউ তো আগে কখনো পেইন্টিং সামনাসামনি দেখার সুযোগই পাননি। নিঃসংকোচে, কোনো ভয় বা সংকোচ ছাড়াই তারা ঘুরে বেড়ান শিল্পকর্মের ভেতর। তাদের চোখেমুখে যে অনাবিল প্রশান্তি, যে বিস্ময় আর ভালো লাগা—তা ভাষায় ধরা কঠিন।

আর যখন নিজেরাই বলে ওঠেন,
“আমাদের দেশে এরকম একটা আয়োজন আছে ভাবতেই গর্ব হচ্ছে”
তখন বোঝা যায়, এই গ্যালারির উদ্দেশ্য শুধু প্রদর্শনী নয়—একটি মানসিক দূরত্ব ভেঙে দেওয়া।
এই কথাগুলো ভূমি গ্যালারির কর্তৃপক্ষের—ফেসবুক থেকে নেওয়া। কিন্তু অনুভূতিটা একেবারেই বাস্তব। একটি উন্মুক্ত, জনবহুল জায়গায় শিল্পের এই উপস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—শিল্প যদি মানুষের কাছে পৌঁছায়, মানুষও শিল্পকে আপন করে নেয়।
সহনশীল রূপান্তর: এক বিশাল আয়োজন
–
ভূমি গ্যালারির বর্তমান প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘সহনশীল রূপান্তর’।
১০০ জন শিল্পীর প্রায় ৩৫০টি চিত্রকর্ম নিয়ে এই আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি বড় মাইলফলক।
এখানে এক ছাদের নিচে দেখা যায় বাংলাদেশের শিল্পকলার ইতিহাস ও বর্তমানকে— শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, এস এম সুলতান, কাইয়ুম চৌধুরী, মোহাম্মদ কিবরিয়া—এই কিংবদন্তীদের কাজের পাশে রয়েছে রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, হাসেম খান, আব্দুস শাকুর শাহ, বীরেন সোম, অলকেশ ঘোষ, স্বপন চৌধুরী, নাইমা হক, আহমেদ সামসুদ্দোহা, শেখ আফজাল, মোহাম্মদ ইউনুস, জামাল আহমেদ, কনকচাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, মাকসুদা ইকবাল নিপা সহ স্বনামধন্য ও প্রতিশ্রুতিশীল মোট ১১৪ জন শিল্পীর কাজ।
এই সহাবস্থানই বলে দেয়—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রদর্শনী নয়, বরং ধারাবাহিক এক শিল্প-আলাপ।
নতুন করে ভাবতে শেখায় ভূমি গ্যালারি
ভূমি গ্যালারি ঠিকানা
মূল ঠিকানা (লালমাটিয়া):
হাউস ৬/৪, ব্লক ডি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
–
নতুন শাখা (উত্তরা)
রাজধানীর উত্তরায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন
সেন্টারপয়েন্ট, উত্তরা, ঢাকা
ভূমি ফেসবুক লিংক
বড় পরিসরের চিত্রপ্রদর্শনী আয়োজন করা শুধু সাহস নয়, এটি একধরনের সাংস্কৃতিক স্টেটমেন্ট।
আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️

ভূমি গ্যালারি ভাঙছে পুরোনো মিথ
bdfashion archive
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন । Zainul Abedin
bdfashion archive
চিত্রশিল্পী সৌরভের ‘শাশ্বত অস্তিত্ব’
bdfashion archive
ভাস্কর শামীম সিকদার | SHAMIM SIKDER
mohammad asad
শিল্পী এস এম সুলতান | S M Sultan
fayze hassan

