আপনার পোশাক আপনার আত্মবিশ্বাস

featured image by YELLOW

আপনার পোশাক আপনার আত্মবিশ্বাস

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পোশাক বয়ে নিয়ে চলার ক্ষেত্রে ‘মহানগর’ এর মতো দুইটা জিনিস মনে রাখবেন। সাথে আরেকটা বোনাস!

আমাদের পরনের পোশাকটা কিন্তু আমাদেরই একটি অংশ, হয়তো তা আভ্যন্তরীণ অংশের মতো অতটা অবিচ্ছেদ্য নয়– কিন্তু সেই আভ্যন্তরীণ বিষয়টাকে পেলেপুষে সাবধানে রাখতে হলেও এই বাহ্যিক অংশটি অথ্যাত আপনার পোশাক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বহু বছর আগের শেখ সাদির সেই গল্পটা মনে আছে তো? না থাকলে একটু ঝালাই করে নিন–
.

শেখ সাদি ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে ছিলেন। তাঁর পরনের পোশাক নিয়েও খুব একটা মাথা ঘামাতেন না। তো একবার তাকে বেশ সম্ভ্রান্ত এক স্থানে দাওয়াত করা হলো। তিনিও নিজের মতো, যেমন তেমন ছেঁড়া কাপড় পরেই সেখানে চলে গেলেন। কিন্তু দাওয়াতকারী তাকে চিনতে না পেরে অত্যন্ত নিম্ন মানের আপ্যায়ন করলেন। তবে তা বিজ্ঞ শেখ সাদির চোখ এড়ালো না। এমন ব্যবহারের পেছনের কারণটা যে তাঁর পোশাক, তা তিনি বুঝতে পারলেন। তাই তিনি ঐ বাড়িতেই আরেকটি দাওয়াতের সময় অত্যন্ত দামি কাপড়চোপড়, একেবারে শাহেনশাহী সাজে গিয়ে পৌঁছুলেন। তক্ষুনি তার সামনে চলে এলো পোলাও-কোর্মা-কাবাব আর নাম না জানা যত সুস্বাদু খাবারদাবার। তখন শেখ সাদি ঝটপট কিছু খাবার পকেটে পুরে নিলেন, কিছু খাবার গায়ে মেখে নিলেন। দাওয়াতকারী এমনটা দেখে যখন জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন, তখন শেখ সাদি এক যোগ্য জবাব দিলেন– ”এই সম্মান ও খাবার-দাবার আমার প্রাপ্য নয়, ওগুলো সব ঐ বেশভূষার।”

সে না হয় আগেকার সময়ের সদোপদেশের গল্প বলে আপনি একটু পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জমানায় যখন তখন পোশাকের ট্রেন্ড কালচার বদলে যায়। কে যে কখন কোন পোশাকে কমফোর্টেবল আর কোনটা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চক্করে বেখাপ্পা হয়ে উঠবে, তার সমীকরণ মেলানো ভার বটে। বেশভূষার তারতম্যে শেখ সাদির মতো ব্যক্তির সঙ্গেও যখন ভিন্ন আচরণ করা হয়, তখন সমাজ যে বহু বিষয়ে সময়ের সাথে বদলে যায়নি– তারও একটা স্পষ্টতা পাওয়া যায়। এখনো বহু লোকে বহু স্থানে পোশাক দিয়েই পরিমাপ করে। আর সে মানদণ্ড অনুযায়ী, অবশ্যই পোশাকের মধ্যে ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে। ব্যক্তির ফ্যাশন তাই তার আয়না হিসেবে জগতের কাছে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পোশাক বয়ে নিয়ে চলার ক্ষেত্রে ‘মহানগর’ এর মতো দুইটা জিনিস মনে রাখবেন। সাথে আরেকটা বোনাস!

Everyone looks at your watch and it represents who you are, your values, and your personal style
.

নিজস্ব স্টাইল

এক জীবনে আমরা বহু জীবন পার করি। একটা মানুষেরও স্থান ও অবস্থান ভেদে বহু রূপ সৃষ্টি হয়, সে রূপ বহন করেই সে সামনে এগিয়ে চলে। এই এগিয়ে চলার পথে ফ্যাশন ও স্টাইলের সাধারণ সংজ্ঞার বাইরেও জন্ম নেয় ব্যক্তির নিজস্ব একটি স্টাইল– যার অনায়াস বয়ানে সে অন্যদের সামনে উপস্থাপিত হয়, নিজেবে ‘রেপ্রেজেন্ট’ করে। ‘শেষের কবিতা’র নায়ক অমিত তাই বলেছিল, “ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী”। তাই মুখোশ পরে থাকতে নয়, নিজের মুখশ্রী বৃদ্ধি করতে হলেও খুঁজে নিন নিজের একটি স্টাইল। সে স্টাইল সবচাইতে বিশেষ– সবচাইতে সুন্দর হতে হবে, এর কোনো বাধ্য-বাধকতা নেই কিন্তু তা আপনার নিজের জন্য যাতে আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দ হয়, সেটি নিশ্চিত করা দরকার।

আপনার পোশাক আপনার আত্মবিশ্বাস নিজস্ব স্টাইল
image source: YELLOW facebook page, shop online: YELLOW

You should wear whatever clothing
you feel most comfortable in.
.

স্বাচ্ছন্দ্যই সুখের মূলমন্ত্র

কোন ফেব্রিক, পোশাকের কোন কাটটা/প্যাটার্ন আপনার পরে ভালো লাগছে– কতটুকু ঢিলে বা আঁটোসাটো হলে আপনার চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, অন্যের চোখের মাপে নয় বরং এই নির্দিষ্ট মানদণ্ডগুলোতে পোশাককে মাপুন। ব্যক্তি আপনি যখন আরামে থাকবেন, তখন আত্মবিশ্বাসী হতে কোনো বাধা আসবে না। কিন্তু উল্টো ব্যাপারটা যদি ঘটে, অর্থাৎ পোশাক পরে হাঁসফাঁস লাগে, ফেব্রিকের কারণে ত্বকে অস্বস্তি জন্ম নেয়– তাহলে কোনোভাবেই জনসমক্ষে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে আলাপ চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। বারবার মনোযোগ চলে যাবে পোশাকের অস্বাচ্ছন্দ্যের দিকেই, নতুন কিছু বলবার ভাববার বদলে মনটা খালি উশখুশ করবে। তাই যেকোনো ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদে প্রথমে পরিধানকারীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার পোশাক আপনার আত্মবিশ্বাস স্বাচ্ছন্দ্যই সুখের মূলমন্ত্র
image source: YELLOW facebook page, shop online: YELLOW

Life is a festival, enjoy every moment. 

লক্ষ্য যখন উপলক্ষ

ঘরোয়া মহলে আমরা যেমন, কর্পোরেট কিউবিকলে একেবারেই তেমনটা হয়ে থাকবার সুযোগ মেলে না। আবার ক্লাসরুমের আমরা, করিডোর বা ক্যান্টিনের আমরাও আলাদা। কিংবা ধরুন পাড়ার চায়ের দোকানের ধোঁয়া ওঠা আড্ডায়, যুক্তি-তর্কের দ্বন্দ্ব-খাতিরে, অথবা একটা দাওয়াতে— মানুষ জায়গাভেদে নিজের চরিত্রটাও খোলনলচে পালটে নিতে জানে। আর মানুষের এই পালটে নেওয়াটা শুধু তার নিজের নয়, পোশাকেরও বটে। অফিসের পার্টি আর পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানের পোশাকও তাই একেবারেই এক হবে না। এক্ষেত্রে ঠিক জায়গায় ঠিক পোশাকটা পরে যেতে পারা হচ্ছে সেখানে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার অন্যতম উপায়। কেননা মানুষ সবসময় দলে ভিড়ে থাকতে পছন্দ করে, আর একটি উপলক্ষের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক পরে নিলে সেই দলে ভেড়া অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। এরপর ভিড়ে মিশে থাকুন কিংবা মঞ্চে উঠে নিজেকে সবার সামনে উপস্থাপন করুন– আত্মবিশ্বাস হোঁচট খাবে না। ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় আমির কী উপদেশ দিয়েছিল জানেন তো? যেকোনো স্কুলে পড়তে যাবার জন্য অন্য কিছু নয়, সেখানকার ইউনিফর্মটাই জরুরি। ঠিক তেমনটাই প্রযোজ্য এইসব উপলক্ষ-অনুষ্ঠানের পরিসরেও।

আপনার পোশাক আপনার আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য যখন উপলক্ষ
image source: YELLOW facebook page, shop online: YELLOW

আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial