Ekushey Padak একুশে পদক বাংলাদেশ x bfa x fxyz

the second highest civilian award in Bangladesh

একুশে পদক বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার

একুশে পদককে বাংলাদেশের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Ekushey Padak 2026

একুশে পদক ২০২৬

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড ওয়ারফেজকে ২০২৬ সালের একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রদত্ত একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন—
চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এ ছাড়া সংগীত দল হিসেবে ব্যান্ড ওয়ারফেজকেও এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

Ekushey Padak, one of Bangladesh’s highest civilian honours x bfa x fxyz V2 2

একুশে পদক ২০২৫

একুশে পদককে বাংলাদেশের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আজীবন কৃতিত্ব ও অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেয়া হয়ে থাকে। এ বছর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৪ নাগরিককে একুশে পদক ২০২৫ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বছর ক্রীড়ায় একুশে পদক পাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

গত বৃহস্পতিবার ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। তাদের মধ্যে পাচজনই মরণোত্তর এ সম্মাননা পাচ্ছেন।

যারা বাংলাদেশের একুশে পদক ২০২৫ পাচ্ছেন

Helal Hafiz কবি হেলাল হাফিজ x bfa x fxyz web

Helal
Hafiz

কবিতায় আগুন জ্বালিয়ে রাখা এক কবি: হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজ, যার শব্দের জাদু আমাদের হৃদয়ে অবিনশ্বর স্মৃতি হয়ে থাকবে, ২০২৫ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে তাঁর শিল্প ও সাহিত্যজগতে অবদানের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই সম্মান কি তাঁর জীবদ্দশায় দেওয়া সম্ভব ছিল না?

হেলাল হাফিজ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান কবি, যিনি জীবনভর আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, নিজের হাতে এই পুরস্কার গ্রহণ করার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এটি আমাদের পুরস্কারপ্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর আত্মমূল্যায়নের দাবি জানায়।

কবি হেলাল হাফিজের মতো প্রতিভাদের প্রাপ্য সম্মান যদি তাঁদের জীবদ্দশায় দেওয়া হয়, তবে তা শুধু তাঁদের জীবনে নয়, জাতির সম্মানেও এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে। মৃত্যুর পর নয়, জীবনের সময়েই স্বীকৃতি দেওয়ার এই চর্চা আমাদের মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

মরণোত্তর স্বীকৃতির সংস্কৃতি

বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়, কৃতী ব্যক্তিদের মরণোত্তর স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিল্পী, সাহিত্যিক বা সমাজের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবনের শেষ সময়গুলোতে তাদের কাজের যথার্থ মূল্যায়ন হয় না। তাঁরা সেই স্বীকৃতি, যা তাদের জীবন ও সৃষ্টিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারত, জীবদ্দশায় পান না।

হেলাল হাফিজের ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট হয়। “এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’র মতো কবিতাগুলো লিখে তিনি অগণিত পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এমন একজন কবি, যাঁর কাব্যিক মেধা একাধিক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে, তিনি যদি জীবদ্দশায় এই জাতীয় স্বীকৃতি পেতেন, তবে তা শুধু তাঁর জন্য নয়, আমাদের সাহিত্যজগতের জন্যও এক গৌরবের বিষয় হতো।

সময়মতো স্বীকৃতি: একটি নৈতিক প্রয়োজন

সম্মাননা বা পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার বার্তা। তাই এই স্বীকৃতি যেন সময়মতো দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পী, সাহিত্যিক বা বিজ্ঞানীদের জীবদ্দশায় তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারা আমাদের জাতীয় চেতনায় একধরনের শূন্যতা তৈরি করে।

একুশে পদকের শুরু যেভাবে

স্বাধীনতা পুরস্কারের পর রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পদক দিয়ে আসছে সরকার। ৪৯ বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর প্রবর্তন করেন।

সবচেয়ে প্রথম এই সম্মাননা পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। একই বছর কবি জসীম উদ্দিন এবং বেগম সুফিয়া কামাল এই সম্মাননা পেয়েছিলেন। সে বছর শুধুমাত্র সাহিত্য, শিক্ষা এবং সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেয়া হয়েছিল। এর পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য নানা ক্ষেত্র যুক্ত হতে থাকে।

বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ মোট ১২ টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেয়া হয়।

Ekushey Padak একুশে পদক বাংলাদেশ x bfa x fxyz

Ekushey Padak

একুশে পদক

সম্মান ও কাজের স্বীকৃতি ছাড়াও পদকপ্রাপ্তরা পান পঁয়ত্রিশ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি পদকের একটি রেপ্লিকা এবং চার লাখ টাকা। যদিও প্রাথমিকভাবে পুরস্কারের অর্থমূল্য ২৫,০০০ টাকা দেয়া হতো; পরবর্তীতে এটি ২ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। নভেম্বর ২০১৯ সাল থেকে পুরস্কারের অর্থমূল্য দাঁড়িয়েছে নগদ চার লাখ টাকা।

যারা বাংলাদেশের একুশে পদক ২০২৪ পেয়েছেন

জিয়াউল হক সমাজসেবায় একুশে পদক x bfa x fxyz

এই বছর সমাজসেবায় পেয়েছেন একুশে পদক

একজন মো: জিয়াউল হক

পেশায় একজন দই বিক্রেতা ! এই বছর সমাজসেবায় অবদানের জন্য একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার সুপরিচিত দই ব্যবসায়ী যাঁর স্লোগান ছিলো ‘বেঁচি দই, কিনি বই’। পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন প্রতিনিয়ত। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার তাঁর নাম “একুশে পদক ২০২৪-সমাজসেবায়” অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেকোন মহৎ কাজ আমাদের অনুপ্রাণিত করে, আশা জাগায়। এই সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক নিজের সাথে সাথে জাতিকে গর্বিত করলেন 


জিয়াউল হকের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মশুরিভুজা গ্রামে। তিনি ১৯৬০ সাল থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই, গরীব অসহায়দের কাপড়, বাড়িঘর নির্মাণ সামগ্রী সহ তাঁর সমস্ত কিছু বিলিয়ে চলেছেন। তাঁর বাড়িতে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত প্রায় ১৫০০০ বইয়ের একটা লাইব্রেরি রয়েছে।

যখন সমাজসেবায় একুশে পদক পাওয়ার সংবাদ পান জিয়াউল হক, তখনও তিনি ফেরি করে দই বিক্রি করছিলেন। নিজের হাতে বানানো দই। এরপর গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে সেই দই বিক্রির টাকায় চলে সংসার।

মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পাশ জিয়াউল। দেড় টাকার জন্যে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হতে পারেন নি। এরপর বাবার সঙ্গে নেমে যান দই তৈরিতে। শুরু করেন গ্রামে ঘুরে দই বিক্রি। কিন্তু মনের মধ্যে সুপ্ত ছিল একটা অমিমাংসিত অভিমান, নিজের উপর ক্ষোভ। টাকার জন্যে পড়াশোনা করতে না পারার আক্ষেপ।

সেই আক্ষেপ পরিণত করেন উদাহরণে। দই বিক্রির টাকা দেদার ঢালতে থাকেন ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের বই কিনতে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গরীব শিক্ষার্থীদেরও বই কিনে দেন জিয়াউল। বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ান বাবার মতো ঢাল হয়ে। বাড়ি করে দেওয়ার পাশাপাশি ছোট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। বিশুদ্ধ পানির জন্যে স্থাপন করেছেন অসংখ্য গভীর নলকূপ। ঈদ, পূজা-পার্বণে অসহায় পরিবারের জন্যে রাতের আধাঁরে নিয়ে যান নতুন পোশাক।

নিভৃত পাড়াগাঁয়ে ১৯৬৯ সালে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার’। এ পাঠাগারে এখন বইয়ের সংখ্যা ১৪ হাজার।


লেখা Sanaul Haque Sunny ফেসবুক পোষ্ট থেকে নেয়া


আপনার একটি শেয়ার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা


facebook page link : BFA


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial