Shakrain Festival is an annual celebration in Dhaka, Bangladesh, observed with the flying of kites

Shakrain Festival is an annual celebration in Dhaka, Bangladesh, observed with the flying of kites

ঘুড়ি, পিঠা আর আনন্দে ভরা সাকরাইন উৎসব: ঢাকার ঐতিহ্যের ধারক

সাকরাইন বা হাকরাইন একান্তই ঢাকাইয়াদের নিজন্ব উৎসব এবং দীর্ঘ সাংস্কৃতিক চর্চার ফল। এটা বাংলাদেশের কোথায়ও উৎযাপিত হয় না।

সাকরাইন উৎসব

Shakrain Festival

বাংলা পঞ্জিকা মতে পৌষের শেষের দিন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে উৎসব উদযাপন করা হয় তা “পৌষ সংক্রান্তি’ নামে পরিচিত। কোথাও কোথাও পৌষসংক্রান্তি শুধু ’সংক্রান্তি’ নামে পরিচিত। আর আদি ঢাকার মানুষ এ উৎসব কে বলে থাকেন ‘সাকরাইন উৎসব ’। কারো কারো কাছে ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত।

বিভিন্ন দেশে পৌষসংক্রান্তির এই উৎসব পালন করতে দেখা যায়। এ উৎসব বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন ভারতে বলা হয় মকরসংক্রান্তি , মায়নমারে ‘থিং ইয়ান , লাওসে পি মা লাও,  নেপালে মাঘি, কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান এবং থাইল্যান্ডে সংক্রান।

সাকরাইন উৎসব হয় পৌষের শেষের দিন।
সে হিসেবে ১৪ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তির দিন।
ঘরে ঘরে বাহারি সব পিঠার আয়োজন।

পাকা ধানের শীষ বিনুনী করাকে বলা হয় ‘আউনি-বাউনি’

Poush Sankranti

পৌষ সংক্রান্তি

পৌষ সংক্রান্তি মুলত একটি  ফসলী উৎসব । এই উৎসব মুলত ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তোলা উপলক্ষে কৃষক পরিবার উৎসব পালন করতেন । উৎসবের অংশ হিসাবে  কয়েকটি পাকা ধানের শীষ বিনুনী করে ধানের গোলা, ঢেঁকি কিংবা ঘরের চালে গুঁজে রাখতেন । কারন বছরের প্রথম ফসল কে অতিপবিত্র এবং সৌভাগ্যদায়ক মনে করা হয় ।  পাকা ধানের শীষ বিনুনী করাকে বলা হয় ‘আউনি-বাউনি’ ( বানানান্তরে আওনি বাওনি )

শোনা যায় উৎসবের অংশ হিসাবে ঘরের জামাইদের দাওয়াত করে আনা হত । এবং তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হত ঘুড়ি আর নাটাই । আর বাড়ির বাচ্চাদের হাতে থাকত বাশের লগি । যার সাইজ তাদের থেকেও তিন-চার গুন লম্বা । এবার বিভিন্ন বাড়ির জামাইদের মধ্যে শুরু হত  ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা । আর কারো ঘুড়ি কাটা হলে  . . ..   চারদিকে “ভো কাট্টা , ভো কাট্টা “ কলরব । আর বাচ্চারা লগি নিয়ে ছুটে বেড়ায় কাটা ঘুড়ি ধরবার জন্য  . . .

Shakrain Festival

সংক্রান্তি বা সাকরাইন

পৌষ সংক্রান্তির এ্ই দিনকে ঢাকায় বলা হয় সাকরাইন। আদি ঢাকাই ভাষায় ‘হাকরাইন’। সাকরাইন বা হাকরাইন একান্তই ঢাকাইয়াদের নিজন্ব উৎসব এবং দীর্ঘ সাংস্কৃতিক চর্চার ফল। এটা বাংলাদেশের আর কোথায়ও উৎযাপিত হয় না ।

সাকরাইন উৎসবের আরেকটি দিক হল  বিশেষ ঘুড়ি উৎসব । এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে সুতা মাঞ্জা দেয়ার ধুম। নানা রঙের ঘুড়ি পসরা সাজিয়ে বসে অলিতে গলি দোকানগুলো।

সকরাইনের দিন ভোরবেলা থেকেই শুরু হয় ঘুড়ি উড়ানোর উম্মাদনা। ছোট বড় সবার হাতেই নাটাই। বেলা বাড়ার সাথে সাথে  উৎসবের জৌলুস বাড়তে থাকে। শুরু হয় ঘুড়ি কাটাকাটি খেলা।

প্রকৃতি আলো কমতে শুরু করলে ছাদে ছাদে বাড়তে থাকে লাল-নীল আলো। সাথে সাউন্ড সিস্টেম। শুরু হয় সে আরেক প্রতিযোগিতা। কে কত উচ্চ বাজনায় অন্যকে পিছে ফেলতে পারে। কারো ৬ পিয়ার বক্স, কারো ১০ পিয়ার বক্স। সাথে চলতে থাকে লাইন ধরে ফানুস উড়ানো। ইদানিং সাথে যুক্ত হয়েছে আতশবাজী। মুখে কেরসিন-আগুন বের করার খেলা। গানের তালে তালে সবাই নাচ গান। এ যেন এক অনবদ্য আনন্দ উৎসব।

বাংলাদেশি সেরা দশ পিঠা all Traditional Pithas (Rice Cakes) of Bangladesh অঞ্চলভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী পিঠা cover photo

Traditional Pithas of Bangladesh

বাংলাদেশি সেরা দশ পিঠা |

বাংলাদেশের পিঠার গল্প যেন বাঙালির জীবনেরই গল্প। প্রতিটি পিঠা শুধু খাবার নয়, আমাদের ঐতিহ্য আর আবেগের মিষ্টি চিঠি। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে, প্রতিটি গাঁয়ে, পিঠার সাথে মিশে আছে আলাদা আলাদা কাহিনি। সকাল সকাল ভাপা পিঠার গরম ধোঁয়া, চন্দ্রপুলির চাঁদ রূপ কিংবা পাটিসাপটা যেন গল্পে মোড়া এক মিষ্টি চিঠি যা শীতের সকালে আপন মানুষদের জড়ো করে। 

পুরান ঢাকার যে সব স্থানে
ঘটা করে সাকরাইন উৎসব পালন করে:

পুরান ঢাকার নবাবপুর, লালবাগ, চকবাজার,  সূত্রাপুর, মিলব্যারাক, বংশাল, ওয়ারী ও পোস্তগোলা হাজারীবাগ, সদরঘাট,  এলাকার মানুষ এখনো ঘটা করে সাকরাইন পালন করে। সাকরাইন উৎসব শুধু পুরান ঢাকাইয়াদের  মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই । এখন ঢাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের উৎসব হয়ে উঠেছে এই সাকরাইন উৎসব । পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্য কে সবার কাছে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমানে নেয়া হয় বিভিন্ন কর্মসুচি । ফেসবুকে খোলা হয় বিভিন্ন ইভেন্ট ।   পুরান ঢাকার ঐতিহ্যগুলো সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

সাকরাইন উৎসবে যে সব ঘুড়ি দেখা যায় :

চোখদার, মালাদার, ঘায়েল, দাবা প্রভৃতি নামে বিভিন্ন রকমের ডিজাইনের ঘুড়ি পাওয়া উড়ানো হয় সাকরাইন উৎসবে।

সাকরাইনে খাওয়া-দাওয়া

সকাল থেকেই ঘরে ঘরে বাহারি সব রসালো পিঠার আয়োজন। সাথে মুড়ির মোয়া , বাখরখানি। পুরান ঢাকাইয়াদের উৎসব আর বিরিয়ানি থাকবে না! বিরিয়ানি তো থাকছেই সাথে খিচুড়ি ও গরুর মাংসও।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:

সাকরাইন উৎসব ঢাকার মানুষের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা সামাজিক সংহতি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। এটি ঢাকার একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে



January 29, 2024
wall graffiti গ্রাফিতি july 2024 bangladesh 2nd independence day 5 august x fxyz x bfa +

গ্রাফিতি | GRAFFITI

bdfashion archive
গ্রাফিতিতে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশের গল্প ও আন্দোলন অভ্যুত্থানের নানা ঘটনা। তুলে ধরা…
January 29, 2024

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial