Sustainable Fashion-এর আলোচনায় Natural Dye x bfa x fxyz V2

প্রকৃতি, কারিগর আর ফ্যাশন—Natural Dye-এর গল্প

Natural dye হয়তো পুরো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বদলে দেবে না কিংবা natural dye-এর উপর নির্ভর করবে না। কিন্তু এটি আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়

Natural Dye

প্রাকৃতিক রঙ

ফাস্ট ফ্যাশনের যুগে পরিবেশের কতটা ক্ষতি হচ্ছে?

এই প্রশ্ন থেকেই এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে sustainable fashion নিয়ে। আর সেই আলোচনার ভেতরেই ফিরে এসেছে এক পুরোনো পদ্ধতি—NATURAL DYE

NATURAL DYE হয়তো পুরো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে বদলে দেবে না কিংবা natural dye-এর উপর পুরোপুরি নির্ভর করবে না। কিন্তু আমাদের এই প্রদক্ষেপ হয়তো কিছুটা হলেও – ফ্যাশন আর প্রকৃতির এক সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।

একটা সময় ছিল, যখন কাপড়ের রঙ মানেই ছিল প্রকৃতির রঙ। গাছের পাতা, ফুল, ফলের খোসা, কাঠের ছাল, এমনকি মাটির উপাদান থেকেও তৈরি হতো এসব প্রাকৃতিক রঙ। পাওয়া যেত সেই সব রঙের নানা শেড।
 
তারপর শিল্প বিপ্লব এলো। ফ্যাশন দ্রুত বদলাতে শুরু করলো, আর তার সঙ্গে বদলে গেল রঙের জগতও। নতুন নতুন রঙ, দ্রুত উৎপাদন, বড় বাজার—সব মিলিয়ে কেমিক্যাল ডাই হয়ে উঠলো টেক্সটাইল শিল্পের প্রধান মাধ্যম। দ্রুত, সস্তা আর সহজ সমাধান।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে একটা প্রশ্ন সামনে এসেছে— ফ্যাশনের এই দ্রুত গতির পেছনে পরিবেশের কতটা ক্ষতি হচ্ছে? এই প্রশ্ন থেকেই এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে sustainable fashion / টেকসই শিল্প নিয়ে। আর সেই আলোচনার ভেতরেই ফিরে এসেছে সেই পুরোনো পদ্ধতি—natural dye বা প্রাকৃতিক রঙ।

ন্যাচারাল ডাডিং নিয়ে প্রচলিত গল্প

এই শিল্পের গোড়াপত্তন নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত রয়েছে- একদিন এক নারী পুকুর ঘাটে হরিতকী গাছের নিচে পরনের কাপড় খুলে স্নান করতে পুকুরে নামেন। তিনি দেখেন, কিছু মৌমাছি তার কাপড়ের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্নান শেষে কাপড় পরতে গিয়ে দেখন, কাপড়ের উপর মৌমাছিদের মোমের দাগ। তাই তিনি কাপড়টিকে ধোয়ার জন্য হরিতকী গাছের নিচে বসে ধুলেন। ধোয়ার পরে দেখলেন যে, কাপড়ের যে জায়গাগুলোতে মৌমাছির মোম লেগেছিল, সেই জায়গাগুলি সাদা হয়ে গেছে আর ,বাকি, জায়গা হরতকীর রঙে খাকি রং হয়ে গেছে। সাদা অংশগুলোর জন্য কাপড়ে নকশার সৃষ্টি হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, এই ঘটনার ফলে ভারতীয় উপকুল অঞ্চলে বাটিক শিল্পের জন্ম হয়।

NATURAL DYE আসলে কী

সহজ ভাষায় বললে, Natural dye বলতে মূলত সেই সব রঙকে বোঝায় যার উপাদান আসে প্রকৃতি থেকে—যেমন উদ্ভিদ, ফল, ফুল, কাঠ, কখনও পোকামাকড় বা খনিজ উপাদান থেকেও। এখানে বড় পার্থক্যটা হলো-
কেমিক্যাল ডাই যেখানে ল্যাবের তৈরি, natural dye আসে সরাসরি প্রকৃতি থেকে। এই কারণেই এটি পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই পদ্ধতিতে কাপড় রাঙানোর ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা—বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ প্রকৃতি থেকেই রঙ সংগ্রহ করে কাপড় রাঙিয়েছে। তবে আধুনিক ফ্যাশনে এ বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে মূলত পরিবেশগত কারণে।
 
প্রকৃতির রঙ গুলোর মজার বিষয় হলো—একই উপাদান ব্যাবহার করে কাপড়ের ধরন, পানির গুণ, mordant (যা রঙকে কাপড়ে স্থায়ী করতে সাহায্য করে) এবং dyeing পদ্ধতির উপর নির্ভর থেকে নানা রকম শেড পাওয়া যায়। এই কারণেই natural dyed কাপড়ের মধ্যে থাকে এক ধরনের লাইভ বৈচিত্র্য। তার এই বৈচিত্রের কারনে এগুলো কখনও পুরোপুরি একই রকম হয় না।

সব ধরনের ফেব্রিক্স বা সুতায় ন্যাচারাল ডাই ব্যবহার করা যায় না। তবে সিল্ক সুতা এবং কটন কাপড়ে ন্যাচারাল ডাই হয়। এছাড়া উল কাপড়েও ন্যাচারাল ডাই করা সম্ভব।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা 


কোন উপাদান থেকে কোন প্রকৃতিক রঙ তৈরি হয়?
.

প্রকৃতির ভাণ্ডারে অসংখ্য রঙ লুকিয়ে আছে। সচরাচর যে সব পরিচিত প্রাকৃতিক রঙ ব্যাবহার হয় সেই সব রঙ গুলো সাধারণ কিছু উপাদান থেকেই তৈরি হয়। আর সেই রঙ গুলো কাপড়ের ধরন, পানির গুণ এবং dyeing পদ্ধতির উপর নির্ভর করে রঙের শেডও বদলানো সম্ভব। এই কারণেই natural dyed কাপড়ের একটা আলাদা প্রাণ থাকে—এগুলো একদম একরকম হয় না।

নীল রঙ

ইন্ডিগো পাতা থেকে পাওয়া যায় নীল রঙ। ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ডাইগুলোর একটি।
 
হলুদ ও সোনালি টোন

কাঁচা হলুদ (turmeric), গাঁদা ফুল এবং ডালিমের খোসা, সূর্যমুখী ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি হয় উজ্জ্বল হলুদ বা সোনালি রঙ।
 
লাল ও গোলাপি

যেকোন রকমের লাল ফুল, ডালিম, বীট, বা মন্জিষ্ঠা থেকে পাওয়া যায় লাল রঙ -এর বিভিন্ন শেড। আবার ল্যাক পোকা থেকেও তৈরি হয় গাঢ় লাল বা ক্রিমসন শেড।
 
কমলা ও বাদামি

পেঁয়াজের খোসা, বিভিন্ন গাছের বাকল বা খয়ের থেকে তৈরি হয় কমলা, তামাটে বা বাদামি রঙ।
 
মাটির টোন

চা পাতা, আখরোটের খোসা কিংবা বিভিন্ন উদ্ভিদ উপাদান থেকে পাওয়া যায় নরম earthy shade।

সবুজ রং

সবুজ ঘাস, পেপারমিন্ট পাতা, কাঁঠাল পাতা, শিকড় ইত্যাদি থেকে সাধারণত সবুজ রং সংগ্রহ করা হয়।

অ্যাশ এবং কালো:

হরতকি থেকে ছাই রঙ। আর গুড় ও জং পড়া লোহা থেকে কালো রঙ তৈরি করি করা যায়।

Sustainable Fashion ও Natural Dye
কেন আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে

আজকের দিনে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি শুধু ক্রিটিভিটি আর মটিফের জায়গা নয়, এটি একটি বিশাল শিল্প। কিন্তু এই শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে এখনই ভাবনার বিষয়। বিশেষ করে textile dyeing / synthetic dye প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কেমিক্যাল নদী, মাটি এবং পানির উৎসকে দূষিত করছে। এই বাস্তবতার কারণেই ফ্যাশন জগতে এখন টেকসই পদ্ধতির বিভিন্ন দিক খোজার চেষ্টা করছে। Natural dye সেই বিকল্পগুলোর একটি। কারণ এটি—

তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব, অনেক সময় স্থানীয় উপাদান দিয়ে তৈরি।

Biodegradable যা সাধারণত কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়


ছোট স্কেলে artisanal production সম্ভব যা কারিগরদের কাজের সুযোগ তৈরি করে

 
এই কারণেই Sustainable Fashion Movement-এর ভেতরে Natural dye একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এটি শুধু পরিবেশের জন্য নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের ফ্যাশনে NATURAL DYE

বাংলাদেশের ফ্যাশন আসলে অনেক আগে থেকেই প্রকৃতির রঙের সঙ্গে পরিচিত। জামদানি, খাদি, Handloom—এসব ঐতিহ্যের ভেতরেই Natural Colour ব্যাবহারের চর্চা ছিলো। আধুনিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এই ধারণাকে নতুনভাবে সামনে আনার চেষ্টা শুরু হয় মূলত নব্বই দশক থেকে।  এই ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্র্যান্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Aranya | অরণ্য
Aranya

অরণ্য

Aranya বাংলাদেশে Natural dye নিয়ে সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা ব্র্যান্ডগুলোর একটি। গাছের পাতা, ফলের খোসা, ফুল ইত্যাদি ব্যবহার করে তারা Textile Experimentation করেছে এবং Natural dyed Collection তৈরি করেছে। বাংলাদেশে Natural dye-এর প্রসঙ্গে কয়েকজন মানুষের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি হলো Ruby Ghuznavi।  তিনি বাংলাদেশের Natural dye গবেষণা ও প্রয়োগে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৯০ সালে রুবি গজনবী  অরণ্য  প্রতিষ্ঠা করেন। যা বাংলাদেশের একমাত্র ব্র্যান্ড প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে।  রুবি গজনবী শুধু অরণ্য প্রতিষ্ঠা নয়, তার কাজের মাধ্যমে Indigenous dye plants নিয়ে গবেষণা হয়েছে, এবং artisan-দের সঙ্গে এই জ্ঞান ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে Natural dye নিয়ে যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে এই ধরনের গবেষণা ও উদ্যোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। রুবি গজনবী সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো।

Aarong
এছাড়া আড়ং অরণ্যর মত বড় দাগে কাজ না করলেও দেশীয় কারুশিল্পভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে অনেক সময় eco-friendly textile ও প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহারকে উৎসাহ দিয়ে আসছে।
 
যাত্রা
handloom textile ও sustainable craft-এর সঙ্গে natural dye ব্যবহার করে বিভিন্ন collection তৈরি করেছে। এছাড়া ছোট ছোট designer label এবং artisan উদ্যোগও এখন natural dye নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

Living Blue (Indigo project)
বাংলাদেশে indigo একসময় ইতিহাসের অংশ ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তা প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। সেই হারিয়ে যাওয়া রঙকে আবার ফিরিয়ে আনার কাজটি করে Living Blue। Living Blue আসলে শুরু হয় একটা development project থেকে— CARE Bangladesh-এর “Nijeder Jonno Nijera” উদ্যোগ থেকে। লক্ষ্য ছিল খুব simple— গ্রামের মানুষদের নিজের সম্পদ ব্যবহার করে আয় করার সুযোগ তৈরি করা

সেখান থেকেই— indigo চাষ, natural dye তৈরি, kantha stitching,
shibori dyeing সব মিলিয়ে একটা ecosystem তৈরি হয়।
আর এই ecosystem থেকেই জন্ম নেয় Living Blue ব্র্যান্ড

বিস্তারিত পড়ুন  এই লিংকে –
 

Ruby Ghuznavi রুবি গজনবী natural color master x bfa x fxyz V2

Ruby Ghuznavi

রুবি গজনবী ✿ প্রাকৃতিক রঙের জাদুকর

১৯৭৯ সালে ভারতের একটি কারুশিল্পের ওয়ার্কশপে যান প্রাকৃতিক রঙ এর বিষয়টা কি দেখার জন্য। সেখানে কমলা দেবি তাকে প্রাকৃতিক রঙ নিয়ে কাজ করতে বলেন। ঢাকায় এসে জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, রশিদ চৌধুরীদের সঙ্গে একটি কারুশিল্পের ন্যাশনাল এক্সিবিশন করেছিলেন ১৯৮২ সালে। এরপর ভাবেন কিভাবে প্রাকৃতিক রং এর পরীক্ষা নিরিক্ষা করা যায়। গাছের গুড়া, ফুল, পাতা, পেয়াজের খোঁসা এমন হেন কোন সবজি নেই যা দিয়ে তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেননি। ভারত থেকে শিখে আসেন ৬টি রং তৈরির কৌশল। এখানে তিনি তৈরি করেন আরও ৯টি রং। মোট ১৫টি প্রাকৃতিক রং। 


তথ্যসূত্র: এই নিবন্ধের তথ্যাবলী বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ, পত্রিকা প্রতিবেদন ও বিশ্বকোষ থেকে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে। বিশেষত উইকিপিডিয়া (bn.wikipedia.org), প্রথম আলো (prothomalo.com), দ্য ডেইলি স্টার (thedailystar.net), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (tbsnews.net) সহ দেশি-বিদেশি উৎস থেকে এবং অপেন এআই এর মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত ছবিগুলো ঢাকার Bengal Foundation gallery–তে , বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে। ”বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের প্রদর্শনী ও মেলা” থেকে নেয়া হয়েছে।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial

Warning: Undefined array key "sfsi_threadsIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 165

Warning: Undefined array key "sfsi_blueskyIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 170
error

Your share and comment are an inspiration to us