Rabindranath Tagore| রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

‘গীতাঞ্জলি’ নয়, ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ —‘সং অফারিংস’-এর জন্য নােবেল পান রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩-এ। সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেছিলেন, “পাশ্চাত্য হইতে কোন গৌরব যদি আমি ভারতবর্ষে বহন করিয়া আনিয়া থাকি সেটা আমার একার নহে সেটা আমার দেশের, দেশের গৌরব, জাতির গৌরব, প্রত্যেক ভারতবাসীর গৌরব।”

Rabindranath Tagore

আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে। আজি হতে শতবর্ষ পরে।’ 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস

আজ ২২শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস। মনীষীতুল্য ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হয় এমনই শ্রাবণের এক দুপুরে। ১৩৪৮ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলা ১৩৪৮ সনের শ্রাবণ মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবীন্দ্রনাথ। চিকিৎসকরা পরামর্শ করে ঠিক করেন, অস্ত্রোপচার করতেই হবে। ৯ শ্রাবণ শান্তিনিকেতন থেকে ৮০ বছর বয়সী কবিকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ শ্রাবন (৩০ জুলাই) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার করা হলেও তা কাজে আসেনি। অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। এবং ২২ শে শ্রাবন মৃত্যু হয়।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন
২৫শে বৈশাখ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে। এই পরিবারটি পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেছিল ব্যবসার সূত্রে। রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, যিনি শুধু ধনসম্পদ অর্জন করেননি, বরং জনহিতকর কাজেও ছিলেন অগ্রগামী।

জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ যুগে সমাজ ও ধর্ম সংস্কারে এই পরিবারের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দ্বারকানাথ ঠাকুরের বন্ধু ছিলেন প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়, যাঁর একেশ্বরবাদী দর্শন এবং সমাজ সংস্কারের আদর্শ এই পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

দ্বারকানাথের মতো তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ এবং দৌহিত্র রবীন্দ্রনাথও এই আদর্শ ধারণ করেন। তাঁদের চিন্তাভাবনায় রামমোহনের উদারতা এবং সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। রবীন্দ্রনাথ একদিকে নিজের সৃষ্টিশীল প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকে সমৃদ্ধ করেছেন, অন্যদিকে তাঁর পরিবারের এই সংস্কৃতি ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ঠাকুর পরিবারের এই ঐতিহ্যই রবীন্দ্রনাথকে গড়ে তুলেছিল এক বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে, যিনি নিজের সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিরন্তন হয়ে উঠেছেন।

সাহিত্য ও শিল্পে ফ্যাশনের প্রতিফলন

শেষের কবিতা উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, “ফ্যাশন হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।” এই উক্তি যেন তাঁর ফ্যাশন দর্শনের মূলে প্রোথিত। পোশাক তাঁর কাছে কখনোই শুধু বাহ্যিক সাজসজ্জার মাধ্যম ছিল না; এটি ছিল আত্মপ্রকাশের একটি শিল্প, যা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলে যায়। রবীন্দ্রনাথের পোশাকের ধরন ছিল সহজ, কিন্তু গভীরতর অর্থবহ। তাঁর প্রিয় আলখেল্লা ও জোব্বার ঢিলেঢালা আরামদায়ক কাট তাঁর আরামপ্রিয়তা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক ছিল। কালো, গেরুয়া, নীল বা খয়েরি রঙের জোব্বাগুলো যেন তাঁর জীবনের বিভিন্ন রঙিন অধ্যায়ের কথা বলে।

শান্তিনিকেতনে তিনি পাঞ্জাবি ও লুঙ্গির মতো সাদামাটা পোশাক পরতেন। তবে তার এই সরল পোশাকও ছিল ব্যতিক্রমী; তাঁর পরা সুতির লুঙ্গি অনেকটা পেটিকোটের মতো দেখতে এবং সাধারণত গেরুয়া বা সাদার মতো স্নিগ্ধ রঙে মোড়া। শীতকালে তাঁর বিলিতি গ্রেট-কোট আর শেরওয়ানির মিশ্রণে তৈরি পোশাকগুলো প্রমাণ করে, তিনি ফ্যাশনের ক্ষেত্রে পশ্চিমা এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন। চাদর বা শালের মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে সুতি বা ভেলভেটের টুপি, তাঁর শীতকালীন স্টাইলের চূড়ান্ত রূপ দিত।

রবীন্দ্রনাথ শুধু নিজের পোশাকেই নয়, ঠাকুর পরিবারের ফ্যাশন সংস্কৃতিতেও নতুন ধারা এনেছিলেন। তাঁর মেজ বৌঠান জ্ঞানদানন্দিনী দেবী নারীদের পোশাকে আধুনিকতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বম্বে স্টাইলে শাড়ি পরা কিংবা পেটিকোট, ব্লাউজ, এবং জ্যাকেটের মতো পোশাক পরার রীতিগুলো ঠাকুর পরিবার থেকে বাঙালি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও রবীন্দ্রনাথের পোশাক ছিল আলোচনার বিষয়। ইংল্যান্ড বা জাপানের সফরে তাঁর flowing beard আর ঐতিহ্যবাহী ধুতি বা আলখেল্লা তাঁকে একজন ‘modern saint’ বা ‘ancient Oriental wizard’-এর ইমেজ দেয়। তাঁর পোশাক শুধু তাঁর দর্শনের প্রতীক ছিল না, এটি ছিল সেই সময়কার ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। সাহিত্য ও নাটকে তাঁর ফ্যাশনের ছোঁয়া স্পষ্ট। যেমন ‘শেষের কবিতা’য় ফ্যাশনের চেয়ে স্টাইলের গুরুত্ব তুলে ধরা, যা তাঁর চিন্তা ও সৃষ্টির মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।

আজও রবীন্দ্রনাথের ফ্যাশন অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর পোশাকের সরলতা ও রঙের বৈচিত্র্য আধুনিক ডিজাইনারদের নতুন ধারায় উদ্বুদ্ধ করে। সমসাময়িক ফ্যাশনের নানা উপাদানে তাঁর নান্দনিকতার ছাপ স্পষ্ট। রবীন্দ্রনাথ নিজেকে প্রমাণ করেছেন—ফ্যাশন কেবল মুখোশ হতে পারে, কিন্তু স্টাইল হলো সেই আত্মপরিচয়, যা আমাদের সবার জন্য চিরন্তন প্রেরণা।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️


রবীন্দ্র জয়ন্তী স্পেশাল কালেকশন

বিশ্বরঙ -এর
রবীন্দ্র জয়ন্তী
স্পেশাল কালেকশন

২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে বিশ্বরঙ শ্রদ্ধা জানায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে — এই দিনে নিজেকে প্রকাশ করুন বাঙালিয়ানায়, বিশ্বরঙ ট্র্যাডিশনাল কালেকশনে।

গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ
SONG OF OFFERINGS

৮ কার্তিক ১৩২৫ সিলেট যাবার পথে করিমগঞ্জ রেল জংশনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যে মানপত্র প্রদান করা হয়েছিল তা পাঠের পর কবি প্রত্যুত্তরে সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেছিলেন, “পাশ্চাত্য হইতে কোন গৌরব যদি আমি ভারতবর্ষে বহন করিয়া আনিয়া থাকি সেটা আমার একার নহে সেটা আমার দেশের, দেশের গৌরব, জাতির গৌরব, প্রত্যেক ভারতবাসীর গৌরব।” এই গৌরবে আমাদের গৌরবান্বিত করেছিল রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’। তবে বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’ নয়, ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ —‘সং অফারিংস’-এর জন্য নােবেল পান রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩-এ। আর ২০১৩ নােবেল প্রাপ্তির শতবর্ষ।

গীতাঞ্জলি হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। এই বইয়ে মোট ১৫৭টি গীতিকবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলি ব্রাহ্ম-ভাবাপন্ন ভক্তিমূলক রচনা। এর বেশিরভাগ কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথ নিজে সুরারোপ করেছিলেন।

গীতাঞ্জলি/দ্য সং অফারিংস-এ ১০৩টি কবিতা/গান স্থান পেয়েছে। বাংলা গীতাঞ্জলি কাব্যের ১৭৫টি কবিতা/গান থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে ৫৩টি কবিতা/গানকে স্থান দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০টি কবিতা/গান নিয়েছেন ৯টি কাব্যগ্রন্থ থেকে, যেমন-গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।

গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ

রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার

১৯১৩ সালের ১০ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর কবিপ্রতিভা আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি লাভ করে।
সুইডিশ একাডেমি পুরস্কার ঘোষণার সময় উল্লেখ করে যে, রবীন্দ্রনাথের কবিতা গভীর সংবেদনশীল, সতেজ এবং অপূর্ব সুন্দর। তাঁর নিজের ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে তিনি এই কাব্যিক চিন্তাধারা পশ্চিমা সাহিত্যের অংশে রূপান্তরিত করতে পেরেছেন। এজন্যই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial