Jamdani market place or jamdani haat in rupganj প্রাচীন জামদানি হাট -নোয়াপাড়া জামদানি হাট x bfa x fxyz

জামদানি হাট

তাতিঁরা হাত উচিয়ে যখন  শাড়ি  ধরেন তখনই জানান দেয় জামদানি শাড়ির অবস্থান কতটা উঁচুতে । বিক্রেতারা দু হাত উচিয়ে শাড়ি ধরেন । যার পছন্দ সে ছো মেরে নিয়ে বিক্রেতার সাথে দরদাম ঠিক করে নিয়ে নেন ।

জামদানি হাট

কেনাবেচার বাইরে এক জীবন্ত সংস্কৃতি

জামদানি হাট কেবল একটি কেনাবেচার স্থান নয়—এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যেখানে তাঁতিরা তাঁদের সৃষ্ট শিল্প তুলে ধরেন দু’হাত উঁচিয়ে। এখানে নেই দামী শোরুমের সাজানো আলোকসজ্জা বা চমকপ্রদ প্যাকেজিং, নেই সাধারণ ক্রেতাদের ঘোরাঘুরি। এখানে পসরা সাজিয়ে বসেন শিল্পীরা আর মূল্য দেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এই হাটেই শুরু হয় জামদানির নতুন যাত্রা—গ্রাম থেকে শহর, তাঁতের হাত থেকে শোরুমের র‌্যাকে পৌঁছানোর পথরেখা।

প্রাচীন জামদানি হাট নোয়াপাড়া জামদানি হাট x bfa (5)

জামদানি হাট:
শিল্পের বাজার, বাজারের শিল্প

প্রথমবার শুনলে ‘জামদানি হাট’ কথাটি থেকে যে ছবি মনে ভেসে উঠতে পারে, তা অনেকটা সাধারণ বাজারঘাটের মতো—দোকান সাজানো, ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন, পছন্দমতো শাড়ি বাছাই করছেন, দরদাম করছেন, শেষে সুন্দর ব্যাগে প্যাক করে “ধন্যবাদ, আবার আসবেন” বলে বিদায় জানানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবের জামদানি হাট ঠিক এইরকম নয়। এটি একেবারেই আলাদা, ব্যতিক্রমী এবং নিজস্বতা-বহুল একটি কাঠামো।

জামদানি হাট হলো একটি নির্দিষ্ট একটা জায়গা — যেখানে ইটের গাঁথুনি দিয়ে উচুঁ চত্বর বানানো আছে। বলছি শীতলক্ষ্যার পশ্চীম তীরে প্রাচীন জামদানির হাট, নোয়াপাড়া জামদানি হাটের কথা। এখানে বসার জন্য থাকে চটের মাদুর, তবে এই মাদুরে বসতে পারেন না আপনি বা আমি—সাধারণ ক্রেতা। এই হাটের ক্রেতা হলেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি বিক্রেতারা, যারা শাড়ি সংগ্রহ করেন নিজেদের দোকানের জন্য কিংবা ব্র্যান্ড শোরুমে বিক্রির উদ্দেশ্যে।

যারা শাড়ি বিক্রি করতে আসেন, তারা জামদানি তাঁতি বা তাঁতের মালিক। কেউ আসেন হাতে গোনা দুই-তিনটি শাড়ি নিয়ে, কেউবা আসেন চটের ব্যাগ ভর্তি বহু শাড়ি নিয়ে। শাড়িগুলো সাজিয়ে বসানোর সুযোগ নেই, নেই শোকেস বা হ্যাঙ্গার। তার বদলে তাঁতিরা দু’হাত উঁচিয়ে একেকটি শাড়ি ধরে দাঁড়ান, যেন নিজেই শাড়িটির গুণাগুণ ঘোষণা করছে। শাড়ি যে পছন্দ হয়, পাইকারি ক্রেতারা সেটি “ছো মেরে” তুলে নেন, শুরু হয় দরদাম। দাম ঠিক হলেই হয় লেনদেন।

এই পুরো দৃশ্যটা যেন একটি জীবন্ত শিল্পমেলা—কিন্তু এখানে নেই হট্টগোল, নেই উত্থানপতনের নাটকীয়তা। আছে কারুশিল্পের নিঃশব্দ অথচ দৃপ্ত ভাষা। একজন তাঁতি যখন তার শাড়ি তুলে ধরেন, তা শুধু একটি পণ্য নয়—তাঁর পরিশ্রম, দক্ষতা ও আত্মার প্রকাশ। হাটে দাঁড়িয়ে থাকা এই তাঁতিরা জানান দেন, জামদানি শাড়ির অবস্থান কতটা উঁচুতে।

এই হাটের শাড়িগুলোই পরে ছড়িয়ে পড়ে দেশের নামিদামি ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউজগুলোতে। কিন্তু সেই শুরুর মুহূর্তটি—তাঁতির হাত ধরে শাড়ি তুলে ধরা—সেইখানেই লুকিয়ে থাকে জামদানির আসল গল্প।

বিসিক শিল্পনগরীতে জামদানি হাট / নোয়াপাড়া জামদানি হাট

ঠিকানা : নোয়াপাড়া , তারাবো পৌরসভা, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ।

প্রাচীন জামদানি হাট /
নোয়াপাড়া জামদানি হাট

বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম অংশ হলো প্রাচীন জামদানি হাট বা নোয়াপাড়া জামদানি হাট। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে, শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই হাটে প্রতি শুক্রবার ভোরবেলা জেগে ওঠে এক শিল্পের নগরী—যেখানে তাঁতিরা, মহাজন এবং পাইকাররা মিলে গড়ে তোলেন একটি প্রথাগত অথচ প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক আয়োজন।

এই হাটে সপ্তাহজুড়ে বোনা জামদানি শাড়িগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন স্থানীয় তাঁতিরা ও মহাজনরা। প্রতি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা (কখনো কখনো ৫টা থেকেই শুরু হয়ে যায়) পর্যন্ত চলে এই হাটের কার্যক্রম। তবে এটি কোনো নতুন আয়োজন নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই হাটের বয়স প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বছর, কেউ কেউ বলেন ৩৫০ বছর পর্যন্ত পুরোনো।

যদিও হাটটি শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহ্য বহন করে, তবে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) স্থানীয় তাঁতিদের কথা মাথায় রেখে এই হাটকে সংগঠিত এবং নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে এই হাটটি বিসিক শিল্প নগরীতে বসে।

এই হাটে মূলত পাইকারি বিক্রেতারা আসেন—তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জামদানি বিক্রির উদ্দেশ্যে এখান থেকে শাড়ি সংগ্রহ করেন। এই পাইকাররা রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, এমনকি দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসেন।

অন্যদিকে, শাড়ি নিয়ে আসেন মহাজন ও তাঁতিরা, যারা রূপগঞ্জের রূপসী, মৈকুলী, খাদুন, নোয়াপাড়া, পবনকুল, কাজীপাড়া, মোগরাকুল, সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজার এলাকার তাঁতের ঘর থেকে নিজ হাতে তৈরি করা জামদানি নিয়ে হাজির হন।

একেকটি শাড়ি বিক্রির সময় তাতিঁরা দু’হাত উঁচিয়ে শাড়ি প্রদর্শন করেন—এই ভঙ্গিমাই যেন জামদানি শিল্পের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। শাড়ি পছন্দ হলে দরদাম হয়, বিক্রয় হয়, আর এরপর সেই শাড়ি ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউজে।

জামদানির হাটে শাড়ির দাম, লেনদেন ও ইজারার গল্প

জামদানি হাটে গেলে একজায়গায় সব শাড়ির দাম সমান নয়—এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রতিটি শাড়ির ডিজাইন, জটিলতা, কারিগরদের সময় ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে দাম নির্ধারিত হয়। এই হাটে আপনি যেমন ১,২০০ টাকার সাধারণ জামদানি পাবেন, তেমনি ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা দামের দুর্লভ ও নকশাদার শাড়িও কিনতে পারবেন।

তাঁতি ও জামদানি বেপারিদের মতে, প্রতিটি হাটবারে ৬,০০০ থেকে ৮,০০০টি জামদানি শাড়ি কেনাবেচা হয়। এটি নিছক একটি স্থানীয় বাজার নয়—এখানে চলে বড় পরিসরের লেনদেন। শাড়ির দামের গড় বিবেচনায়, প্রতি হাটে প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

এই লেনদেন সরাসরি তাঁতিরা কিংবা মহাজনেরা পাইকারদের সঙ্গে করেন। কোনো শোরুম, বিক্রয় প্রতিনিধি বা দালাল নেই—শিল্পীর হাত থেকে ব্যবসায়ীর হাতে সরাসরি পৌঁছে যায় শাড়ি। এরপর এই শাড়িগুলো ঢাকাসহ দেশের নানা জায়গার ফ্যাশন হাউজ ও দোকানে পৌঁছায়, যেখানে বাড়তি দাম দিয়ে সেগুলো বিক্রি হয়।

এই হাট বসাতে বিসিক শিল্প নগরী কর্তৃপক্ষ একটি ইজারা ফি নির্ধারণ করেছে। যেকোনো বিক্রেতা বা তাঁতিকে প্রতি শাড়ির জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ইজারা দিতে হয়। এর মাধ্যমে তাঁতিরা নির্দিষ্ট স্থানে বসার সুযোগ পান এবং হাট ব্যবস্থাপনাও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।

প্রাচীন জামদানি হাট নোয়াপাড়া জামদানি হাট x bfa (2)

জামদানি হাটে যাবেন যেভাবে :

যেখান থেকে আসেন না কেন , ডেমরা চৌরাস্তা থেকে উত্তর দিকে লতিফ বাওয়ানি জুট মিল সড়ক ধরে এগোলে ডেমরা বাজার । ডেমরা পার হয়ে সুলতানা কামাল সেতু পাশ দিয়ে নোয়াপাড়া দিক যেতে কাউকে জানতে চাইলে দেখিয়ে দিবে ।

ঠিকানা : নোয়াপাড়া , তারাবো পৌরসভা, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ।



তথ্যসূত্র
prothomalo.com/ঢাকাই-জামদানির-রঙিন-ভুবন
bbc.com/bengali
bn.wikipedia.org
চিত্রসূত্র : ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ
গ্রাফিক্স : ফায়জী হাসান


স্বীকৃতি


২০১৩ সালে জামদানী বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অনন্যসাধারণ নির্বস্তুক সংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেইজ) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে ।

ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

জামদানি শাড়ি গ্যালারি

PICTURE OF JAMDANI SAREE



জামদানি সম্পর্কে বিস্তারিত

আলাদা আলাদা করে বর্ণনা দেয়া আছে। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন লিংকে –

JAMDANI | SOURCE OF THE DESIGN

কারও কারও মতে, জামদানির নকশায় ইরান, ইরাক ও তুর্কি কার্পেট ও লৌকিক নকশার ছাপ রয়েছে। কারও কারও মতে, জামদানির নকশা একান্তভাবে বাংলার তাঁতিদের সৃজনশীলতা পরিচায়ক।

জামদানি বুনন এর কৌশল ও প্রক্রিয়া

জামদানি বুনন এর কৌশল ও প্রক্রিয়া

ওস্তাদ ভরনার সুতা মাকুর সাহায্যে সাগরেদ এর দিকে চালান দেয় এরপর ‘দোপ্তি ’ টেনে কান্ডুর দয়ে  নিখুঁত ভাবে ঘুরিয়ে জামদানির মুল নকশা তোলা হয় ।

tools of jamdani weaving

জামদানি তৈরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

‘জামদানি’ হচ্ছে বিশেষ ভূগোল ও পরিবেশে শিল্প চর্চার বিশেষ একটি ধরণ যার মাধ্যমে একজন তাঁতি  সুতা , রং , মাকু , কান্ডুর এবং তাঁত এর মাধ্যমে নৈপুণ্য শিল্প তৈরী করে ।

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর

‘এই শিল্প উৎপাদনের সাথে শুধু তাঁতিই নয়, জামদানি তৈরির প্রতিটি স্তরে যুক্ত আছে বিভিন্ন ঘরাণার মানুষ।

জামদানি শাড়ি বিভিন্ন ধরণ

জামদানি শাড়ি বিভিন্ন ধরণ

কাউন্ট দিয়ে সুতার মান বোঝানো হয়ে থাকে । যে সুতার কাউন্ট যত বেশি, সেই সুতা তত চিকন হয়ে থাকে ।জামদানি শাড়ির সুতার কাউন্ট সাধারনত ৩২ থেকে ২৫০ কাউন্টের হয়ে থাকে । 

how to recognize jamdani

আসল জামদানি শাড়ি চেনার উপায়

জামদানি বুননে মুলত  প্রতিটি নকশার  সুতা  ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নকশা তোলা হয় । যার ফলে  সুতার কোন অংশ বের হয়ে থাকে না। এ কারণে জামদানি নকশায় দুই দিকেই ফুটে উঠে ।

jamdani tate bosar dua

তাঁতে বসার দোয়া

এ কালের শ্রেষ্ঠ জামদানি ওস্তাদ হিসাবে স্বীকৃত হাজি কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া ভাষ্যমতে, বালক বয়সে তাঁতে বসার আগে তিনি যে দোয়াটি পাঠ করতেন, তা হিন্দু দেবতা বিশ্বকর্মার উদ্দেশ্যে , দেবতা হিসাবে নয় বরং গুরু ধার্যে ।

জামদানি শাড়ি কাটা করা

জামদানি বানানোর সময় তাঁতিরা সুতাতে মাড় ব্যবহার করে। শাড়ি কয়েকবার পরার পর সেই মাড় গুলো নষ্ট হয়ে যায় বলে শাড়িটা নরম হয়ে যায়।

jamdani markteplace

জামদানি হাট

তাতিঁরা হাত উচিয়ে যখন  শাড়ি  ধরেন তখনই জানান দেয় জামদানি শাড়ির অবস্থান কতটা উঁচুতে।  

jamdani motif preservation

জামদানি নকশা সংরক্ষণ

ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।


December 9, 2025
pabna jora bangla mandir পাবনার জোড়বাংলা মন্দির x bfa x fxyz

পাবনার জোড়বাংলা মন্দির—এক ঐতিহাসিক স্থাপনা

fayze hassan
বাংলার জোড়বাংলা মন্দির বলতেই মনে আসে— দিনাজপুরের কান্তনগর/কান্তজীউ মন্দির, পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর জোড়বাংলা মন্দির। পাবনার এই মন্দির সেই ঐতিহ্যের…
December 9, 2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial

Warning: Undefined array key "sfsi_threadsIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 165

Warning: Undefined array key "sfsi_blueskyIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 170
error

Your share and comment are an inspiration to us