shell craft of Bangladesh ঝিনুক শিল্প x bfa x fxyz

এক সম্ভাবনাময় শিল্পের নাম—ঝিনুক শিল্প

ঝিনুক শুধু খোলসে নয়, তার ভেতরে লুকিয়ে রাখে ‘মুক্তা’—বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান রত্ন।

বাংলাদেশের ঝিনুক শিল্প ও মুক্তা চাষের ভবিষ্যৎ

Shell Craft of Bangladesh

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে এক অমূল্য সম্ভাবনা—ঝিনুক শিল্প। এটি শুধু একটি শিল্প নয়, বরং খাদ্য, সৌন্দর্য, অলংকার ও রফতানির এক গৌরবময় সম্ভাবনার নাম। ঝিনুক শুধু খোলসে নয়, তার ভেতরে লুকিয়ে রাখে ‘মুক্তা’—বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান রত্ন। তাইতো কক্সবাজার রেলস্টেশনের সামনের ঝিনুক-মুক্তা ভাস্কর্য আমাদের শিল্পের সম্ভাবনার আরও স্পষ্ট করে। যদিও আমাদের দেশের ৬৯,৯০০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০০ প্রজাতির ঝিনুকের বেশিরভাগই এখনো অব্যবহৃত।

বিশ্বব্যাপী হীরার পরই মুক্তার স্থান। আর এই মুক্তা জন্মায় ঝিনুকের ভেতরেই। এই শিল্প যদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে বাংলাদেশ অর্জন করতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।

Which areas in Bangladesh are known
for shell-based handicrafts?

কোথায় কোথায়
ঝিনুক শিল্প গড়ে উঠছে?
.

বাংলাদেশে ঝিনুক শিল্প মূলত কক্সবাজার, মহেশখালী, চট্টগ্রাম, কুতুবদিয়া, ভোলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলগুলোতে লবণাক্ত পানির পাশাপাশি মিঠা পানির ঝিনুকও পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩০০ প্রজাতির লবণাক্ত পানির ঝিনুক এবং ২৭ প্রজাতির মিঠা পানির ঝিনুক পাওয়া গেছে। তবে মুক্তা উৎপাদনের দিক দিয়ে ৫টি প্রজাতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যা প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। প্রাণী বিজ্ঞানের পরিভাষায় মোলাস্কা পর্বে কয়েকটি প্রাণীর দেহ নিঃসৃত পদার্থ জমাট বেঁধে যে পদার্থ সৃষ্টি হয় তাই ‘মুক্তা’ নামে পরিচিত। আর এ বিস্ময়কর কাজটি সম্পন্ন হয় ঝিনুকের দেহ অভ্যন্তরে। বৈজ্ঞানিকভাবে এদের বলা হয় Perna Viridis এবং Crassostrea স্পিসিস। এসব ঝিনুক চাষের মাধ্যমে খাদ্য, অলংকার, ওষুধ এমনকি প্রাণিসম্পদের খাদ্য উৎপাদন সম্ভব।


ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা তৈরি হয় দুটি উপায়ে:
মুক্তার জন্ম—প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে



প্রাকৃতিকভাবে:
ঝিনুক চলাফেরা বা খাদ্য গ্রহণের সময় হঠাৎ কোনো বহিরাগত বস্তু (যেমন বালি, পাথরের কণা) ঝিনুকের দেহে ঢুকে গেলে, আটকে যায় তখন সেটি আর বেরোতে পারে না তখন ঝিনুক তা ঘিরে রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এ নিঃসরণই ধীরে ধীরে ওই বহিস্থ পদার্থের উপরে জমতে জমতে মুক্তার সৃষ্টি হয়।


কৃত্রিমভাবে (চাষ মুক্তা):
এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্টভাবে ঝিনুকের দেহের মাংসপিণ্ডে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কণা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঝিনুক ওই স্থানে ব্যথা অনুভব করে এবং ওই ব্যথা নিরাময়ের জন্য এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান ছড়ায় যা ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপ নেয়। বিজ্ঞানীরা একে বলেন নেইকার (nacre)। চীনে প্রায় ১,৪০০ বছর আগে থেকেই এই কৃত্রিম মুক্তা চাষের প্রচলন আছে। বাংলাদেশেও এটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে—বিশেষ করে কক্সবাজার ও মহেশখালীতে।

shell craft of Bangladesh
ছবিসূত্র: ইন্টারনেট

 ঝিনুকের নানা ব্যবহার

খাদ্য হিসেবে:

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্নপ্রকার ঝিনুক খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে, বিশেষকরে রাখাইন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা ঝিনুককে খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়। এছাড়া ঝিনুকের মাংস চিংড়ি, কাঁকড়া ও হাঁসের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্যে ক্যালসিয়ামের বিকল্প হিসেবে ঝিনুকের শেলের/খোলের গুঁড়া খাদ্যের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি ঝিনুক থেকে তৈরি চুন পানের সাথে খাওয়া হয়



শিল্প ও অলংকার:

সর্বাধিক মূল্যবান মুক্তা উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ঝিনুক ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শেল ব্যাবহার করে গয়না: কানের দুল, মালা, আংটি, চুড়ি
শো-পিস: লাইটশেড, পর্দা, টেবিল ল্যাম্প, পাখির মূর্তি, বোতাম, খাপ, চুলের ক্লিপ, চাবির রিং, পুতুল, ঝাড়বাতি তৈরি করা হয়। এই পণ্যের বেশিরভাগই তৈরি হয় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ও মহেশখালীর নারী কারিগরদের হাতে। ঝিনুক সংগ্রহ, পরিস্কার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শিল্পে রূপ দেওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখেন গ্রামের নারী কারিগরেরা।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️


ছবিসূত্র: রাজন আহম্মেদ
সমুদ্র ও শিল্পের প্রতীক: ঝিনুক-মুক্তার ভাস্কর্য
.

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন—একটি বিশাল ঝিনুকের খোলসের মাঝে বিশ্রাম নিয়েছে মুক্তার প্রতীক। যা কক্সবাজার রেলস্টেশনের সামনের ঝিনুক-মুক্তা ভাস্কর্য । এটি শুধু আর্ট ইনস্টলেশন নয়, বরং বাংলাদেশের উপকূলীয় শিল্প—ঝিনুক শিল্পের সম্ভাবনার আরও স্পষ্ট করে।

The International Market:
Bangladesh’s Challenges and Opportunities

আন্তর্জাতিক বাজার ও
বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা এবং সম্ভাবনা
.

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চীন, জাপান, ফ্রান্স, কোরিয়া ও ডেনমার্ক ঝিনুক চাষ ও মুক্তা শিল্পে অনেক এগিয়ে। এই দেশগুলো বছরে কোটি কোটি ডলারের ঝিনুকজাত পণ্য রফতানি করে। বাংলাদেশে এই শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও এখনো তা কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হয়নি। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে—


দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাব, ডিজাইন ও আধুনিক পণ্যের স্বল্পতা, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সহায়তার ঘাটতি। বাংলাদেশ যদি চীনের মতো পরিকল্পিত ঝিনুক চাষ, প্রশিক্ষণ, এবং রফতানিমুখী উৎপাদন শুরু করে, তাহলে—
বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের হস্তশিল্প জগতে ঝিনুক পণ্য একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করবে


সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ডিজাইন ইনস্টিটিউট, এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। ঝিনুক শিল্প শুধু একখানি অলংকার নয়—এটা মানুষের জীবিকা, নারীর স্বপ্ন, আর দেশের সম্ভাবনার একটি রত্নভাণ্ডার। প্রাকৃতিক সম্পদকে দক্ষতা ও পরিকল্পনায় পরিণত করতে পারলে বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে ঝিনুকের খোলস ভেদ করে উঠবে নতুন সম্ভাবনার মুক্তা।


September 6, 2025
jute industry-jute handicraft of Bangladesh-পাটশিল্পের পুনর্জাগরণ-পাট কারুশিল্প- x bfa x fxyz

পাটশিল্পের পুনর্জাগরণ: গ্রামীণ কারুশিল্প থেকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং

fayze hassan
পাটশিল্প এখন শুধু অতীতের ঐতিহ্য নয়; বরং ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নতুন ক্যানভাস—যেখানে ঐতিহ্য, উদ্ভাবন আর টেকসই…
September 6, 2025
August 31, 2025
Jute industry of Bangladesh বাংলাদেশের পাটশিল্প x bfa x fxyz V2

বাংলাদেশের পাটশিল্প: ঐতিহ্য, বর্তমান অবস্থা ও সোনালি আঁশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

bdfashion archive
‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ/পাট পণ্যের বাংলাদেশ’ -এ স্লোগানে ২০১৭ সালে দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হয়…
August 31, 2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial

Warning: Undefined array key "sfsi_threadsIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 165

Warning: Undefined array key "sfsi_blueskyIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 170
error

Your share and comment are an inspiration to us