Buddha-Purnima-বুদ্ধ-পূর্ণিমা-bfa-x-fxyz-2024

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা | Buddha Purnima

‘সবেব সত্তা ভবন্তু সুখিতত্তা’ অর্থাৎ, ‘জগতের সব প্রাণী সুখি হোক’।

Buddha Purnima

“সবেব সত্তা সুখীতা ভবন্তু”
‘জগতের সব প্রাণী সুখি হোক’

বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ এইদিনে জন্মগ্রহণ করেন, বুদ্ধত্ব লাভ করেন এবং দেহত্যাগ করে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এই ত্রিস্মৃতি বিজরিত দিনকে বৌদ্ধরা শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করে থাকেন।

বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথির প্রথম দিনে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন করা হয়। বৈশাখ মাসের এই পূর্ণিমা দিবসে মহামানব বুদ্ধের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল, খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দের এ দিনে  গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন, ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এ দিনে তিনি সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে জগতে বুদ্ধ নামে খ্যাত হন এবং ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এ দিনে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।

বুদ্ধ শব্দের অর্থ ‘জ্ঞানী’। তাঁর আরেক নাম সিদ্ধার্থ। এছাড়া শাক্য বংশে জন্ম বলে তিনি শাক্যসিংহ নামেও পরিচিত। তাঁর পিতার নাম শুদ্ধোধন, মাতার নাম রাণী মহামায়া। রাজা শুদ্ধোধনের প্রধান রাণী মায়াদেবী।

গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম হয়েছিল লুম্বিনী কাননের শালবৃক্ষ ছায়ায় খোলা আকাশের নিচে। তার কাছে জাতি, শ্রেণি ও গোত্রের ভেদাভেদ ছিল না। তিনি মানুষকে মানুষ এবং প্রাণীকে প্রাণিরূপেই জানতেন এবং এর প্রাণসত্তার মধ্যেই যে কষ্টবোধ আছে তা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সবেব সত্তা ভবন্তু সুখিতত্তা’ অর্থাৎ, ‘জগতের সব প্রাণী সুখি হোক’। কথিত আছে, স্বাভাবিক, সৎ ও অহিংস জীবনযাপনে গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুরাগীদের পঞ্চশীল তত্ত্ব মেনে চলতে বলেছিল। এই তত্ত্ব মেনে চললে মানুষ সমস্ত দু:খ, দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবে সহজেই। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, বুদ্ধকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বলে মনে করা হয়।

বস্তুত বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম। গৌতম বুদ্ধ ছিলেন বৌদ্ধদের শিক্ষক বা পথপ্রদর্শক, সৃষ্টিকর্তা বা প্রভু নন। আমি তোমাকে মুক্ত করব, বুদ্ধ একথা বলেন নি। তিনি বলেছেন, জগতে কর্মই সব। মানুষ তার কর্ম অনুসারে ফল ভোগ করবে। ভাল কাজ করলে ভাল ফল এবং খারাপ কাজের জন্য খারাপ ফল পাবে। কর্মানুসারে মানুষ অল্প আয়ু, দীর্ঘ আয়ু, জটিল ব্যাধিগ্রস্থ, নিরোগ, বিশ্রী-সুশ্রী, সুখী-দুখী, উঁচু-নিচু, জ্ঞানী-মূর্খ ইত্যাদি ফল ভোগ করে। 

বৌদ্ধধর্মের উৎসব হলেও ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সর্বসাধারণের জন্য এই দিনটি সরকারি ছুটি থাকে। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধবিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং মানব জাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

feel free to contact for high resolution picture for commercial purpose




তথ্যসূত্র: bangla.thedailystar.net



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial