Paisley Motif: পারস্যের Boteh থেকে বাংলার কলকা

Paisley Motif বা কলকা কী? প্রাচীন পারস্যের Boteh থেকে কাশ্মীরি শাল হয়ে বাংলার জামদানি, সিল্ক ও নকশিকাঁথায় কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল এই জনপ্রিয় মোটিফের গল্প।

Paisley Motif

বাংলার কলকা

আমজনতার মতোই, আম-সদৃশ কলকা মোটিফও বহুল ব্যবহৃত একটি মোটিফ। এর মূল নাম Paisley Motif। আমরা একে কলকা বা কাইরি মোটিফও বলে থাকি।

Paisley Motif-এর নামের যেমন বাহার, তেমনি এর বিচরণও স্টকল্যান্ড থেকে শুরু করে প্রাচীন পারস্য, মুঘল আমল ঘুরে আমাদের উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

যাই হোক, মূল কথায় আসি।
Paisley / কলকা মোটিফ চেনে না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। তবুও একটু বলি।

Paisley হলো কাপড়ের নকশায় ব্যবহৃত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মোটিফ বা ডিজাইন, যা দেখতে অনেকটা বাঁকানো এক ফোঁটা পানির মতো কিংবা কাঁচা আমের মতো। যুগ যুগ ধরে ফ্যাশন ও টেক্সটাইল দুনিয়ায় এটি অন্যতম ক্ল্যাসিক ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।

বিশ্বজুড়ে এটি ‘Paisley’ নামে পরিচিত হলেও, এই নামটি এসেছে স্কটল্যান্ডের একটি শহরের নাম থেকে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই মোটিফটির আদি জন্ম কিন্তু ইউরোপে নয়; বরং প্রাচীন পারস্য (বর্তমান ইরান) ও মধ্য এশিয়ায়। সেখানে এটিকে বলা হতো ‘Boteh’ বা ‘Buta’।
পারস্য সংস্কৃতিতে এই মোটিফকে জীবন, উর্বরতা এবং অনন্তকালের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো।

পারস্য থেকে এই ডিজাইনটি প্রাচীন বাণিজ্যপথ ধরে ভারতে, বিশেষ করে কাশ্মীরে, আসে। মুঘল আমলে কাশ্মীরের কারিগররা তাদের বিশ্ববিখ্যাত কাশ্মীরি শাল-এর বুননে এই মোটিফের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করেন।
১৮ শতকের দিকে ব্রিটিশ শাসনামলে কাশ্মীরি শাল ইউরোপের উচ্চবিত্তদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শালের চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে ইউরোপের ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে এর নকল বা অপেক্ষাকৃত সস্তা সংস্করণ তৈরি করতে শুরু করেন।

Elderly Artisan Embroidering Colorful Textiles

স্কটল্যান্ডের Paisley শহরের তাঁতিরা Jacquard loom ব্যবহার করে কাশ্মীরি শালের আদলে বিপুল পরিমাণ শাল তৈরি করতে শুরু করেন। Paisley শহরের তৈরি এসব শাল পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। একসময় এই মোটিফটিই শহরের নাম অনুসারে ‘Paisley Pattern’ বা ‘Paisley Motif’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

আমাদের দেশেও এই মোটিফ অত্যন্ত ব্যাপকভাবে দেখা যায়। তবে বাঙালি সংস্কৃতির নিজস্ব ঘরানায় এটিকে ‘Paisley’ বলা হয় না; আমাদের দেশে এর সুপরিচিত নাম ‘কলকা’ (Kalka)। দীর্ঘদিনের ব্যবহার আর নিজস্ব নকশাভাষার কারণে কলকা এখন আমাদের দেশীয় textile design-এরই একটি পরিচিত অংশ বলে মনে হয়।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, সিল্ক, কাতান ও মসলিন শাড়ির আঁচল এবং জমিনে কলকা বা Paisley মোটিফের চমৎকার ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি ও কুর্তিতেও এই নকশার নিয়মিত ব্যবহার রয়েছে।

গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথাতেও বড় বাঁকানো বা আম-সদৃশ মোটিফের ব্যবহার দেখা যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে কলকা বা Paisley-এর একটি লোকজ রূপের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

বাংলার
কলকা

একই মোটিফ—পারস্যের Boteh থেকে কাশ্মীর, আর সেখান থেকে বাংলার কলকা। সময় ও জায়গা বদলেছে, বদলেছে নামও; কিন্তু মোটিফটি তার নিজস্ব character নিয়ে আজও টিকে আছে।  বলছি  Paisley মটিফ এর কথা।

এআমাদের দেশেও এই মোটিফের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। তবে বাঙালি নকশাভাষায় এটি ‘Paisley’ নামে নয়, বরং বেশি পরিচিত ‘কলকা’ (Kalka) নামে। দীর্ঘদিনের ব্যবহার এবং স্থানীয় নকশার সঙ্গে মিশে গিয়ে কলকা আজ আমাদের দেশীয় textile design-এরই একটি পরিচিত মোটিফ বলে মনে হয়।




তথ্যসূত্র: এই নিবন্ধের তথ্যাবলী বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ, পত্রিকা প্রতিবেদন ও বিশ্বকোষ থেকে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।

বিশেষত উইকিপিডিয়া সহ দেশি-বিদেশি উৎস থেকে এবং অপেন এআই এর মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial