Patola Saree  পাটোলা শাড়ি fashion School knowing art x bfa x fxyz

পাটোলা শাড়ি: ডাবল ইকাতের রাজকীয় গল্প

Patola Saree

পাটোলা
শাড়ি

দায়িত্ব নিয়ে বলা যায় – যদি ইকাত টেক্সটালের সর্বোচ্চ শিল্প রূপ দেখতে চাই তবে তা মিলবে ভারতের গুজরাটের পশমি ও রেশমি সুতায় বোনা ঐতিহাসিক ‘পাটোলা’ শাড়িতে। 

গুজরাটে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে—
“পড়ি পতানি ভাত, ফাটে পন ফিটে নহি” 

(পটুয়ার ইকাতের নকশা কাপড় ছিঁড়ে গেলেও রঙ বা নকশা কখনো ম্লান হয় না)।
১০০ বছর পার হয়ে গেলেও নাকি আসল পাটোলার রঙ ও উজ্জ্বলতা একই রকম থাকে।

পাটোলা কেন এত রাজকীয় ?
বিষয়টা একটু সহজ করে বলি- সাধারণ ইকাতের ক্ষেত্রে কি হয়! সুতা  লম্বালম্বি অথবা আড়াআড়ি যেকোনো একটিকে মেপে রঙ করা হয়। তারপর বোনা হয়। তাইতো? কিন্তু  পাটোলা হলো  ডাবল ইকাত।  মানে  লম্বালম্বি এবং আড়াআড়ি—উভয় দিকের সুতাকেই নকশা অনুযায়ী  মাপে মেপে আলাদাভাবে বেঁধে রঙ করা হয়। 
 
তারপর তাঁতে বুননের সময় তাঁতিকে প্রতি পদে পদে খেয়াল রাখতে হয় যাতে লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি সুতার রঙিন অংশগুলো হুবহু একে অপরের সাথে মিলে যায়। মিলিমিটারের ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশের ভুল হলেও পুরো নকশাটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

একটি খাঁটি পাটোলা শাড়ি তৈরি করতে ৪ থেকে ৫ জন দক্ষ তাঁতির নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। কখনও আরও বেশি

আসল পাটোলা চেনার উপায়

উভয় পিঠ হুবহু এক: ডাবল ইকাতের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে পাটোলা কাপড়ের সোজা ও উল্টো পিঠ একদম একই রকম দেখায়। কোনটি সোজা আর কোনটি উল্টো—তা খালি চোখে আলাদা করা অসম্ভব!  

পাটোলা
শাড়ির
নকশা

পাটোলা শাড়ির নকশায় সাধারনত
লোকজ মটিফ, প্রকৃতি এবং জ্যামিতিক নকশার প্রাধান্য দেখা যায়। 

নারীকুঞ্জ
নৃত্যরতা নারী বা নর্তকীর প্রতিকৃতি।
রত্নচক
জ্যামিতিক হীরা বা রত্নাকৃতির প্যাটার্ন।
হাথী-পোপট
রাজকীয় হাতি এবং তোতাপাখির মটিফ।
ফুলভাট
ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতার নকশা।

বিলুপ্তির পথে ‘পতন পাটোলা’


ডাবল ইকাত পদ্ধতিটি এতটাই জটিল যে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার যেমন পাটনের বিখ্যাত ‘সালভি’ পরিবার, প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে খাঁটি পতন পাটোলা (Patan Patola) তৈরি করে আসছে। অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং বিপুল খরচ সাপেক্ষ হওয়ায় বর্তমানে বাজারে অনেক একক ইকাত বা রাজকোটি পাটোলা পাওয়া যায়, তবে পাটনের অরিজিনাল ‘ডাবল ইকাত পাটোলা’ আজও টেক্সটাইল সংগ্রাহকদের কাছে অমূল্য।

পাটনের বিখ্যাত ডাবল ইকাত “Patan Patola”  ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI Tag) স্বত্ব লাভ করে। 



Ikat textile ইকাত x bfa x fxyz

ইকাত: ‘পারফেক্টলি ইমপারফেক্ট’
–

জানেন কি এমনও ইকাত আছে যা বুনতে  ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে। তেমনই জেরিংসিং’ নামক এক ধরনের বিশেষ ডাবল ইকাত যা তৈরি হয় বালির তঙ্গানান (Tenganan) গ্রামে।

আরও একটা তথ্য হলো ভারতের (পাটোলা), জাপানের (তাতেসুরা) এবং বালির এই একটি গ্রাম ছাড়া পৃথিবীতে আর কোথাও ডাবল ইকাত তৈরি হয় না।

বিস্তারিত লিংকে-

উজবেকিস্তান
(Uzbekistan)

বিভিন্ন দেশের ইকাত উইভিং প্যাটার্ন এক হলেও বিভিন্ন দেশের ইকাত এর নিজস্ব একটা সিগনেচার আছে।  যেমন উজবেকিস্তান (Uzbekistan) 

উজবেক ইকাত যা ‘আব্রবান্দি’ নামে পরিচিত। এককথায় অত্যন্ত বোল্ড, লাউড ও ড্রামাটিক! সিল্ক রোডের এই ঐতিহ্যবাহী ইকতে বড় বড় মোটিফ, স্ট্রাইকিং কালার কনট্রাস্ট এবং উজ্জ্বল মেজেন্টা, হলুদ ও নীলের ক্যানভাস দেখা যায়।

জাপানি ইকাত
(Kasuri)

জাপানি ইকাত বা ‘কাশুরি’ (Kasuri) হলো মিনিমালিজমের সেরা উদাহরণ। মূলত নিল বা ইন্ডিগো (Indigo) রঙে জ্যামিতিক রেখা ও বিন্দুর হালকা নকশায় তৈরিতে ওস্তাদ এরা। 


তথ্যসূত্র: এই নিবন্ধের তথ্যাবলী বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ, পত্রিকা প্রতিবেদন ও বিশ্বকোষ থেকে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে। বিশেষত উইকিপিডিয়া সহ দেশি-বিদেশি উৎস থেকে এবং অপেন এআই এর মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়েছে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial