Prabarana Purnima শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা x bfa x fxyz Lantern Festival Under the Full Moon

প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব

প্রবারণা পূর্ণিমা

Pavarana Purnim

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব নিজ নিজ সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে সবার অংশগ্রহণে হয়ে ওঠে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও মানবিক মিলনের উপলক্ষ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। সন্ধ্যায় রঙিন ফানুস ওড়ানোর কারণে উৎসবটি সাধারণ মানুষের কাছে ফানুস উৎসব হিসেবেও পরিচিত।

প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয় তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নির্দিষ্ট বিহারে অবস্থান করে ধর্মচর্চা, ধ্যান ও আত্মশুদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। এই সময়ের সমাপ্তিতে পালিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা।

‘প্রবারণা’ শব্দটি আহ্বান বা আমন্ত্রণের ধারণার সঙ্গে যুক্ত। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিতে এই দিনে ভিক্ষুরা একে অপরকে নিজেদের ভুলত্রুটি তুলে ধরার এবং তা সংশোধনের সুযোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা আত্মসমালোচনা, সংযম ও শুদ্ধ জীবনযাপনের অঙ্গীকার করেন।

প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সন্ধ্যায় রঙিন ফানুস ওড়ানো এবং প্রদীপ প্রজ্বালন। বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাহিনি ও বিশ্বাসে ফানুসের আলোকে জ্ঞান, সত্য ও অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবারণা পূর্ণিমা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায় উৎসবটির বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখা যায়।

বাংলাদেশের কোথায় কোথায় পালিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা?

বান্দরবান:
মারমা সম্প্রদায়ের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ নামে পরিচিত। এ সময় বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে প্রার্থনা, প্রদীপ প্রজ্বালন, বুদ্ধমূর্তি স্নান ও ফানুস ওড়ানোর আয়োজন করা হয়।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি:
বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও পাহাড়ি জনপদে ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা এবং ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়।

কক্সবাজারের রামু ও উখিয়া:
ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধবিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, সংঘদান ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।

ঢাকা:
ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার, মেরুল বাড্ডাসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কুয়াকাটা ও পটুয়াখালী:
রাখাইন সম্প্রদায়ের পল্লি ও বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে ধর্মীয় আচার, প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালিত হয়।

চট্টগ্রাম:
নন্দনকাননসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায় দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্‌যাপন করা হয়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial