kashida embroidery - Fashion School knowing art x bfa x fxyz +

কশীদা সেলাই: সাধারণ চেইন সেলাইয়ের রাজকীয় ইতিহাস

Kashida

কাশীদা

ছোটবেলা থেকে আমরা একে স্রেফ ‘চেইন সেলাই’ বলেই চিনে এসেছি। কিন্তু জানার বাইরে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ভোকাবুলারিতে এর একটি বেশ আভিজাত্যপূর্ণ পরিচয় রয়েছে—যার নাম ‘কাশীদা’ (Kashida)।

kashida embroidery - Fashion School knowing art x bfa x fxyz +

শীতের সময় মায়ের যে শালটা চোখ বন্ধ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সেটা হলো গাঢ় কালো রঙের একটি শাল। যার চারপাশের পাড়জুড়ে রঙ-বেরঙের সুতায় চেইন সেলাইয়ে টানা লতানো ফুল, আর চার কোনায় ছড়ানো রাজকীয় ফুলের ঝাড়। সবকটি মোটিফই চেইন সেলাইয়ে ভরাট করা। তবে বেশির ভাগই ছিলো শেড সুতার এবং মাল্টি কালার। তবে প্রতেকটা কালার কমপ্লিমেন্টারি। 

ছোটবেলা থেকে আমরা একে স্রেফ ‘চেইন সেলাই’ বলেই চিনে এসেছি। কিন্তু জানার বাইরে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ভোকাবুলারিতে এর একটি বেশ আভিজাত্যপূর্ণ পরিচয় রয়েছে—যার নাম ‘কাশীদা’ (Kashida)।

ফার্সি শব্দ ‘কশিদান’ থেকে আসা এই শিল্পের আদি শেকড় মূলত হিমালয়ঘেরা ভূস্বর্গ কাশ্মীরে। পারস্য ও মধ্য এশিয়ার নান্দনিক প্রভাবে সেখানেই প্রথম এর বিকাশ ঘটে। পরবর্তীতে মোঘল সম্রাট ও সুবাদারদের হাত ধরে আঠারো ও উনিশ শতকে ঢাকার নওয়াবি আভিজাত্যেও এই সেলাই বিশেষ স্থান করে নেয়। তবে সেই ইতিহাসের গভীরে না গিয়ে সহজ কথায় বললে—ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরের এই বিশেষ সূচিশিল্পকেই ‘কশিদা’ বলা হয়।

কশিদা
সেলাইয়ের
কৌশল

তবে কশিদা মানেই যে কেবল চেইন সেলাই, তা কিন্তু নয়। নকশা ও উপকরণের ওপর ভিত্তি করে এতে স্যাটিন স্টিচ, স্টেম স্টিচ, চেইন স্টিচ এবং ক্রুয়েল ওয়ার্কের মতো নানাবিধ সেলাইয়ের কৌশল ব্যবহার করা হয়। কাশ্মীরি ঐতিহ্য অনুযায়ী এর ধরনগুলোকে এভাবে দেখলে বুঝতে সহজ হবে:

সোজনি (Sozni)
অত্যন্ত সূক্ষ্ম সেলাই, যা কাপড়ের উভয় পাশ থেকেই প্রায় একইভাবে দৃশ্যমান হয়।

আরি (Aari)
পেঁচানো সুতা ও বিশেষ বাঁকানো সুঁচ ব্যবহার করে দ্রুত চেইন স্টিচের মাধ্যমে নকশা তোলা হয়।

জ্বলকদোজি (Zalakdozi)
চেইন স্টিচ দিয়ে তৈরি ভারী ও ভরাট কাজ, যা মূলত গালিচা, কুশন কভার কিংবা পর্দার মতো মোটা কাপড়ে ব্যবহৃত হয়।

সাঁটি / পাট সেলাই (Satin Stitch)
সমান্তরাল ফ্ল্যাট সেলাইয়ের মাধ্যমে ফাঁকা নকশা সুন্দরভাবে ভরাট করা।

কাশীদার
মোটিফ

কাশীদার মোটিফ বা নকশার মূল অনুপ্রেরণা হলো প্রকৃতি। এতে পদ্ম, চিনার পাতা, আপেল ফুল, আঙুর লতা, জাফরান ফুল এবং নানা ধরনের পাখি—বিশেষ করে বুলবুলি ও ময়ূরের ব্যবহার চোখে পড়ে। মায়ের সেই স্মৃতির শালটি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ফ্যাশন ক্যানভাস, কশিদা আজও তার নিজস্ব আভিজাত্যে অনবদ্য।




তথ্যসূত্র: এই নিবন্ধের তথ্যাবলী বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ, পত্রিকা প্রতিবেদন ও বিশ্বকোষ থেকে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে। বিশেষত উইকিপিডিয়া সহ দেশি-বিদেশি উৎস থেকে এবং অপেন এআই এর মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial