Different stage of jamdani making জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর x bfa x fxyz

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর

জামদানি বুননের ক্ষেত্রে দক্ষ ভূমিকা পালন করে ‘হাওজাইন্না’। সুতা টানা দেওয়াই যাদের মূল কাজ। এঁরা সমান তালে হেটে হেটে জোড়া খুটিতে সুতা টানা দিয়ে থাকেন। টানা সুতা ৪০ থেকে ৫০টি ববিনে পেঁচানো থাকে।

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর

Different stage of jamdani making

জামদানি তৈরির প্রক্রিয়া যেন এক জাদুর বুনন—প্রতিটি সুতা, রঙ, আর তাঁতের সাথে মিশে থাকে একটি গল্প। প্রাচীন মসলিনের উত্তরসূরী এই শিল্প শুধু কাপড় নয়, বাঙালির ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির প্রতীক। প্রতিটি শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির ছোঁয়া, কারিগরের নিপুণতা, আর সময়ের স্পর্শ। জামদানির প্রতিটি স্তর—সুতার প্রস্তুতি থেকে নকশার সূচনা, তাঁতে বুনন থেকে রঙের ব্যবহার—সব কিছুই একে তোলে অনন্যসাধারণ। এই নিবন্ধে আমরা তুলে ধরব জামদানি তৈরির সেই জটিল, কিন্তু মুগ্ধকর প্রতিটি ধাপের গল্প।

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর
.

মহাজন

জামদানি উৎপাদনে অর্থলগ্নির প্রধান ভূমিকা পালন করেন মহাজনেরা। তাঁরা সরাসরি জামদানি বুননে যুক্ত না থাকলেও তাঁতিদের এবং সাগরেদদের নিয়োগ দেন। মহাজনেরা সেই ঘরগুলোর মালিক হিসেবেও পরিচিত, যেখানে জামদানি বোনা হয়।

ওস্তাদ

জামদানি বুননে মূল কারিগরকে বলা হয় ওস্তাদ বা মাস্টার। তাঁরা সাধারণত এক বা দুটি বুনন ইউনিট পরিচালনা করেন। ওস্তাদরা পণ্য সরাসরি হাটে বিক্রি করেন অথবা মহাজনদের কাছে সরবরাহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা মহাজনের অধীনে কর্মচারী হিসেবেও কাজ করেন।

সাগরেদ

ওস্তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন সাগরেদ। তাঁরা ওস্তাদের নির্দেশ মেনে কাজ করেন। সাধারণত সাগরেদ ডানপাশে বসে এবং ওস্তাদ বামপাশে। ছোটবেলা থেকেই নরম হাতে বুননের কাজ শুরু করেন সাগরেদরা। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে একদিন তাঁরা নিজেই ওস্তাদ হয়ে ওঠেন।

সুতা পরানি

জামদানি তৈরিতে সুতার প্রাথমিক প্রস্তুতিতে নারীরাই কাজ করেন। তাঁরা ভাতের মাড় ও সুতার মিশ্রণে চড়কির মাধ্যমে নাটাই তৈরি করেন এবং পরে এটি শুকিয়ে চাটা প্রস্তুত করেন।

হাওজাইন্না

জামদানি বুননের ক্ষেত্রে টানা সুতার কাজ করেন হাওজাইন্নারা। তাঁরা জোড়া খুঁটিতে সুতা টানা এবং শানা প্রস্তুত করেন। প্রতি টানায় প্রায় পাঁচটি বা তার বেশি শাড়ি তৈরি করা যায়।

শানা

চিরুনি সদৃশ বস্তুকে শানা বলা হয়। নারীরা সাধারণত এই কাজটি করেন। তাঁরা বাঁশের তৈরি খাঁচ কাটা চিরুনির ফাঁকের মধ্যে দিয়ে সুঁই দিয়ে সুতা গেঁথে শানা তৈরি করেন।

ভিম টাননি

টানার সুতাকে মূল ফ্রেমে বসানোর জন্য বাঁশের মাধ্যমে পেঁচানো হয়, যাকে ভিম বলা হয়। এই কাজ সাধারণত ২ থেকে ৩ জনের দল করে সম্পন্ন করা হয়, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই অংশগ্রহণ করেন।

বও বিন্দাইন্না / গাঁথুনি

ভিম তৈরি হওয়ার পর বাও এর মধ্যে সুতা স্থাপন করাকে গাঁথুনি বলা হয়। নারীরাই এই কাজটি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন।

পয়া ফেলা

জামদানি তৈরির পুরো প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ হলো পয়া ফেলা। এটি হল তাঁত পুরোপুরি প্রস্তুত করার ধাপ। এই প্রতিটি ধাপের মধ্য দিয়ে জামদানি শাড়ি তার অসাধারণ শৈল্পিক রূপ পায়, যা বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে।



তথ্যসূত্র
prothomalo.com/ঢাকাই-জামদানির-রঙিন-ভুবন
bbc.com/bengali
bn.wikipedia.org
চিত্রসূত্র : বিপুল হোসেন এবং ইন্টারনেট
গ্রাফিক্স : ফায়জী হাসান


স্বীকৃতি


২০১৩ সালে জামদানী বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অনন্যসাধারণ নির্বস্তুক সংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেইজ) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে ।

ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

জামদানি শাড়ি গ্যালারি

PICTURE OF JAMDANI SAREE



জামদানি সম্পর্কে বিস্তারিত

আলাদা আলাদা করে বর্ণনা দেয়া আছে। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন লিংকে –

JAMDANI | SOURCE OF THE DESIGN

কারও কারও মতে, জামদানির নকশায় ইরান, ইরাক ও তুর্কি কার্পেট ও লৌকিক নকশার ছাপ রয়েছে। কারও কারও মতে, জামদানির নকশা একান্তভাবে বাংলার তাঁতিদের সৃজনশীলতা পরিচায়ক।

জামদানি বুনন এর কৌশল ও প্রক্রিয়া

জামদানি বুনন এর কৌশল ও প্রক্রিয়া

ওস্তাদ ভরনার সুতা মাকুর সাহায্যে সাগরেদ এর দিকে চালান দেয় এরপর ‘দোপ্তি ’ টেনে কান্ডুর দয়ে  নিখুঁত ভাবে ঘুরিয়ে জামদানির মুল নকশা তোলা হয় ।

tools of jamdani weaving

জামদানি তৈরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

‘জামদানি’ হচ্ছে বিশেষ ভূগোল ও পরিবেশে শিল্প চর্চার বিশেষ একটি ধরণ যার মাধ্যমে একজন তাঁতি  সুতা , রং , মাকু , কান্ডুর এবং তাঁত এর মাধ্যমে নৈপুণ্য শিল্প তৈরী করে ।

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর

জামদানি তৈরির বিভিন্ন স্তর

‘এই শিল্প উৎপাদনের সাথে শুধু তাঁতিই নয়, জামদানি তৈরির প্রতিটি স্তরে যুক্ত আছে বিভিন্ন ঘরাণার মানুষ।

জামদানি শাড়ি বিভিন্ন ধরণ

জামদানি শাড়ি বিভিন্ন ধরণ

কাউন্ট দিয়ে সুতার মান বোঝানো হয়ে থাকে । যে সুতার কাউন্ট যত বেশি, সেই সুতা তত চিকন হয়ে থাকে ।জামদানি শাড়ির সুতার কাউন্ট সাধারনত ৩২ থেকে ২৫০ কাউন্টের হয়ে থাকে । 

how to recognize jamdani

আসল জামদানি শাড়ি চেনার উপায়

জামদানি বুননে মুলত  প্রতিটি নকশার  সুতা  ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নকশা তোলা হয় । যার ফলে  সুতার কোন অংশ বের হয়ে থাকে না। এ কারণে জামদানি নকশায় দুই দিকেই ফুটে উঠে ।

jamdani tate bosar dua

তাঁতে বসার দোয়া

এ কালের শ্রেষ্ঠ জামদানি ওস্তাদ হিসাবে স্বীকৃত হাজি কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া ভাষ্যমতে, বালক বয়সে তাঁতে বসার আগে তিনি যে দোয়াটি পাঠ করতেন, তা হিন্দু দেবতা বিশ্বকর্মার উদ্দেশ্যে , দেবতা হিসাবে নয় বরং গুরু ধার্যে ।

জামদানি শাড়ি কাটা করা

জামদানি বানানোর সময় তাঁতিরা সুতাতে মাড় ব্যবহার করে। শাড়ি কয়েকবার পরার পর সেই মাড় গুলো নষ্ট হয়ে যায় বলে শাড়িটা নরম হয়ে যায়।

jamdani markteplace

জামদানি হাট

তাতিঁরা হাত উচিয়ে যখন  শাড়ি  ধরেন তখনই জানান দেয় জামদানি শাড়ির অবস্থান কতটা উঁচুতে।  

jamdani motif preservation

জামদানি নকশা সংরক্ষণ

ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।


December 9, 2025
pabna jora bangla mandir পাবনার জোড়বাংলা মন্দির x bfa x fxyz

পাবনার জোড়বাংলা মন্দির—এক ঐতিহাসিক স্থাপনা

fayze hassan
বাংলার জোড়বাংলা মন্দির বলতেই মনে আসে— দিনাজপুরের কান্তনগর/কান্তজীউ মন্দির, পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর জোড়বাংলা মন্দির। পাবনার এই মন্দির সেই ঐতিহ্যের…
December 9, 2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial

Warning: Undefined array key "sfsi_threadsIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 165

Warning: Undefined array key "sfsi_blueskyIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 170
error

Your share and comment are an inspiration to us