eid-mubarak-ঈদ-মোবারক-x-bfa-x-fxyz-www.bdfashionarchive.comHAPPYMUBARAKwww.bdfashionarchive.comMay-this-Eid-V2

মুসলিম জাতির প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব | ঈদ মোবারক

মুসলমানের জন্য ঈদ একটি মহা-ইবাদতও। ঈদের ইবাদতে শরিয়ত নির্দেশিত কিছু বিধিবিধান রয়েছে।

ঈদ, মুসলিম জাতির প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব। কেননা, মুসলমানদের জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন হচ্ছে ঈদের দিন। ঈদ উৎসব অন্য ১০টি উৎসবের মতো নয়, এটি ইবাদতকেন্দ্রিক উৎসব।

এদিনে সবাই ভেদাভেদ ভুলে সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। কারণ, ঈদ মানেই আনন্দ আর খুশির দিন। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা রোজা পর পালিত হয় ঈদুল ফিতর। সব ভেদা ভেদ ও পরিচয় ভুলে এই দিন মানুষ কেবল আনন্দে এক অপরকে বুকে জড়াবে। আনন্দ ভাগাভাগি করে নিবে নির্বিশেষে। ঈদের আনন্দ হোক সার্বজনীন। যেমনটা কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,

‘আজ ভুলে যা সব হানাহানি, হাত মেলা হাতে’।


ঈদ শুরু হয়ে যায় চাঁদ রাত থেকেই। চাঁদ রাতে এলাকার মোরে মোরে কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত গান ‘ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/ও তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন; আসমানি তাকিদ/তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহেলিল্লাহ/দে জাকাত মুর্দা মুসলিমে আজ ভাঙাইতে নিদ।’ শুনতে পাওয়া যায় তখন যেন আনন্দটা দ্বীগুন হয়ে যায়। শুরু হয় পটকা, আতশবাজি। জানান দেয় যে কাল ঈদ।

২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর উদযাপন

”সুলতানি আমলের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবারের ঈদ নতুনভাবে উদযাপিত হোক। শুধু ব্যক্তি কিংবা পরিবার কেন্দ্রিক ঈদ আনন্দ না হয়ে, এবারের ঈদটা কাটুক সমবেতভাবে।”

২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর
সুলতানি-মুঘল আমলের
ঐতিহ্যকে ধারণ করে
উদযাপন

২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর উদযাপনে ঢাকার রাজপথে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়, যা সুলতানি-মুঘল আমলের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুনভাবে উৎসবের রূপ দিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এই মিছিলের আয়োজন করে, যাতে ঢাকার ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য প্রতিফলিত হয়েছে। ৩১ মার্চ, সোমবার সকালে শেরে বাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ঈদের প্রধান জামাতের পর সকাল ৯টায় শুরু হয় এই মিছিল, যা সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সুলতানি আমলের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এবারের ঈদকে সমবেত আনন্দের উৎসবে রূপ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মিছিলে সুসজ্জিত পাঁচটি শাহী ঘোড়া, ১৫টি ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড পার্টি, বাদ্যযন্ত্র এবং সুলতানি-মুঘল আমলের ইতিহাসচিত্র সম্বলিত পাপেট শো ছিল, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিশেষ আকর্ষণ যোগ করে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিছিলটি আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, “সুলতানি আমলের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবারের ঈদ নতুনভাবে উদযাপিত হোক। এটি শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক নয়, বরং সমবেতভাবে আনন্দ উদযাপনের একটি মাধ্যম হোক।” মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীদের সেমাই ও মিষ্টি খাওয়ানো হয় এবং একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সমাপ্ত হয়। এছাড়া, ‘ন্যায্য ঢাকা শহর’ গড়ার বার্তাসহ সামাজিক ঐক্যের নানা প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন মিছিলে আগতরা। ২০২৫ সালের এই ঈদ আয়োজন সুলতানি আমলের গৌরবময় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে এক অনন্য উৎসবের রূপ দিয়েছে।

সুলতানি আমলের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর উদযাপন x bfa x fxyz (127) web

ব্যান্ডদলের বাদ্যের তালে তালে আনন্দমিছিল।

সুলতানি আমলের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর উদযাপন x bfa x fxyz (127) web

আনন্দমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কেমন ছিল সুলতানি ও মোগল আমলের ঈদ মিছিল?

সুলতানি ও মোগল আমলের ঈদ মিছিল ছিল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি উৎসবের অংশ, যা সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম শাসনাধীন হলেও, নামাজ, রোজা ও ঈদ উদযাপনের প্রচলন তারও আগে থেকে শুরু হয়েছিল। তবে ঘটা করে ঈদ পালনের রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সুলতানি আমলে।

সুলতানি আমলের ঈদ মিছিল

সুলতানি আমলে ঢাকা শহরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হতো বলে ধারণা করা হয়। এই সময়ে গ্রামীণ কৃষিনির্ভর বাংলার মুসলমানরা তাদের সাধ্য অনুযায়ী ঈদের আনন্দে শামিল হতো। ইবাদতের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ-উৎসব ছিল এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই আয়োজনে ভিন্ন ধর্মের মানুষও অংশ নিত, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আনন্দ ভাগাভাগির একটি উদাহরণ স্থাপন করত। তবে সুলতানি আমলে ঈদের আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ছিল না। মিছিলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও, এটি মূলত সম্প্রদায়কেন্দ্রিক উৎসব হিসেবে পালিত হতো।

মোগল আমলের ঈদ মিছিল

মোগলদের আগমনের পর বঙ্গদেশে ঈদ উদযাপন আরও প্রাণবন্ত ও জাঁকজমকপূর্ণ রূপ লাভ করে। মোগল আমলে ঈদ মিছিল ছিল উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজধানীতে সম্রাটরা ঈদের নামাজে যোগ দিতেন মিছিলের মাধ্যমে, যা মোগলাই জৌলুসের প্রকাশ ঘটাত। ১৬১০ সালের পর থেকে, আগ্রার অনুকরণে ঢাকার ঈদ উৎসব জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে। মোগলদের ঈদ দুই-তিন দিন ধরে চলত, যেখানে সংগীত, নৃত্য, আতশবাজি এবং কামান দাগার মতো আয়োজন ছিল।
মির্জা নাথানের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যায় মোমবাতির আলোয় ঢাকা শহর আলোকিত হতো, শাহী তূর্য বাজত, এবং আতশবাজির খেলা মধ্যরাত পর্যন্ত চলত। তবে তার স্মৃতিকথায় মিছিলের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, তৎকালীন সুবাদার ইসলাম খাঁ চিশতি সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুকরণে ঢাকায় ঈদ মিছিল শুরু করতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু তার ১৬১৩ সালে মৃত্যুর পর এই রীতি বেশিদিন টিকে থাকেনি।
পরবর্তীতে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনকালে (১৬৫৮-১৭০৭) ঈদ উদযাপনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। তার কঠোর নীতির কারণে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তার মৃত্যুর পর, নায়েব নাযিমদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় ঈদ আবার উৎসবের রূপ ফিরে পায়। উনিশ শতকে নায়েব নাযিম নুসরত জঙ্গের সময়ে ঈদ মিছিলে সজ্জিত হাতি, ঘোড়া, পালকি, সৈন্যদল, বাদ্যযন্ত্র এবং রঙিন ছাতার সমারোহ দেখা যায়, যা আলম মুসাওয়ারের চিত্রকর্মে ধরা আছে।

সুলতানি আমলে ঈদ মিছিল সাধারণ ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক হলেও, মোগল আমলে তা রাজকীয় জৌলুস ও বৈচিত্র্যে ভরে ওঠে। সুলতানি আমলের সরলতা ও মোগল আমলের জাঁকজমক মিলে ঢাকার ঈদ মিছিল একটি ঐতিহাসিক ধারা তৈরি করে, যা ২০২৫ সালের আয়োজনে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে

Eid Mubarak

মুসলিম জাতির প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব

ঈদ শব্দটি আরবি, এর বাংলা অর্থ খুশি, আনন্দ, আনন্দোৎসব ইত্যাদি। আর ফিতর অর্থ রোজা ভাঙা, খাওয়া ইত্যাদি। তা হলে ঈদুল ফিতরের অর্থ দাঁড়ায় রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ। মুসলিম উম্মাহ বছরে দুটি ঈদ পালন করে থাকে আর তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। একটি আসে পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনের মাধ্যমে আর অপরটি আসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান কোরবানির স্মৃতিরূপে পশু কোরবানির মাধ্যমে। 

ঈদের ইবাদতে শরিয়ত

মুসলমানের জন্য ঈদ একটি মহা-ইবাদতও। ঈদের ইবাদতে শরিয়ত নির্দেশিত কিছু বিধিবিধান রয়েছে।  ঈদুল ফিতরের শরিয়তের দিক হলো, ঈদের নামাজের আগে রোজার ফিতরা ও ফিদিয়া আদায় করা, ঈদগাহে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা, খুতবা শোনা এবং উচ্চৈঃস্বরে তাকবির পাঠ করা। 

ঈদের ফিতরা আদায়

ঈদের আগে প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী, শিশু এমনকি সদ্য জন্মলাভকারী শিশুর জন্যও নির্ধারিত ফিতরা আদায় করা জরুরি। ফিতরার টাকা দিয়ে গরিব, অসহায় দুস্থরা অন্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ করে থাকে। এ ফিতরা ঈদের নামাজের আগেই আদায় করা উচিত। কেননা গরিব রোজাদার যেন ফিতরার অর্থ দিয়ে ঈদের খুশিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। ফিতরা দেওয়া কারো ওপর কোনো প্রকার অনুগ্রহ নয়। এটা আমাদের জন্য ইবাদতের অংশ।

ঈদের নামাজ

ঈদের নামাজের মাধ্যমেই ঈদের প্রকৃত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ঈদের সব প্রস্তুতি মূলত আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে শোকরানা স্বরূপ দুই রাকাত নামাজ পড়ার মাধ্যমে। মসজিদে এই দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজে আজান ও আকামত নেই। দুই রাকাত নামাজে সর্বমোট ১২টি তাকবির দিতে হয়। প্রথম রাকাতে সুরা-কারাত শুরু করার আগে ৭টি তাকবির অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলতে হয়, তারপর যথারীতি ১ম রাকাত পুরা করে দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ৫টি তাকবির দিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর খুতবা প্রদান করতে হয়। খুতবা শেষ হলে ইজতেমায়ি দোয়া করে সবাই মোলাকাত করতে থাকে। ঈদ আনন্দে সবাই বুকে বুকে মিলে একাকার হয়ে যায়।

আসুন, ঈদের উৎসবকে রঙিন করতে গরিব ও অসহায়দের দিকে সাম্যের হাত বাড়িয়ে দিই। খোঁজ নেই আমার, আপনার, সবার পাড়া প্রতিবেশীর। গরিব অসহায়দের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।


আপনার একটি শেয়ার এবং মন্তব্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ❤️


লেখাটি অনেকাংশ প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার “ঈদের আনন্দে উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি হৃদয়” থেকে নেয়া হয়েছে।মুল লেখক মাহমুদ আহমদ।



লেখাটি অনেকাংশ প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার “ঈদের আনন্দে উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি হৃদয়” থেকে নেয়া হয়েছে।মুল লেখক মাহমুদ আহমদ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial

Warning: Undefined array key "sfsi_threadsIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 165

Warning: Undefined array key "sfsi_blueskyIcon_order" in /home/bdfashio/public_html/wp-content/plugins/ultimate-social-media-icons/libs/controllers/sfsi_frontpopUp.php on line 170
error

Your share and comment are an inspiration to us