শিল্পী শফিকুল আমীন -এর জন্ম ১৯১২ সালের ১৬ জুলাই অবিভক্ত ভারত, আসামের রাজধানী শিলং শহরে।
শিল্পী শফিকুল আমীন
ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল থেকে বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পাশ করেন ১৯৩০ সালে। ১৯৩৬ সালে কোলকাতা আর্ট কলেজ থেকে চার বছরের কলাশিক্ষা কোর্স সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবন :
নানা জায়গায় চাকরির পর ১৯৪৬ সালে কোলকাতা আর্ট স্কুলে সহকারী নকশাবিদ হিসেবে যোগ দেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সালে চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৪৯ সালে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে দুই বছরের জন্য কলাশিক্ষা জন্য যান ইংল্যান্ডে। সেখান থেকে ফিরে এসে ১৯৬১ সালে যোগ দেন আর্ট কলেজে (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এখানে তিনি অধ্যক্ষ’র দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৬৮ সালে আর্ট কলেক থেকে অবসর গ্রহন করেন। সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরের পরিচালক হিসেবে ছিলেন ১৯৭৬-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত। শরীর গঠনে পারদর্শী ছিলেন। ছিলেন এই বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের বিচারক।
ফটো জার্নালিস্ট মোহাম্মদ আসাদ এর ডায়েরি থেকে
১৯৯৯ সালে কোন একদিন । গিয়ে হাজির হলাম শিল্পী শফিকুল আমীনের তাজমহল রোডের বাসায়। আমাকে দেখে অবাক হলেন। বললেন-তুমি আমার খবর পেলা কোথায়? এখনতো বয়স্কদের খবর কেউ রাখেনা। বললাম ১৯৬৫ সালের প্রদর্শনীর একটি ক্যাটালগ থেকে। চারুকলার অনেকে আপনার ঠিকানা জানে। অনেক গল্প হলো।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে বিয়ে করিয়েছেন তিনি, সে গল্প। চারুকলার গল্প, বিদেশে পড়াশোনার গল্প আর ব্যায়ামের গল্প। বললাম আমার কাগজে একটু দাগ দিয়ে দিতে। ঘরের ভিতরে গিয়ে, লন্ডনে পড়াশোনার সময়কার দুটি ছোট স্টাডি কাজ আমার হাতে তুলে দিলেন। বললাম এগুলো আমাকে না দিয়ে একটু দাগ দিলে হত না?
বললেন-রেখে দিও ভালো করে। আমার সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘরের বাহিরে বড় একটা ছবি নিচের দিকে নষ্ট হতে শুরু করেছে। সেই ছবি দেখিয়ে বললেন ‘এটাও নিয়ে নাও’। বললাম না স্যার, এত বড় কাজ রাখার জায়গা আমার নাই।
তারপর ২০০৭ সালে গিয়েছিলাম ‘ঢাকা ত্রৈমাসিক’ এর জন্য একটা স্বাক্ষাৎকার আনতে। প্রথম যে ছবিটা তুলেছিলাম, শরীর প্রদর্শন করছেন এমন একটা ছবি। তাই ২০০৭ সালে তোলা একটা ছবি দিলাম।
শিল্পী শফিকুল আমীন ২০১১ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সম্মাননা
১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তাকে ‘বয়স্ক সম্মাননা’ সনদ প্রদান করা হয়।

facebook থেকে নেয়া :
মন্তব্য করেন |
Golam Haider জাত শিল্পী হতে হলে গুরু শিষ্য পরম্পরা প্রয়োজন হয় মূলত দর্শন শিখার জন্য শিল্প নগন্য। আপনি ক্রমাগত সে কাজটি করে যাচ্ছেন। সফলতা নিশ্চিত।













