মৃৎশিল্পী, ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী

জীবনের শেষ পর্যন্ত শিল্পে যুক্ত থাকতে চাই। গড়ে তুলেতে চাই বয়স্ক শিল্পী নিবাস যেখানে জীবনের শেষ প্রান্তের তৃষ্ণার্ত মানুষেরা তাদের শিল্প স্বত্ত্বা প্রকাশ করবে আনন্দচিত্তে।

মৃৎশিল্পী ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী

আমার মনে অনেক শঙ্কা তৈরী হলো; আমি তখন মাছ, বড়শি, নৌকা প্রাকৃতিক ও দেশীয় নানা উপাদান নিয়ে মাটিতেই নিজ ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি।

ছোটবেলা থেকে দেশীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য বুকে ধারণ ও লালন করা মৃৎশিল্পী ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী -র জন্ম ১৯৮৩ সালের ২১ই মে শরীয়তপুরে। বাবা মুক্তিযোদ্ধা-রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এস এম আব্দুল জব্বারের ঘরে।

মৃৎশিল্পী ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী

লোকজ আবহে বেড়ে ওঠা জুঁথীর স্বপ্নই ছিল দেশীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা। যে কারনে, শৈশব থেকেই জড়িয়ে পড়েছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানামুখী কর্মকান্ডের সাথে।

কর্মজীবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পর পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা বেঁছে নিলেও, বরাবরই যুক্ত থেকেছেন শিল্পকর্মের সাথে। বর্তমানে স্বনামধন্য বৈশাখী টেলিভিশনে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন মৃৎশিল্পী, ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত।

প্রদর্শনী

শিক্ষাজীবন থেকেই শিল্পকর্মের যৌথ প্রদশর্নী ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন জুঁথী। তাঁর প্রদর্শনীর সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। ইতোমধ্যেই এই শিল্পীর শিল্পকর্ম দেশে ও বিদেশের অসংখ্য সংগ্রহকের সংগ্রহে রয়েছে।

শিল্পী ভাবনা

আকাশের যেমন সীমানা হয় না- অসীম আকাশ, তেমনি শিল্পীদের ভাবনাও অসীম। আমার শিল্পচর্চা যখন শাণিত হচ্ছিল তখনকার প্রকৃতি নানা কারনে দারুনভাবে বদলে যাচ্ছিলো। আমি মানুষের অসচেতনতা ও লোভী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খুব চিন্তা করতাম।

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের চিরচেনা জলাভূমি, সবুজ প্রান্তর এই কারনে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে; আমাদেরই সামনে, সাধারণ অসাধারণ সকল মানুষ যেন নীরব এই বিষয়ে।

যেমন একটা দৃষ্টান্ত দেই, দেশের আমিষ চাহিদা মেটাতে ও সাবলম্বি হতে মাছ চাষ খুব জনপ্রিয় হলো যখন, তখনই গুটি কয়েক বিবেক বিবেচনাহীন মানুষ আফ্রিকার হিংস্র মাছ পিরানহা চাষ করা শুরু করলো। বন্যায় সেই মানুষ খেকো মাছ বাঁধন হারা হয়ে দেশের সকল খালে বিলে সহজলভ্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি হয়ে উঠলো। এতো দ্রুত, অথচ কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

আমার মনে অনেক শঙ্কা তৈরী হলো; আমি তখন মাছ, বড়শি, নৌকা প্রাকৃতিক ও দেশীয় নানা উপাদান নিয়ে মাটিতেই নিজ ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি।

শিল্পকে হাতিয়ার করে প্রতিবাদ করলে তা নাকি জোড়ালো হয়।

একটা পোড়া রুক্ষ ফেটে চৌচির হওয়া জমিতে বিশাল আকারের কতগুলি বড়শি জং ধরে আছে কারন প্রকৃতি মাছ শূণ্য; আসলে এ আমার অগ্রীম ভয়ভাবনা।

এমন যেন না হয় তাই এই রূপক কাজ “বড়শি”।

এভাবে যখন চিন্তা করি, প্রকৃতি থেকে সাপ, পাখি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আবার জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি, বেদেদের মতো পেষাজীবি সম্প্রদায় হারিয়ে যাবে। এই ভাবনাও মাঝে মাঝে আমাকে কষ্ট দেয়। সেখান থেকেই আমার শিল্প চর্চায় ভয়কে জয় করার চেষ্টা।

আবার আদিম জিনিসের প্রতি ভালোবাসা থেকেও কাজ করি। নৌকা আমার ভীষণ প্রিয়। আমার ব্যক্তিগত বোধের সঙ্গে নৌকা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সেই নৌকাও যখন হুমকির মুখে; তখনও আমার হৃদয় ভয়ে আক্রান্ত হয়।

কিন্তু নতুন নতুন শিল্প শৈলী আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। তাইতো কখনো নেরিয়াস (মাটি দিয়ে বুনন শৈলী); কখনো রাকু, আবার কখনো কয়েল দিয়ে কাজের মধ্যে ভিন্নতা আনতে চেষ্টা করি। সবসময় নিজেস্ব উদ্বেগই নয় আনন্দকেও শিল্পে ধারণ করার চেষ্টা করি।

জীবনের শেষ পর্যন্ত শিল্পে যুক্ত থাকতে চাই। গড়ে তুলেতে চাই বয়স্ক শিল্পী নিবাস। যেখানে জীবনের শেষ প্রান্তের তৃষ্ণার্ত মানুষেরা তাদের শিল্প স্বত্ত্বা প্রকাশ করবে আনন্দচিত্তে।

ইতিমধ্যে জমি সংগ্রহ শেষ। অচিরেই শুরু করবো এই স্বপ্নের শিল্পাশ্রম।

মৃৎশিল্পী, ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী

মৃৎশিল্পী | ফারহানা ইয়াছমিন জুঁথী

১৯৮৩ সালের ২১ই মে, শরীয়তপুর


আরও পড়ুন

National SME Product Fair জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা x bfa x fxyz

জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা

দেশের উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রতি বছর এসএমই পণ্য…
Read More
pabna jora bangla mandir পাবনার জোড়বাংলা মন্দির x bfa x fxyz

পাবনার জোড়বাংলা মন্দির—এক ঐতিহাসিক স্থাপনা

বাংলার জোড়বাংলা মন্দির বলতেই মনে আসে— দিনাজপুরের কান্তনগর/কান্তজীউ মন্দির, পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর জোড়বাংলা মন্দির। পাবনার এই মন্দির সেই ঐতিহ্যের…
Read More

BFA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial