শিক্ষার্থীরা তাকে ডাকতেন ফকরুল মামা। আমিও তাই বলে ডাকতাম। তিনি আমাকে একেবারে আপন ভাগিনার মতই দেখতেন। কাছে এসে পিঠে হাত দিয়ে এটাসেটা জিজ্ঞেস করতেন, কুশলাদি বিনিময় করতেন নিয়মিত। আমার কেন এটা করতেন সবার সঙ্গেই। তিনি ছিলেন আদর্শ মামা। অনেকেই ধারণা সবার এই মামা ডাকার কারনেই তাঁর থাকতে হয়েছে চিরকুমার।
শিল্পী মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম ‘র জন্ম ১৯৬৪ সালের ১ মার্চ, ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক ১৯৯০ সালে। চায়না সরকারের স্কলারশীপ নিয়ে বেইজিংয়ে পড়াশুনা করেছেন ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল।
মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম
ক্যানভাস
তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিমূর্ত ধারা। চেনা বিমূর্ত ধারাকে তিনি পুননির্মাণ করেছেন। সৃষ্টি করেছেন বিমূর্ত শিল্প নির্মাণের নিজম্ব ভাষা। করেছেন একাধিক একক প্রদর্শনী। দলীয় প্রদর্শনীতে ছিলেন নিয়মিত।
ফটো জার্নালিস্ট মোহাম্মদ আসাদ এর ডায়েরি থেকে
চারুকলার সব বয়সী শিক্ষার্থীরা তাকে ডাকতেন ফকরুল মামা। আমিও তাই বলে ডাকতাম। তিনি আমাকে একেবারে আপন ভাগিনার মতই দেখতেন। কাছে এসে পিঠে হাত দিয়ে এটাসেটা জিজ্ঞেস করতেন, কুশলাদি বিনিময় করতেন নিয়মিত। আমার কেন, এটা করতেন সবার সঙ্গেই। তিনি ছিলেন আদর্শ মামা। অনেকেই ধারণা, সবার এই মামা ডাকার কারনেই তাঁর থাকতে হয়েছে চিরকুমার।
১৯৯৯ সালের ঘটনা। একদিন চারুকলার ছোট পন্ডের পাশে বসে কার যেন ড্রইং সংগ্রহ করলাম। সেটা দেখে ফকরুল মামা ক্ষেপে গেলেন। তাঁর কাজ নাই আমার কাছে, আমি কেমন কালেক্টর। আমাকে ধরে নিয়ে গেলেন ছাপচিত্র বিভাগে। সেখানে শিক্ষার্থীদের ফেলে দেয়া এক টুকরো সাদা কাগজে একটি টুলস নিয়ে আকিবুকি করলেন। তার উপর হাতে ঘষে লাগিয়ে দিলেন প্রেসকালি। স্বাক্ষর করে সেটা তুলে দিলেন আমার হাতে। তারপর মাঝে মধ্যে দেখা হত। খোঁজ নিতেন আগের মতই। ২০১২ সালে ৯ এপ্রিল মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শিল্পী মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম | সংগ্রাহক : মোহাম্মদ আসাদ