শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস

শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস

প্রকৃতির নানা রূপ বিমূর্ত রূপে তাঁর ক্যানভাসে এসেছে। তিনি নিজস্ব শিল্পশৈলির মাধ্যমে একজন ইউনুসকে আলাদা ভাবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিমূর্ত কাজে কখনও ফুল, লতা-পাতা, ক্যাকটাসের উপস্থিতি দেখা যায়।

শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস -এর জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৬ জানুয়ারি, ঠাকুরগাঁও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ১৯৭৯ সালে। জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে তামা আর্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ১৯৮৭ সালে।

 

শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস

কর্মজীবন

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে শিক্ষক হিসেবে যোগদেন ১৯৯৬ সালে। চলতি বছরের জুলাই মাসে অধ্যাপক হিসেবে অবসর নিয়েছেন। এক মাস হলো স্বাধীন শিল্পী। মোহাম্মদ ইউনুস নিয়মিতই ছবি এঁকেছেন এবং আঁকছেন।

 

ক্যানভাস

তিনি ৪১ টি একক প্রদর্শনী করেছেন। বিগত শতাব্দির শেষ দশকে তাঁর প্রদর্শনী লেগেই থাকত। প্রকৃতির নানা রূপ বিমূর্ত রূপে তাঁর ক্যানভাসে এসেছে। তিনি নিজস্ব শিল্পশৈলির মাধ্যমে একজন ইউনুসকে আলাদা ভাবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিমূর্ত কাজে কখনও ফুল, লতা-পাতা, ক্যাকটাসের উপস্থিতি দেখা যায়।

 

একটি অনিয়মিত সাহিত্য পত্রিকার স্বাক্ষাৎকারের জন্য ১৯৯৮ সালে মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করি তাঁর উত্তরাস্থ বাড়িতে। বহুতল ভবনের উপরের তলায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সেখানেও ছিল অনেক ছবি। পরে নিচে এসে দেখালেন মূল স্টিডিও। সেখানে ছবি আর ক্যানভাসে ঠাশাঠাশি। বিশাল থেকে শুরু করে দেড়-দুই ফুট ক্যানভাসও ছিল অনেক। একটু কিছু এঁকে দিতে বললে, ক্যানভাসে তেল রঙে আঁকা ছোট্ট একটি ছবি দিতে চাইলেন। আমার পছন্দ ছিল তাঁর শিংয়ের কাজ। রঙ টেক্সার মিলে শিং নিয়ে তাঁর করা মজার কাজ। বললেন সেই সিরিজের কাজতো এখন নাই। বললাম তাহলে আমাকে শিংই এঁকে দেন। দিয়েছিলেনও তাই। দুঃখের বিষয় সেই সময়ের পত্রিকাগুলো আমার সংগ্রহে নাই। 

 

শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস
শিং | শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস  | সংগ্রাহক : মোহাম্মদ আসাদ
শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস

শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস

আলোকচিত্রটি ১৯৯৮ সালে তোলা

আলোকচিত্রী : মোহাম্মদ আসাদ

কালো, ধূসর, ছাই যেন ইউনুসের নিজের রং। এসব রং পাওয়া যায় আমাদের মাটিতে – শুকনো কিংবা কাদামাটিতে, খড়ির চুলা থেকে নদীতীরবর্তী বালুকাবেলায়। এই রং নিয়ে শিল্পী খেলেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। আমরা দেখতে পাই জন্মস্থান দূর-মফস্বল শহর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও প্রকৃতির রং যেন নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে শিল্পীর চিত্রপটে। ২০১৫ সালে ‘আঁকা ডার্ক ইমেজ’ নামে চিত্রে ধূসর বর্ণের মায়াময় আবহের দক্ষ ব্যবহার করেছেন শিল্পী।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলের মাটির ঘর, কৃষকের খননযন্ত্রের ইমেজ ও টেক্সচার যেন তুলে এনেছেন তাঁর চিত্রপটে।

তথ্যসূত্র :  কালিওকলম 

facebook থেকে নেয়া :

মন্তব্য করেন |  Nandini Luiza

প্রত্যেক শিল্পের নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য আছে। তেমনি তিনি শিং এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেছেন। এটা ইউনিক

মন্তব্য করেন | Taeb Millat Hossain

শিংয়ে নিজের কাজ আলাদা করে নিলেন। ভাবনা দারুণ।শিল্পীর জন্য শ্রদ্ধা।

মন্তব্য করেন | Mohammad Asad

না, শিং নিয়ে তাঁর প্রথম দিকের কাজ। এখন অনেক বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, অনেক দুরে চলে এসেছেন….

আরও পড়ুন

National SME Product Fair জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা x bfa x fxyz

জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা

দেশের উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রতি বছর এসএমই পণ্য…
Read More
pabna jora bangla mandir পাবনার জোড়বাংলা মন্দির x bfa x fxyz

পাবনার জোড়বাংলা মন্দির—এক ঐতিহাসিক স্থাপনা

বাংলার জোড়বাংলা মন্দির বলতেই মনে আসে— দিনাজপুরের কান্তনগর/কান্তজীউ মন্দির, পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর জোড়বাংলা মন্দির। পাবনার এই মন্দির সেই ঐতিহ্যের…
Read More
jute industry-jute handicraft of Bangladesh-পাটশিল্পের পুনর্জাগরণ-পাট কারুশিল্প- x bfa x fxyz

পাটশিল্পের পুনর্জাগরণ: গ্রামীণ কারুশিল্প থেকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং

পাটশিল্প এখন শুধু অতীতের ঐতিহ্য নয়; বরং ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নতুন ক্যানভাস—যেখানে ঐতিহ্য, উদ্ভাবন আর টেকসই…
Read More

BFA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial